Advertisement
Advertisement
West Bengal Assembly Election

দেউচায় কর্মসংস্থান, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ক্লিন সুইপের টার্গেট কেষ্ট-কাজলের, ‘উর্বর’ বীরভূমে ফুটবে পদ্ম?

পদ্মফুল কি এবারও ফোটার সম্ভাবনা? নাকি এবার সবক'টি আসনেই জয় পাবে তৃণমূল? একাধিক প্রশ্ন ঘুরছে। রাজনীতির ময়দানে বীরভূম বরাবরই রঙিন। এই জেলাতেই তৈরি হচ্ছে আগামী দিনের অন্যতম কয়লাখনি দেউচা-পাচামি।

Advertisement
দেব গোস্বামী
দেব গোস্বামী

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ১৫:৪০

link
দেব গোস্বামী
দেব গোস্বামী

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ১৫:৪০

options
link
দেউচায় কর্মসংস্থান, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ক্লিন সুইপের টার্গেট কেষ্ট-কাজলের, ‘উর্বর’ বীরভূমে ফুটবে পদ্ম? zoom
বীরভূমে কার পাল্লা ভারী?

বোলপুর স্টেশন থেকে শ্যামবাটি মোড়। রাস্তার দু’ধারে সার দিয়ে রয়েছে শাসক দল তৃণমূলের দলীয় পতাকা। জায়গায় জায়গায় তৃণমূল প্রার্থীর প্রচারে পোস্টার, ব্যানার। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে যাত্রীদের অপেক্ষায় এক টোটোচালক। এবারের ভোটে (West Bengal Assembly Election) হাওয়া কেমন, জিজ্ঞেস করতেই তিনি বলে উঠলেন, “কোথায় যাবেন?” বিশ্বভারতীর সামনে থেকে কঙ্কালীতলা মেরেকেটে টোটোতে মিনিট তিরিশের পথ। প্রান্তিক স্টেশন পেরিয়ে ফাঁকা রাস্তায় টোটো উঠতেই চালক বলে উঠলেন, “হাওয়া এবারও তৃণমূলের পক্ষে। তবে বিজেপিও মাটি কামড়ে আছে।” ওলটপালট কি হবে কিছু? প্রশ্নের জবাবে সাফ জানালেন, “চান্স কম। তবে একটা-দু’টো পিছিয়ে গেলেও যেতে পারে।”

দক্ষিণবঙ্গের লালমাটির জেলা বীরভূম। সাহিত্যের কথায়, ‘রাঙামাটির দ্যাশ।’ বাঙালির সংস্কৃতি, ইতিহাস, সাহিত্যের সঙ্গে জুড়ে আছে এই জেলা। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতন, ছাতিমতলা, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। পাশাপাশি আছে সাহিত্যিক তারাশঙ্কর চট্টোপাধ্যায়ের হাঁসুলিবাঁকের উপকথা। লালমাটির রাজনৈতিক অবস্থান এবার কেমন? কোন দিকে বইবে হাওয়া? সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছেই। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বীরভূম তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। ১১টি বিধানসভার মধ্যে গতবার ভোটে ১০টিতেই জয় পেয়েছিল শাসক দল। তবে গত কয়েক বছরে ময়ূরাক্ষী, অজয়, কোপাই দিয়ে বয়ে গিয়েছে বহু জল। কাজল শেখ বনাম অনুব্রত মণ্ডল গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিবাদ রয়েছে বলে জল্পনা। দিনকয়েক আগেই সভাতেও দুই নেতার বিরোধ আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে প্রবল গুঞ্জন। 

Advertisement

এই জেলায় কান পাতলে একাধিক ঘটনার কথাও শোনা যায়। বছর কয়েক আগেই ঘটা নারকীয় বগটুই কাণ্ড এখনও টাটকা। কয়লা ও গরুপাচারে জড়িয়েছিল এই জেলার নাম। এছাড়াও অজয় ও ময়ূরাক্ষী থেকে অবৈধ বালি তোলার কারবার দিনেদুপুরে চলার অভিযোগও দীর্ঘদিনের।

West Bengal Assembly Election: birbhum election scenario
ভোটের প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী কাজল শেখ। নিজস্ব চিত্র

পদ্মফুল কি এবারও ফোটার সম্ভাবনা নাকি এবার সবক’টি আসনেই জয় পাবে তৃণমূল? একাধিক প্রশ্ন ঘুরছে। রাজনীতির ময়দানে বীরভূম বরাবরই রঙিন। এই জেলাতেই তৈরি হচ্ছে আগামী দিনের অন্যতম কয়লাখনি দেউচা-পাচামি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বপ্নের প্রজেক্ট বললেও খুব একটা কম বলা হবে না। বাংলার কর্মসংস্থানের নতুন দিশাই কেবল নয়, আগামী দিনের রাজ্যের বিদ্যুৎব্যবস্থারও আমূল বদল আসবে এর মাধ্যমে। এমনই দাবি তৃণমূলের। রাজ্যের শাসকদলের প্রচারে উঠে আসছে এই প্রকল্প। পাশাপাশি, বীরভূমের মাটিতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে যুব সাথী প্রকল্পের প্রচার চলছে। দেওয়াল লিখনে রাজ্যের প্রকল্প-উন্নয়ন যজ্ঞের প্রচার জ্বলজ্বল করছে। অন্যদিকে, বিরোধীরা এই ভাতা সংক্রান্ত বিষয়কেই প্রচারের হাতিয়ার করে তুলেছে। চাকরি ছাড়া কেবল ভাতা দিয়ে সরকার ভোট (West Bengal Assembly Election) কিনতে চাইছে। এমনই দাবি বিজেপির।

এই জেলায় কান পাতলে একাধিক ঘটনার কথাও শোনা যায়। বছর কয়েক আগেই ঘটা নারকীয় বগটুই কাণ্ড এখনও টাটকা। কয়লা ও গরুপাচারে জড়িয়েছিল এই জেলার নাম। এছাড়াও অজয় ও ময়ূরাক্ষী থেকে অবৈধ বালি তোলার কারবার দিনেদুপুরে চলার অভিযোগও দীর্ঘদিনের। পাশাপাশি মহম্মদবাজার, ইলামবাজার, দুবরাজপুরের পাথরখাদানের বেআইনি রমরমা ব্যবসা চলার অভিযোগও ওঠে মাঝেমধ্যেই। প্রশাসন বেআইনি খাদান বন্ধ করতে মরিয়া, ধরপাকড়ও চলে। শাসকদলের মদতে নাকি এসব চলে? প্রশ্ন শুনে টোটোচালক, মুচকি হাসেন। বলেন, “ও সব বড়দের ব্যাপার, আমরা দিন আনি দিন খাইয়ের দলের লোক।”

রাজনীতির ইতিবৃত্ত…
একসময় বীরভূম ছিল সিপিএমের গড়। সিপিএম নেতাদের দাপটে এই জেলায় নাকি বাঘে-গরুতে একঘাটে জল খেত! জেলার একটি লোকসভা আসন থেকে দীর্ঘ সময়ের সাংসদ ছিলেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। অন্য কেন্দ্রটির সাংসদ ছিলেন রামচন্দ্র ডোম। বাম আমলে এই জেলা একাধিক রক্তপাতের ঘটনারও সাক্ষী। সূচপুর, নানুর, লাভপুরের গণহত্যা কাঁপিয়ে দিয়েছিল সেইসময়৷ বিচারে দোষীদের সাজাও হয়েছে। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদল হয়। কিছু সময়ের মধ্যেই লাল কার্যত ভ্যানিস হয়ে মাথা তোলে জোড়াফুল। সেই থেকে গোটা জেলাই তৃণমূলের শক্তিশালী ঘাঁটি। বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা হয়ে ওঠেন অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর প্রতাপে এই জেলায় এক দশকের বেশি সময় ধরে বিরোধীরা মাথা পর্যন্ত তুলতে পারেনি! এমন কথাও শোনা যায়। 

West Bengal Assembly Election: birbhum election scenario
বোলপুরে প্রচারে বিজেপি প্রার্থী দিলীপকুমার ঘোষ।

বোলপুরের নয়াপট্টির বাড়ি, পার্টি অফিস থেকেই একসময় গোটা জেলা পরিচালনা করতেন দোর্দণ্ডপ্রতাপ কেষ্ট মণ্ডল! বছর কয়েক আগে সিবিআই অনুব্রতকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। এরপর জেলযাত্রা। বছর কয়েক পর জামিনে ছাড়া পেয়ে ফের বীরভূমের রাজনীতিতে ফিরে এসেছেন। এদিকে মাঝের সময়ের পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল জেলায় শক্তি ধরে রাখে। অনুব্রত মণ্ডলের মাথায় নেত্রীর হাত সবসময় রয়েছে। দলের অন্দরে সেকথা কান পাতলেই শোনা যায়। এদিকে কাজলের উত্থানও এই কয়েক বছর দূরন্ত গতিতে! জেলার আরেক মুখ হয়ে ওঠেন কাজল শেখ। তাহলে কি অনুব্রত মণ্ডলের প্রভাব কিছুটা কমেছে? অনুব্রত অনুগামী এক তৃণমূল কর্মীর কথায়, “দাদাই সব। জেলার সংগঠন কেষ্টদার হাতেই তৈরি।”

স্বাস্থ্যসাথী থেকে কন্যাশ্রী, যুবশ্রী থেকে পড়ুয়াদের সাইকেল প্রদান- জেলার সাধারণ খেটেখাওয়া পরিবারদের কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্পকে হাতিয়ার করে এবারও প্রচার চালাচ্ছে শাসকদল। যদিও বিজেপি নেতা দুধকুমার মণ্ডলের দাবি, জেলায় সেভাবে উন্নয়ন হয়নি।

এবার ভোটে নজরকাড়া মুখ…
বীরভূমে তৃণমূলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুখ এবারেও প্রার্থী। জেলা পরিষদের সভাধিপতি ফায়েজুল হক ওরফে কাজল শেখ নিজে এবার হাসন বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছেন। সিউড়িতে বিকাশ রায় চৌধুরীকে সরিয়ে বিধানসভায় জোড়াফুলের প্রার্থী করা হয়েছে পুরসভার চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়কে। দুবরাজপুর বিধানসভায় এবার পুনরায় প্রার্থী করা হল নরেশচন্দ্র বাউরিকে।

২০১৬ সালের নির্বাচনে ওই কেন্দ্রে নরেশচন্দ্র বাউরি ফরওয়ার্ড ব্লকের বিজয় বাগদিকে ৩৯৮৯৪ ভোটে পরাজিত করেন। কিন্তু ২০২১ সালে তাঁকে প্রার্থী করেনি দল। ওই কেন্দ্রে নরেশচন্দ্র বাউরিকে সরিয়ে দেবব্রত সাহাকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। বোলপুরে ফের প্রার্থী মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা। দুবরাজপুর কেন্দ্রে ২০২১ সালে ৩৮৬৩ ভোটে বিজেপির অনুপকুমার সাহার কাছে পরাজিত হয় তৃণমূল। ওই কেন্দ্রে এবারও বিজেপির মুখ তিনিই। অন্যদিকে, সিউড়ি বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। ময়ূরেশ্বর থেকে বিজেপির এবারের প্রার্থী দুধকুমার মণ্ডল। দুধকুমার দীর্ঘদিনের জেলা বিজেপির মুখ। লাভপুরে দেবাশিস ওঝাও এবার গেরুয়া শিবিরের অন্যতম মুখ। এছাড়াও দীর্ঘদিনের মহিলা নেত্রী সিপিএমের নানুরের প্রার্থী শ্যামলী প্রধান সংগঠনহীন হলেও নজরে রয়েছেন এবারের ভোটে (West Bengal Assembly Election)। 

West Bengal Assembly Election: birbhum election scenario
নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখছেন অনুব্রত মণ্ডল। নিজস্ব চিত্র

এবারে জেলায় ভোটের ইস্যু…
বীরভূমে একাধিক ভোটের ইস্যু রয়েছে শাসক ও বিরোধী শিবিরে। তৃণমূল রাজ্য সরকারের প্রকল্পগুলি নিয়ে গ্রামে গ্রামে প্রচার চালাচ্ছে। সিউড়ির এক গৃহবধূ জানিয়েছেন, “প্রতি মাসে ব্যাঙ্কে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা আসে। এবার আরও ৫০০ টাকা দিদি বাড়িয়েছে। সংসারে ঠেকে গেলে এই টাকায় হাত দিতে হয়। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে খুব উপকার হয়।” কেবল ওই বধূ নয়, এলাকার প্রায় সকলেই একবাধ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে ঢালাও প্রশংসা করেছেন। ভোটের আগে রাজ্যের যুবদের জন্য চালু হয়েছে ‘যুব সাথী’ প্রকল্প। লাভপুরের বাসিন্দা এক যুবকের কথায়, “এই টাকাটার দরকার ছিল। বাংলার যুবদের কথা মুখ্যমন্ত্রী সবসময় ভাবেন।” 

West Bengal Assembly Election: birbhum election scenario
বন্ধ হয়ে যাওয়া শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী কালুর চায়ের দোকান। নিজস্ব চিত্র

স্বাস্থ্যসাথী থেকে কন্যাশ্রী, যুবশ্রী থেকে পড়ুয়াদের সাইকেল প্রদান- জেলার সাধারণ খেটেখাওয়া পরিবারদের কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্পকে হাতিয়ার করে এবারও প্রচার চালাচ্ছে শাসকদল। যদিও বিজেপি নেতা দুধকুমার মণ্ডলের দাবি, জেলায় সেভাবে উন্নয়ন হয়নি। তৃণমূল ভয়ের রাজনীতি করে বিরোধীদের মুখবন্ধ করে রেখেছে। নির্বাচনের সময় ভোটলুট করে তৃণমূল। যদিও বিজেপির এই অভিযোগ মানতে রাজি নন অনুব্রত মণ্ডল, কাজল শেখ। অনুব্রত বলেন, “বীরভূমে শুরু থেকে উন্নতি হচ্ছে। রাস্তাঘাট থেকে সেতু, কালভার্ট তৈরি হয়েছে। আগামী দিন আরও হবে। কাজল শেখ জানিয়েছেন, এই জেলাতেই দেউচা-পাচামি কয়লাখনি হচ্ছে। প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থান হবে জেলায়। বীরভূমের আগামী দিনের আর্থসামাজিক পরিকাঠামোর আরও উন্নতি হবে।

এসআইআরও এবারের ভোটে জেলার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। জেলায় ৮২ হাজারের বেশি ভোটার এবার বাদ পড়েছে। সব থেকে বেশি নাম বাদ পড়েছে মুরারইতে। সেখানে ১৪,৮৭১ জনের ভোট বাদ গিয়েছে। হাসন ও নলহাটিতে ১৪ হাজার ও প্রায় ১২ হাজার ভোট বাদ গিয়েছে। বোলপুরে বাদ পড়েছে ছয় হাজার ভোটারের নাম। সংখ্যালঘু ভোট বেশি বাদ গিয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কমিশন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের ভোটাধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল। ভারত বিখ্যাত শিল্পী নন্দলাল বসুর নাতির পরিবারের নামও কাটা গিয়েছিল এসআইআরে। শিল্পী নন্দলাল বসু ভারতের সংবিধানের অলঙ্করণ করেছিলেন। তাঁর পরিবারের সদস্যরা কীভাবে এদেশের নাগরিক নন? সেই প্রশ্ন ওঠে। বোলপুর, শান্তিনিকেতনের শহরাঞ্চলের মানুষ এসআইআরকে খুব একটা ভালোভাবে গ্রহণ করেনি বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। তৃণমূলের তরফে সেই বিষয়ে প্রচারও চলছে ভোটের আবহে। 

West Bengal Assembly Election: birbhum election scenario
বোলপুরে আইএসএফ প্রার্থী বাপি সরেন ও নানুরের সিপিআইএম প্রার্থী শ্যামলী প্রধান। নিজস্ব চিত্র

প্রায় ৩০-৩৫ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছে এই জেলায়। প্রার্থী তালিকায় তৃণমূল এবারও জোর দিয়েছে নারীশক্তি, অনগ্রসর শ্রেণি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং নবীন-প্রবীণের ভারসাম্যের উপরেই। জেলার ১১টি বিধানসভা আসনই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। কিন্তু গত লোকসভার ভোটের পর থেকে বিজেপির ভোট তুলনামূলকভাবে বাড়তে থাকে। তবে তৃণমূলের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সিউড়ি, রামপুরহাট, দুবরাজপুর, নানুর, লাভপুর, সাঁইথিয়া। বিজেপি দাবি করছে, এবার অন্তত চারটি আসনে জয় নিশ্চিত। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ তারকারা জেলায় বিজেপির প্রচারে রয়েছেন।

সিউড়ি, রামপুরহাট, দুবরাজপুর, নানুর, লাভপুর, সাঁইথিয়ায় গত নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান কম ছিল। এবার জেলায় প্রায় সব কেন্দ্রেই চতুর্মুখী লড়াই হচ্ছে। আইএসএফ-ও প্রার্থী দিয়ে জোর প্রচার চালাচ্ছে। এদিকে, তথ্য বলছে শতাংশের হারে ১১টি বিধানসভার মধ্যে প্রায় চারটি বিধানসভায় গত লোকসভা পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপির প্রভাব বেড়েছে। সংখ্যালঘু ভোট যদি এবার বিভাজন হয়, তাহলে একাধিক কেন্দ্রে তৃণমূলের চাপ বাড়তে পারে। বিজেপি প্রার্থী অনুপকুমার সাহা জানিয়েছেন, এবার বিজেপি জেলায় ভালো ফল করবে। তৃণমূল ভোটলুঠ করতে পারবে না। অন্যদিকে, রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা জানিয়েছেন, মানুষ তৃণমূলের সঙ্গে আছে। এবার আরও ব্যবধানে তৃণমূল জেলায় জিতবে।

West Bengal Assembly Election: birbhum election scenario
বোলপুরে তৃণমূল প্রার্থী চন্দ্রনাথ সিংহ। নিজস্ব চিত্র

অজয়, ময়ূরাক্ষী থেকে বেআইনিভাবে বালি তোলায় জড়িয়ে শাসকদলের একাংশ। বেআইনি পাথরখাদানও চলে তাঁদেরই ছায়ায়! এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই দুর্নীতি বন্ধ হবে। সেই প্রচার করছে গেরুয়া শিবির। বগটুই কাণ্ডেও শাসকদলের লোকেরা জড়িত। এমনই অভিযোগ ফের উঠেছে গেরুয়া শিবির থেকে। তবে সেইসব অভিযোগ মানতে নারাজ তৃণমূল। আরও বড় জয় এবার জেলায় তৃণমূল পাবে। এমনই জানিয়েছেন কাজল শেখ।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.