সুমনা আদক: কর্মসূত্রে বিদেশে পাড়ি দেওয়া, তারপর এক এক করে সে দেশের প্রকৃতি, সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া। সবই হয় অভ্যাসের নিয়ম মেনে। কিন্তু মহালয়ার দিনটা এলেই মন কেমনের পালা শুরু হয়ে যায়। আগমনীর সুর মনে করায় ‘মা আসছেন’। বাঙালির এই আবেগের নামই তো দুর্গাপুজো (Probashe Durga Puja)।
ব্রিটেনে এত গুলো বছর পেরিয়ে একটা কথা প্রায়ই মনে হয়, দুর্গাপুজোর গরিমা, জৌলুসের কাছে শুধু ব্রিটিশ স্থাপত্যের সৌন্দর্যই নয়, ভূলোকের অনেক সৌন্দর্যই যেন ফ্যাকাসে লাগে। উপরি পাওনা বলতে আমাদের আরেক গর্ব ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের ট্যাগলাইনে দুর্গাপুজোর সেরার সম্মানটা। ব্রিটেনের মাটিতে ৬৪টি দুর্গাপুজোর মধ্যে হিথরো বিমান বন্দরের কাছে হউনসলো ক্যানফোর্ড কমিউনিটির কলেজের আদিশক্তির এব ছরের পুজো সাত বছরে পা দিল। লন্ডনে আদিশক্তি কমিটির আরেক বিশেষত্ব হল এখানে শুধু বাঙালিই নয়, অবাঙালিরাও এই পুজো কমিটির এক বিশেষ অঙ্গ। বাঙালির দুর্গাপুজোর সাথে গড়বা, ডান্ডিয়া নৃত্যের আয়োজন আদিশক্তির পুজোর আনন্দকে আরো দ্বিগুন করে।
বাঙালি রীতিনীতি, পঞ্জিকা মেনে আদিশক্তির এই পুজো আজও নিজের বৈচিত্রে অমলিন। এখানে এলে মায়ের বোধন, অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ, সিঁদুর খেলা, সবই মনে করায় ফেলে আসা কলকাতার কথা। পাশাপাশি গড়বা, ডান্ডিয়া মনে করায় অখণ্ড ভারতবর্ষের কথা। এ বছর আদিশক্তির বিশেষ আকর্ষণ হল মা দুর্গা আসছেন কলকাতা থেকে। ষষ্ঠী থেকে দশমী, মায়ের বোধন থেকে অঞ্জলি, ভোগ বিতরণ, সন্ধি পুজো, আরতি, সিঁদুর খেলা সবই হবে নিয়ম মেনে। মোট কথা সপ্তমবর্ষের দুর্গাপুজো হবে জমজমাট।
বাঙালির দুর্গাপুজো খাওয়া দাওয়া না হলে কি চলে নাকি? আদিশক্তির পুজোর মেনুতে থাকবে সারা ভারতের খাবার। নিয়ম মেনে মায়ের বিদায়বেলায় হবে ধুনুচি নাচ। সিঁদুরে রাঙা হবে বঙ্গতনয়াদের মুখ। এবছর অদিশক্তির পুজোতে সঙ্গীতানুষ্ঠান হবে বর্ণাঢ্য। এছাড়া নাটক, কবিতা সবই হবে আগের মতো। পুজোর শেষে পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা গৃহহীনদের নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করার মধ্য দিয়ে সামাজিক দায়িত্ব পালনের একটা নজির রাখবে। ব্রিটেনের মহামারী শিখিয়েছে ভয়াবহ বাস্তবতা, সেই কালো ইতিহাস ভুলে গিয়ে এ বছর অদিশক্তির দুর্গা পুজো হবে বেশ জমজমাট।
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
Copyright © 2025 Sangbad Pratidin Digital Pvt. Ltd. All rights reserved.