দুলাল দে: অর্থ খরচ করে ‘ভার’ সিস্টেম প্রয়োগে সাময়িক ভাবে হয়তো রেফরিংয়ের মানের সমস্যা মেটানো সম্ভব হতে পারে। কিন্তু অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (AIFF) এবং এফএসডিএল (FSDL) একত্রে হাতে হাত মিলিয়ে চাইছে, সাময়িকভাবে নয়। ভারতীয় ফুটবল থেকে রেফারিংয়ের সমস্যাটা পাকাপাকি ভাবে উপড়ে ফেলতে। আর সেই জন্য দেশের ফুটবল ফেডারেশন এবং এফএসডিএল একত্রে প্রায় ৬ কোটি টাকার উপর বিনিয়োগ করতে চলেছে রেফারির মান উন্নয়নে।
অনেকদিন ধরে আলোচনা চলার পর ‘পিজিএমওএল,’ যারা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের রেফরিংয়ের পোস্টিং থেকে মান উন্নয়নের পুরো ব্যাপারটা দেখে, তাদের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধছে এফএসডিএল এবং ফেডারেশন। তবে কীভাবে ভারতে রেফারিংয়ের মান উন্নতি করতে হবে তা নিয়ে ফেডারেশন, এফএসডিএল এবং পিজিএমওএল নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে পুরো রূপরেখাটা পাকা করে ফেলেছে। সেখানেই ঠিক হয়েছে, খরচ হবে প্রায় ৬ কোটি টাকার মতো। এবার শুধু পিজিএমওএলের সঙ্গে চুক্তির খসড়ায় সই করাটাই বাকি। ইপিএলের এই সংস্থার সঙ্গে চুক্তি হচ্ছে, তিন বছরের জন্য। এর আগে দেশের এলিট রেফারিদের তালিকা তৈরি করছে ফেডারেশন। শুরুতে এই এলিট রেফারিদেরই ট্রেনিং দেবে পিজিএমওএল।
শুধু রেফারিংয়ের মান বদল নয়। আগামী দু’বছরের মধ্যে ভারতীয় ফুটবলের রূপরেখাটাই বদলে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। মাঝে আর একটা বছর। তারপর ২০২৩ থেকে আইলিগের (I league) চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি আইএসএলে (ISL) খেলার সুযোগ পাবে। মানে, এখন যেমন নতুন কোনও দলকে আইএসএলে সরাসরি খেলতে হলে এফএসডিএলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়, ২০২৩ থেকে আর সেটা করতে হবে না। চ্যাম্পিয়ন হলে সরাসরি আইএসএলে। তার থেকেও উল্লেখযোগ্য হল, এখন এসসি ইস্টবেঙ্গল এবং এটিকে মোহনবাগান আইএসএল খেলার জন্য প্রতিবছর যে ১৫ কোটি টাকা ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি দেয়, আইলিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সরাসরি আইএসএল খেলার সময় কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি দিতে হবে না। শুধু দল গঠন এবং ম্যাচ আয়োজনের জন্য খরচ করলেই হবে।
এক্ষেত্রে আইএসএলের ক্লাবগুলি আপত্তি জানিয়েও কিছু করতে পারবে না। এএফসি’র ভারতীয় ফুটবলের রোডম্যাপ তৈরির সময় আইএসএলের সব ফ্র্যাঞ্চাইজিই সম্মতি জানিয়ে সই করেছে।
তবে উপর থেকে দেখলে মনে হবে, আই লিগের ক্লাবগুলি আইএসএল খেলার সময় বোধহয় অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা পাবে। বাস্তবে যা একদমই ঠিক নয়। আইলিগের ক্লাবগুলিকে যেরকম ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি দিতে হবে না, সেরকম আইএসএলের সেন্ট্রাল স্পনসরশিপ থেকেও কোনও অর্থ ফেরত পাবে না আই লিগ থেকে আইএসএলে ওঠা ক্লাব। সেখানে ১৫ কোটি টাকা ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি দিতে হলেও, বছর শেষে সেন্ট্রাল স্পনসরশিপ থেকে সেই ১৫ কোটি পাবে আইএসএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলি। ফলে দিনের শেষে আর্থিক ভারসাম্যটা একই থাকবে। তবে ২০২৩ থেকে আইলিগের ক্লাব আইএসএলে ওঠার পরেও সঙ্গে সঙ্গে আইএসএলের অবনমন চালু হবে না। আরও দু’বছর যাওয়ার পর চ্যাম্পিয়নশিপের সঙ্গে সঙ্গে অবনমনও চালু হবে।
সব মিলিয়ে দু’বছরের মধ্যেই বদলে যাবে ভারতীয় ফুটবলের পুরো চিত্রটা। তার আগে রেফারিদের মান উন্নয়নের কাজটাও শুরু হয়ে যাচ্ছে।
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
Copyright © 2024 Pratidin Prakashani Pvt. Ltd. All rights reserved.