সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সালটা ২০০০। ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য কলঙ্কের দাগ লেগেছিল দক্ষিণ আফ্রিকার তৎকালীন অধিনায়ক হ্যানসি ক্রোনিয়ের গায়ে। সেই সময় এই গড়াপেটা কাণ্ডেই সংবাদের শিরোনামে উঠে আসে এক বুকির নাম। সঞ্জীব চাওলা। ভারতীয় বংশোদ্ভুত এই বুকির গড়াপেটার মামলা চলছিল ব্রিটেনেই। তাকে ভারতে ফেরানোর জন্য আবেদন জানিয়েছিল এ দেশের সরকার। উলটে ব্রিটেনের আদালতের দ্বারস্থ হয় সঞ্জীব। ভারতীয় জেল সুরক্ষিত নয়। এই মর্মেই সে আদালতের কাছে আরজি জানায়, যেন তাকে ভারতে না পাঠানো হয়। কিন্তু শেষমেশ মুখ পুড়ল বুকির। ব্রিটেনের আদালত তার আবেদন খারিজ করে দিয়ে জানিয়ে দিল, ভারতীয় জেলের পরিবেশ যথেষ্ট সন্তোষজনক।
ব্রিটেনের আদালতের এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে ভারতের কাছে বড়সড় সাফল্য। আর এই জয়কেই কাজে লাগাতে চাইছে সরকার। লিকার ব্যারন বিজয় মালিয়াও একই অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা করেছেন। ভারতে ফিরতে নারাজ তিনিও। কিন্তু মালিয়াকে দেশে ফেরানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। এমনকী, ব্রিটিশ আদালত ভারতের কাছ থেকে এখানকার জেলের পরিস্থিতি কেমন তা দেখতে ভিডিও পাঠানোর নির্দেশও দিয়েছিল। নির্দেশ মেনে ভিডিও পৌঁছেও গিয়েছিল। তবে মালিয়াকে ফেরানোর বিষয়ে এখনও সবুজ সংকেত মেলেনি। কিন্তু সঞ্জীব চাওলার আবেদন খারিজ হওয়ায় অনেকটাই ব্যাকফুটে মালিয়া। এবার একই পথে তাকেও ফেরানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে ব্যবসায়িক ভিসা নিয়ে ব্রিটেনে গিয়েছিল দিল্লির সঞ্জীব। তারপরই গড়াপেটা কাণ্ডে অভিযুক্ত হয় সে। অভিযোগ, ২০০০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ভারত সফরে ক্রোনিয়েকে ম্যাচ গড়াপেটার জন্য অর্থ দিয়েছিল সঞ্জীব। সেই মামলাতেই তাকে দেশে ফেরানোর চেষ্টা করছিল ভারত। ব্রিটিশ আদালতের ঘোষণায় অবশেষে স্বস্তি মিলল। এদিনের পর মালিয়াকে ফেরানোর বিষয়ে ভারত সরকার যে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠল, তা বলাই বাহুল্য।
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
Copyright © 2025 Pratidin Prakashani Pvt. Ltd. All rights reserved.