কুণাল ঘোষ ও কিংশুক প্রামাণিক (লন্ডন থেকে মুখ্যমন্ত্রীর সফরসঙ্গী): লন্ডন থেকে কলকাতা পর্যন্ত সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু হোক। সোমবার লন্ডনের হাই কমিশনের পর মঙ্গলবার বণিকসভাতেও একই আর্জি জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)।
এদিন তাঁকে বলতে শোনা গেল, ”কলকাতা-বিমান সরাসরি বিমান চালু করুন। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজকে বিনীত অনুরোধ। যাঁরা প্রথম আসবেন, তাঁদের জ্বালানিতে ছাড় দেব। অন্ডালে গ্রিন এয়ারপোর্ট চালু হয়েছে। একটাও সিট খালি থাকবে না। আমরা প্রতিদিন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি।” সেই সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগে এই বিমান পরিষেবা ছিল। আমরা ক্ষমতায় আসার আগে বন্ধ করে দেওয়া হয়। কেন জানি না। তবে এখন বিমানের সমস্ত আসন ভর্তি থাকে। এই পরিষেবা চালু করলে আপনাদের ব্যবসা বাড়বে। আমরা জ্বালানিতে ছাড় দিয়ে দেব। যারা প্রথম এগিয়ে আসবে তাদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে।”
প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রীর কলকাতা থেকে লন্ডন (Kolkata to London) উড়ে যাওয়ার আগেই ঘটে দুর্ঘটনা। অগ্নিকাণ্ডের জেরে হিথরো বিমানবন্দরের বিমান পরিষেবা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। যে কারণে বিলেত সফরের সূচিতে বদল ঘটাতে হয়। সেই ঘটনার কথা তুলে ধরেই সোমবারই বাংলা থেকে সরাসরি লন্ডনের বিমান পরিষেবা শুরুর আর্জি জানান তিনি। বলেন, “বাংলা বেশি দূরে নয়। কিন্তু লন্ডন থেকে একটা সরাসরি বিমান হলে খুব ভালো হয়। আমি ইউকের অ্যাম্বাস্যাডরকে বলব যদি বিষয়টা দেখেন। আগে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ছিল। এখন সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু হলে সুবিধা হবে।” ৮ ঘণ্টার সফর যে ১৮ ঘণ্টা সময় নিয়েছে, সে কথাও জানান তিনি। যে কারণে এই সফরে সমস্ত আমন্ত্রণে সাড়া দেওয়ার সময় হবে না বলেও উল্লেখ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “হিথরোর ঘটনাটার জন্য সব হচপচ হয়ে গেল। আমাদের ৩০ জন মিলে আসার কথা। ৮ ঘণ্টায় যেখানে চলে আসা যেত, ১৮ ঘণ্টা লাগল। তার আগের ২৪ ঘণ্টা আবার চিন্তায় কাটল যে টিকিট বাতিল হচ্ছে, নাকি হচ্ছে না, এই সবের জন্য।” এদিন ফের সেই আর্জিই জানালেন তিনি।
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (CM Mamata Banerjee) নেতৃত্বে বাংলার শিল্পের পুনর্জন্ম হয়েছে। তাঁর শিল্পনীতির প্রতিটি ধাপ লগ্নিবান্ধব। মঙ্গলবার লন্ডনে শিল্পবৈঠকে শিল্প কর্ণধারদের প্রবল প্রশংসার মধ্যে স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ব্রিটিশ লগ্নি বাড়ানোর ডাক দিলেন, তখন তাতে সাড়া পড়ল বিপুল। মুখ্যমন্ত্রীর সবিস্তার ব্যাখ্যায় আহ্বান, ”বাংলায় বিনিয়োগ করুন। ক্ষতি হবে না। লাভ হবে আপনাদের।”
এদিনে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রমোহন ধানুকা (এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান, ধানসিঁড়ি ভেঞ্চারস), হর্ষবর্ধন আগরওয়াল (প্রেসিডেন্ট, ফিকি, ভাইস চেয়ারম্যান, ইমামি গ্রুপস), হর্ষবর্ধন নেওটিয়া (চেয়ারম্যান, অম্বুজা নেওটিয়া গ্রুপ), কে কে বাঙ্গুর (গ্রাফাইট ইন্ডিয়া), মেহুল মোহানকা (এমডি, টেগা ইন্ডাস্ট্রিজ), প্রশান্ত বাঙ্গুর (চেয়ারম্যান, ফিকি, WBSC, ভাইস চেয়ারম্যান, শ্রী সিমেন্টস), প্রশান্ত মোদি (ভাইস চেয়ারম্যান ও এমডি, GEECL), রুদ্র চট্টোপাধ্যায় (এমডি, লক্ষ্ণী গ্রুপ, চেয়ারম্যান, OBEETEE), সঞ্জয় বুধিয়া (ম্যানেজিং ডিরেক্টর, প্যাটন ইন্টারন্যাশনাল), সত্যম রায়চৌধুরী (চ্যান্সেলর, সিস্টার নিবেদিতা বিশ্ববিদ্যালয়), শাশ্বত গোয়েঙ্কা (ভাইস চেয়ারম্যান, আরপি-সঞ্জীব গোয়েঙ্কা গ্রুপ), তরুণ ঝুনঝুনওয়ালা (প্রেসিডেন্ট, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ), উজ্জ্বল সিনহা (এমডি, জেনেসিস অ্যাডভারটাইজিং), উমেশ চৌধুরী (ভাইস চেয়ারম্যান অ্যান্ড এমডি, টিটাগড় রেল সিস্টেমস), জ্যোতি ভিজ (ডিরেক্টর জেনারেল, ফিকি) এবং মৌসুমী ঘোষ (ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল, ফিকি)।
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
Copyright © 2025 Sangbad Pratidin Digital Pvt. Ltd. All rights reserved.