আলাপন সাহা, দুবাই: এমনিতে দুবাইয়ের স্টেডিয়াম চত্বর একেবারে শুনশান। আইসিসির কয়েকজন ছাড়া সেরকম কারও দেখা নেই। ভারতের প্র্যাকটিস থাকলে তবু কিছু লোকজন থাকে, কিন্তু শনিবার সে’সবের কোনও বালাই ছিল না। ভারতীয় টিমের তরফে আগের দিনই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল-মাচের আগের দিন কোনও নেট সেশন নেই। আসলে নিউজিল্যান্ডের ম্যাচের একদিন পরই সেমিফাইনাল। তাই ক্রিকেটাররা যাতে সেমিফাইনালের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম পান, তার জন্যই কিউয়ি ম্যাচের আগের দিন তাঁদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। ভারত আর নিউজিল্যান্ড দু’টো টিমই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলায় এই ম্যাচ নিয়ে খুব একটা আগ্রহ নেই। বরং অনেক বেশি চর্চা চলছে সেমিফাইনাল নিয়ে।
আগ্রহ শুধু একটাই ব্যাপারে রয়েছে। ভারতীয় দলে প্রথম এগারোয় কোনও বদল হয় কি না! পাকিস্তান ম্যাচের পরই যা নিয়ে জোর চর্চা হয়েছিল। ওই ম্যাচে রোহিত শর্মার হ্যামস্ট্রিংয়ে সামান্য সমস্যা হয়েছিল। মহম্মদ শামিও প্রথম তিন ওভার করার পর কিছুক্ষণের জন্য মাঠ ছেড়েছিলেন। একটা মহল মনে করছে, যেহেতু নিউজিল্যান্ড ম্যাচের পর খুব বেশি সময় থাকছেনা, তাই কয়েকজনকে বিশ্রাম দিয়ে সবাইকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলানো হোক। কিন্তু অন্য পক্ষের মত, পাকিস্তান ম্যাচের পর রোহিতরা ছ’দিনের একটা ব্রেক পেয়েছেন। যার মধ্যে প্র্যাকটিস হয়েছে দু’দিন। অর্থাৎ চারদিন ক্রিকেটাররা বিশ্রাম পেয়েছেন। তাই নিউজিল্যান্ড ম্যাচে পুরো শক্তির দল নামানো হোক। কারণ সেমিফাইনালের আগে কোনওভাবেই মোমেন্টাম নষ্ট করা যাবে না।
ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট কী করবে, সেটা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে যা শোনা যাচ্ছে, তাতে মনে হয় না এই ম্যাচে দলে কোনও বদল আসতে পারে। শুক্রবার এটা নিয়ে লোকেশ রাহুলকেও প্রশ্ন করা হয়েছিল। কেএল বলেন, “দেখুন আমি টিমের লিডারশিপ গ্রুপের সদস্য নই। তাই এই ব্যাপারে আমি শুধু নিজের মতামত জানাতে পারি। এটা ঠিক যে সেমিফাইনালের আগে আমাদের সামনে পরীক্ষা-নিরীক্ষার রাস্তা খোলা আছে। তবে আমার মনে হয় না এটা হবে। কারণ সেমিফাইনালের আগে সময় খুব একটা নেই। ফলে এখন সবাই ম্যাচ খেলতে চাইবে।”
ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের তরফে এটাও পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে, দলে কারও চোট-আঘাতের কোনও সমস্যা নেই। রোহিত পুরোপুরি ফিট। শুক্রবার ট্রেনার সোহম দেশাইয়ের কাছে ফিটনেস টেস্টও হয়েছে ভারত অধিনায়কের। আর নেটে যেভাবে ব্যাট করলেন, তাতে মনে হয়নি কোনও সমস্যা রয়েছে। একই কথা বলতে হবে শামির ক্ষেত্রেও। নেটে খুব বেশি বল করেননি ঠিকই। তবে ঠিক আগের মতোই ছন্দে দেখাচ্ছে তাঁকে। শুভমান গিল মাঝে অসুস্থতার জন্য একদিন প্র্যাকটিসে আসেননি। তবে তিনিও এখন পুরোপুরি সুস্থ। রোহিতরা চাইছেন নিউজিল্যান্ড ম্যাচেই সেমিফাইনালের ড্রেস রিহার্সাল সেরে রাখতে। ভারতীয় টিম একটা ব্যাপার খুব ভালো করেই জানে, প্রথম দু’টো ম্যাচে তাদের যত না চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হয়েছিল, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তার চেয়ে ঢের বেশি চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করে রয়েছে। দুবাইয়ে যা পিচ, সেটা স্পিন বোলারদের বাড়তি সুবিধে দিচ্ছে। ভারতের স্পিন অ্যাটাক যেমন ভালো, নিউজিল্যান্ডের স্পিন অ্যাটাকও তেমনই ভালো। মিচেল স্যান্টনার, গ্লেন ফিলিপসদের পাল্টা দেওয়ার জন্য নেটে সুইপ আর রিভার্স সুইপের উপর জোর দেন ভারতীয় ব্যাটাররা। একটা সময় রাহুলকে নেটে একনাগাড়ে শুধু রিভার্স সুইপ খেলতে দেখা যায়। একা রাহুল নন, শ্রেয়স আইয়াররাও একই শটের মহড়া চালিয়ে গেলেন নেটে।
নিউজিল্যান্ডও অবশ্য কিছুটা ধোঁয়াশায় রয়েছে। পাকিস্তানে দুটো ম্যাচেই ফ্ল্যাট উইকেটে খেলেছেন কেন উইলিয়ামসনরা। দুবাইয়ের উইকেট কেমন হবে, সেটা তাঁদের অজানা। এখানকার কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্যই শনিবার দু’দফায় ট্রেনিং করল নিউজিল্যান্ড। প্রথম আইসিসি অ্যাকাডেমিতে ঘণ্টা দু’য়েক নেট সেশন চলল। তারপর দুবাইয়ে স্টেডিয়ামে চলে আসেন স্যান্টনার, ফিলিপসরা। সেখানে আবার ঘণ্টা খানেক ফিল্ডিং প্র্যাকটিস। একইসঙ্গে বাইশ গজও দেখে নেওয়া। নিউজিল্যান্ড শিবির ড্যারেল মিচেলকে নিয়ে দোনামনায় রয়েছে। ভারতের বিরুদ্ধে মিচেলের রেকর্ড বেশ ভালো। দু’বছর আগে ধরমশালায় বিশ্বকাপে বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছিলেন মিচেল। সেই কথা মাথায় রেখেই ভারতের বিরুদ্ধে মিচেলকে খেলানোর ভাবনা ঘুরছে নিউজিল্যান্ড ড্রেসিংরুমে। কিন্তু মিচেল এখনও পুরোপুরি ফিট কি না, সেটা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। যদিও তা নিয়ে কোনওপক্ষেরই বিশেষ ভাবনা নেই। সবমিলিয়ে নিরুত্তাপ আবহে গ্রুপ শীর্ষে যাওয়ার লড়াইয়ে নামছে দুটো দল।
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
Copyright © 2025 Sangbad Pratidin Digital Pvt. Ltd. All rights reserved.