Advertisement
Advertisement
বঙ্গে পালাবদল
West Bengal Assembly Election Result 2026

দুঃসময়ের ‘হিরো’র হাত ধরে বামেদের কাটল শূন্যের গেরো, ফের প্রত্যাখ্যাত ‘গিনিপিগ’ তরুণরা

চব্বিশের পর ছাব্বিশেও শীর্ষনেতৃত্বকে হতাশ করল তরুণতুর্কিরা। এবারও পরাজিত দীপ্সিতা, মীনাক্ষী, কলতানরা।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ৪, ২০২৬, ১৮:৩৯

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ৪, ২০২৬, ১৮:৩৯

options
link
দুঃসময়ের ‘হিরো’র হাত ধরে বামেদের কাটল শূন্যের গেরো, ফের প্রত্যাখ্যাত ‘গিনিপিগ’ তরুণরা zoom
দুঃসময়ের 'হিরো'র হাত ধরে বামেদের কাটল শূন্যের গেরো, ফের প্রত্যাখ্যাত 'গিনিপিগ' তরুণরা

অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ও স্বেচ্ছাচারিতাই কাল হয়েছিল বামেদের। ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম সাম্রাজ্য ভেঙে পড়েছিল তাসের ঘরের মতো। রাজ্যের রাশ হাতে নিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর যতদিন এগিয়েছে কমেছে বামেদের জনসমর্থন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে খাতাই খুলতে পারেনি লালপার্টি। জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল অধিকাংশ প্রার্থীর। বিধানসভায় শূন্য হয়ে গিয়েছিল বামেরা। বারবার প্রশ্ন উঠেছে, শীর্ষনেতাদের ভূমিকা নিয়ে। এদিকে স্ট্র্যাটেজি বদলও করেছে বামেরা। ভাতার বিরোধিতা করা লালপার্টি, ভাতার স্বপক্ষে সওয়াল পর্যন্তও করেছে। তাতে বিশেষ লাভ না হলেও ছাব্বিশে অবশেষে কাটল শূন্যের গেরো। ডোমকল আসনে জয়ী বামপ্রার্থী। তবে চব্বিশের পর ছাব্বিশেও শীর্ষনেতৃত্বকে হতাশ করলেন তরুণ তুর্কিরা। এবারও পরাজিত দীপ্সিতা, মীনাক্ষী, কলতানরা।

চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনেই এক ঝাঁক তরুণ মুখকে এগিয়ে দিয়েছিল শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে অত অল্প সময়ে ভাগ্যের চাকা ঘোরানো সম্ভব হয়নি। ছাব্বিশের একই রণকৌশলে নির্বাচনের ময়দানে নামে বামেরা। মেরুকরণের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে প্রার্থীদের মুখে বারবার শোনা গিয়েছিল শিল্প-শিক্ষা-স্বাস্থ্যের কথা। আশ্বাস দিয়েছিল কর্মসংস্থানের। কিন্তু এবারও তাদের প্রতি আমজনতার হারানো ভরসা ফিরে পেল না বামেরা।

কেন শূন্যে পৌঁছল বামেরা! এ নিয়ে তর্কে দলের আত্মতুষ্টি, স্বেচ্ছাচারিতা, শিল্পায়নে ব্যর্থতার পাশাপাশি বারবার উঠে এসেছে আরও একটি তত্ত্ব। তা হল, লালপার্টি মানেই পক্ককেশদের ভিড়। তরুণ প্রজন্মকে জায়গা ছাড়তে পারে না এরা। আর সেই কারণেই নবপ্রজন্মের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছতেই পারছে না। জিততে পারছে না মন। এই অভিযোগকে খণ্ডন করতে চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনেই এক ঝাঁক তরুণ মুখকে এগিয়ে দিয়েছিল শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে অত অল্প সময়ে ভাগ্যের চাকা ঘোরানো সম্ভব হয়নি। ছাব্বিশের একই রণকৌশলে নির্বাচনের ময়দানে নামে বামেরা। মেরুকরণের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে প্রার্থীদের মুখে বারবার শোনা গিয়েছিল শিল্প-শিক্ষা-স্বাস্থ্যের কথা। আশ্বাস দিয়েছিল কর্মসংস্থানের। কিন্তু এবারও তাদের প্রতি আমজনতার হারানো ভরসা ফিরে পেল না বামেরা।

Advertisement

দলের এই দুঃসময়ে ‘হিরো’ ডোমকলের প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান। একটা সময়ে বামদূর্গ বলে পরিচিত ছিল ডোমকল। পরে ক্ষমতার হস্তান্তরও হয়েছে। এবার দীর্ঘদিনের পুরনো যোদ্ধা মুস্তাফিজুরের হাত ধরে লাল ফিরল ডোমকলে। বামেদের হয়ে বিধানসভায় যাচ্ছেন একমাত্র তিনিই।

আশার আলো একটাই, ছাব্বিশে অবশেষে কেটেছে শূন্যের গেরো। যদিও তরুণ তুর্কিরা কেউ দ্বিতীয় স্থানও পাননি। প্রচারে পানিহাটি আসনের প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত ঝড় তুলে নজর কাড়লেও ভোটবাক্স বলছে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন তিনি। উত্তরপাড়ার প্রার্থী মীনাক্ষী কিংবা দমদম উত্তরের দীপ্সিতা, কেউই আস্থা অর্জন করতে পারলেন না বাংলার মানুষের। আশঙ্কা সত্যি করে পরাজিত বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যও। দলের এই দুঃসময়ে ‘হিরো’ ডোমকলের প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান। একটা সময়ে বামদূর্গ বলে পরিচিত ছিল ডোমকল। পরে ক্ষমতার হস্তান্তরও হয়েছে। এবার দীর্ঘদিনের পুরনো যোদ্ধা মুস্তাফিজুরের হাত ধরে লাল ফিরল ডোমকলে। বামেদের হয়ে বিধানসভায় যাচ্ছেন একমাত্র তিনিই। বামজোট যদি হিসেব করতে হয়, অর্থাৎ বামফ্রন্ট ও আইএসএফ, সেক্ষেত্রে মোট জেতা আসনের সংখ্যা ২। কারণ ভাঙড়ের মানুষ আবারও আস্থা রেখেছেন আইএসএফ প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকি।  

কিন্তু কেন এবারও খাতা খুলতে পারল না তরুণ মুখেরা? ভোটের ময়দানে বারবার নবপ্রজন্মকে কার্যত গিনিপিগের মতো ব্যবহার করেছে শীর্ষ নেতৃত্ব। বারবার বদল করা হয়েছে আসন। বালির বাসিন্দা দীপ্সিতা ধর একুশে বালি থেকে লড়লেও চব্বিশে তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় শ্রীরামপুরে। ছাব্বিশের ফের আসন বদলে প্রার্থী করা হয়েছে দমদম উত্তরে। একইভাবে একুশে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় ও শুভেন্দুর বিরুদ্ধে নন্দীগ্রামে কঠিন লড়াইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে। সেখানে পায়ের নিচে জমি না পাওয়ায় এবার তৃণমূলের আরও এক শক্ত গড় উত্তরপাড়ায় টিকিট দেওয়া হয়। আগে কামারহাটি থেকে লড়াই করেছিলেন সায়নদ্বীপ মিত্র। এবার তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে বরানগরে। ফলে কোনও স্থানেই থিতু হয়ে জমি শক্ত করতে পারেননি তাঁরা। সেখানে এই এক এলাকার বাসিন্দাকে অন্যত্র নিয়ে আসা দলের ভুল সিদ্ধান্ত। তবে এখানে একটা ভূমিকা রয়েছে দলবদলু প্রতীক-উর রহমানেরও। নির্বাচনী আবহে তিনি বামশিবির ছাড়ার সময়ে যেভাবে শীর্ষনেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন, তাতে আদি-নব্যের মধ্যে ফাটল একপ্রকার স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যার প্রভাবও ভোটবাক্সে পড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। আর শেষে যা না বললেই নয়, ভারচুয়াল দুনিয়ায় বিপ্লব, বিদ্রোহ করা দলের প্রতিবাদ ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হয় না। SIR আবহেও তার বিশেষ বদল ঘটল না। বাকি সমীকরণ পালটে দিল পরিবর্তনের হাওয়া।    

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.