Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ৮ জুন ২০২৬
Bangladesh Situation

জুলাই আন্দোলনের পরেই ‘পথভ্রষ্ট’! কেন জামাতের দিকেই ঝুঁকছে এনসিপি?

এই প্রশ্নই জোরালো হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫, ১৭:২৭

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫, ১৭:২৭

options
link
জুলাই আন্দোলনের পরেই ‘পথভ্রষ্ট’! কেন জামাতের দিকেই ঝুঁকছে এনসিপি? zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ১৭ বছরে স্বেচ্ছানির্বাসনের পর দেশে ফিরেছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তথা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঘটনাচক্রে, তার পরেই আসন সমঝোতায় বসল জুলাই আন্দোলনের ছাত্র-যুব নেতাদের একাংশের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি’ বা জামাত। কিন্তু জামাতের সঙ্গে সমঝোতায় যাওয়া নিয়ে এনসিপির অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছে। নেতাদের একাংশ ভুল পথে যাচ্ছেন বলে দাবি করে আগেই দল থেকে পদত্যাগ করেছেন এক কেন্দ্রীয় নেতা। আশঙ্কা, আগামী দিনে আরও কয়েকজন জামাতের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে আপত্তি তুলে পদত্যাগ করতে পারেন। কিন্তু তারপরেও কেন জামাতের দিকে ঝুঁকছে এনসিপি? এই প্রশ্নই এখন জোরালো হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে।

জুলাই আন্দোলনের সময় বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। প্রাথমিক ভাবে তারা ঠিকই করেছিল, জাতীয় নির্বাচনে সবক’টি অর্থাৎ, ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেবে। নির্বাচনে যে তারা জিততে চলেছে, এই আত্মবিশ্বাসও প্রবল ছিল। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের অনুমান, যত দিন গিয়েছে, ততই দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা টের পেয়েছে এনসিপি। তারা বুঝতে পেরেছে, একার ক্ষমতায় তাদের পক্ষের দেশের ক্ষমতা দখল সম্ভব নয়। তাই অন্য দলের সঙ্গে জোটে যাওয়ার কথাই তারা ভাবতে শুরু করে। বিএনপি-র সঙ্গেও তারা আসন সমঝোতা করতে চেয়েছিল। কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি। সেই কারণেই ছাত্র-যুবদের এই দল জামাতের দিকে ঝুঁকছে বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

বাংলাদেশে এনসিপির সাম্প্রতিক কার্যকলাপ নিয়ে ইতিমধ্যেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে বিভিন্ন মহলে। এনসিপির বিরুদ্ধে মূলত অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের পর ‘পথভ্রষ্ট’ হয়েছে তারা। দলটি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার সঙ্গে তাদের সাম্প্রতিক কার্যকলাপের কোনও মিল নেই। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত, এই মুহূর্তে এনসিপির মূল লক্ষ্য, ক্ষমতার রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করা। বিএনপি-র সঙ্গে যেহেতু সমঝোতা হয়নি, তাই জামাতই এই মুহূর্তে একমাত্র বিকল্প।

যদিও এনসিপি নেতারা প্রকাশ্যে বলছেন, সমঝোতার ব্যাপারে এখনও কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। শুধু জামাত নয়, বেশ কয়েকটি দলের সঙ্গেই তারা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে রাজনৈতিক সংস্কারের প্রশ্নে জামাতের সঙ্গে তাদের অবস্থানগত মিল রয়েছে। সেই কারণেই জামাতের দিকে ঝুঁকছে এনসিপি। যদিও এই সিদ্ধান্তে দলেরই একাংশের মত নেই। এই সিদ্ধান্ত দলের কতটা ভালো হবে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে অনেকের।

এনসিপি নেতারা জামাতের সঙ্গে রাজনৈতিক অবস্থানগত মিল থাকার কথা বললেও, অতীতে এই দুই দলের মধ্যে মতের অমিল দেখা গিয়েছে। গত বছরের ৫ অগস্ট বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকে বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে জামাত ও এনসিপি-র অবস্থানে সামঞ্জস্য ছিল। ফলে তাদের রাজনৈতিক জোট হিসেবেই মনে করছিল বিভিন্ন মহল। অনেকেই এনসিপিকে জামাতের ‘বি টিম’ আখ্যাও দিয়েছিলেন। কিন্তু তাল কাটে জুলাই সনদে সই করা না করা নিয়ে। সূত্রের খবর, এনসিপি নেতৃত্ব ধরে নিয়েছিলেন, আইনি ভিত্তির নিশ্চয়তা না পেলে জামাত জুলাই সনদে সই করবে না। সই না করার ব্যাপারে এনসিপি অনড় থাকলেও জামাত সিদ্ধান্ত বদল করে সনদে স্বাক্ষর করে। এর পরে এনসিপি নেতাদের একাংশ ধারাবাহিক ভাবে জামাতের সমালোচনা করেছেন।

তার পরেও কেন জামাতকেই বিকল্প ভাবছে এনসিপি? বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের মত, তারেকের প্রত্যাবর্তনে উজ্জ্বীবিত বিএনপি-কে ঠেকাতে এই মুহূর্তে জামাতের সঙ্গে দ্রুত সমঝোতা ছাড়া আর কোনও পথ নেই এনসিপির। আবার একই কথা ভাবছে জামাতও। তা ছাড়া অন্য দলগুলির সঙ্গে জোটে গেলে যত আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তার চেয়ে বেশি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে জামাতের সঙ্গে জোট করলে। তারা সেই চেষ্টাই করছে। এতে পার্লামেন্টে এনসিপির প্রতিনিধি যাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে।

যদিও চলতি বছরের ১০ ডিসেম্বর ১২৫ আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দাবি করেছিলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তাঁরা ভোটে অংশ নিচ্ছেন না। নাহিদ বলেছিলেন, “আসনের কথা ভাবছি না। আসন নিশ্চিত করতে হলে কারও না কারও সঙ্গে জোটে যেতাম।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত, এনসিপির অন্দরের এই দ্বিচারিতাই বিপদ ডেকে আনবে। এমনিতেই জুলাই আন্দোলনের সময় নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বলতে কী বোঝানো হয়েছিল, তা স্পষ্ট করতে পারেনি এনসিপি। তা নিয়ে জনমানসে ধন্দও রয়েছে। এ সবের মধ্যেই ক্ষমতার রাজনীতির কাছে তাদের ‘আত্মসমর্পণ’ একেবারেই ভালো চোখে দেখছেন না অনেকে।

 

 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.