Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
Bangladesh

ফের কক্সবাজারে বিপর্যয়, রোহিঙ্গা শিবিরে মাদ্রাসায় ভেঙে পড়ল পাহাড়! ধসে চাপা ৪০ শিশু, আট দেহ উদ্ধার

রাষ্ট্রসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ভূমিধসে অন্তত ২৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

সুকুমার সরকার
সুকুমার সরকার

শেষ আপডেট: জুলাই ৮, ২০২৬, ২২:৩৪

link
সুকুমার সরকার
সুকুমার সরকার

শেষ আপডেট: জুলাই ৮, ২০২৬, ২২:৩৪

options
link
ফের কক্সবাজারে বিপর্যয়, রোহিঙ্গা শিবিরে মাদ্রাসায় ভেঙে পড়ল পাহাড়! ধসে চাপা ৪০ শিশু, আট দেহ উদ্ধার zoom
স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকেরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।
Advertisement

ভারী বর্ষণে রবিবার কক্সবাজার পাহাড়ে ধস নামে। এর জেরে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের ৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। বুধবার নতুন করে বিপর্যস্ত হয় উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি মাদ্রাসা। এর জেরে মাটি চাপা পড়ে ৮ শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু শিশু আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গিয়েছে, প্রায় ৪০টি শিশু ধসের নিচে আটকা পড়ে। মনে করা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট, স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকেরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

৮ জুলাই, বুধবার দুপুর দু’টো নাগাদ উখিয়ার পাঁচ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ-৩ ব্লকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে হঠাৎ পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে পাশের মাদ্রাসা ও হিফজ কেন্দ্রের উপরে। সেই মাদ্রাসাটিতে পড়াশোনা চলছিল। চল্লিশের বেশি শিক্ষার্থী ছিল। তারাই চাপা পড়ে মাটি-পাথরের নিচে। এর জেরে আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজন শিশু। ধসের জেরে আটকে পড়া বাকি শিশুদের বাঁচাতে দুর্যোগের মধ্যে অভিযান চলছে।

Advertisement

উল্লেখ্য, রবিবার কক্সবাজারের ছাত্তারের ঘোনা এলাকায় প্রথম পাহাড়ে ধস নামায় নিহত হন ৪৫ বছরের আলি আকবর। ভোর চারটার দিকে পাহাড়ের একটি অংশ তাঁর ঘরের উপর ধসে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, পাহাড়ধসের পর আলি আকবর-সহ তাঁর পরিবারের তিন সদস্য মাটির নিচে চাপা পড়েন। আশপাশের লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলি আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর দু’জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেদিন ভারী বর্ষণে পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে মোট মৃত্যু হয় ৯ জনের।

রাষ্ট্রসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ভূমিধসে অন্তত ২৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। জখম ৮০ জনের বেশি । শুধু ২০২৪ সালেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১২ জন।

রোহিঙ্গা কো-অর্ডিনেশন প্ল্যাটফর্মের (আরসিপি) তথ্য মতে, ৪ জুলাই থেকে ৭ জুলাই সকাল পর্যন্ত উখিয়া-টেকনাফের ১৫ হাজার ৮১৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত ও তিন হাজার ১৮২ জন বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই সময়ে ক্যাম্পগুলোতে ১৬০টি দুর্যোগজনিত ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৫২টি ভূমিধস, ১৪টি আকস্মিক বন্যা ও ৮৩টি ঝড়ের ঘটনা রয়েছে। এছাড়া এক হাজার ৬১৪টি আশ্রয় আংশিক এবং ১০টি আশ্রয় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.