Advertisement
Advertisement
বঙ্গে পালাবদল
Adhir Ranjan Chowdhury

অস্তাচলে অধীর, খাসতালুক বহরমপুর বিধানসভাতেও হার, এবার কি বাদাম বেচা?

এরপর অধীর কি করবেন? কংগ্রেসেই পড়ে থাকবেন? বিজেপিতে যোগ দেবেন, নাকি বাদাম বেচবেন?

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ৪, ২০২৬, ২০:৪৪

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ৪, ২০২৬, ২০:৪৪

options
link
অস্তাচলে অধীর, খাসতালুক বহরমপুর বিধানসভাতেও হার, এবার কি বাদাম বেচা? zoom
অস্তাচলে অধীর। ফাইল ছবি।

২০২৪ সাল। লোকসভা ভোটের প্রচার তখন মধ্যগগনে। এক সাক্ষাৎকারে অধীর চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury) রসিকতার সুরেই বলেছিলেন, ‘হেরে গেলে বাদাম বেচতে হবে।’ অধীর চৌধুরীর জন্য সেই বাদাম বেচার সময় কি তাহলে সত্যিই আসন্ন?

কারণ, তিনি আবারও হারলেন। ২০২৪ লোকসভার পর এবার একেবারে নিজের খাসতালুক বহরমপুর বিধানসভায়। রাজ্যজুড়ে বিজেপির যে সুনামি আছড়ে পড়েছে, সেই সুনামিতে নিজের গড় বাঁচাতে পারলেন না বহরমপুরের একসময়ের রবিনহুডও। অতএব, এই মুহূর্তে বঙ্গ কংগ্রেসের সবচেয়ে বড় সূর্য এবার অস্তাচলে। অধীর চৌধুরীর রাজনৈতিক কেরিয়ার এবার সত্যিই প্রশ্নের মুখে।

Advertisement

একটা সময় বহরমপুর তথা গোটা মুর্শিদাবাদ জেলার ‘বেতাজ বাদশা’ বলা হত যাঁকে। অনুগামীরাও আজও যাঁকে বলেন ‘রবিনহুড’। একটা সময় জেলার বেশিরভাগ বিধায়ক, বেশিরভাগ পুরসভা, জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সর্বত্র যাঁর ‘ডি ফ্যাক্টো’ শাসন চলত। যিনি নিজে একবারের বিধায়ক, পাঁচবারের সাংসদ, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, লোকসভায় কংগ্রেসের প্রাক্তন দলনেতা হয়েছেন। কংগ্রেসের রাজনীতিতে সাফল্যের শিখরে ছিলেন। সেই অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury) আজ রাজনৈতিকভাবে নিঃস্ব। ইউসুফ পাঠানের কাছে হারার পরই অধীরের রাজনৈতিক কেরিয়ার নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল। এবারের বিধানসভার হার সম্ভবত তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারের কফিনে শেষ পেরেক। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ২০২১ সালের মতো এবার বাংলায় কংগ্রেস শূন্য হয়নি। দলের দু’জন বিধায়ক নির্বাচিত। অথচ অধীর চৌধুরী নিজেই বিধানসভায় যেতে পারবেন না।

West Bengal Assembly Election Result 2026:  Adhir Ranjan Chowdhury lost Baharampur
প্রচারে অধীর। ফাইল ছবি।

এ কথা অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই যে একটা সময় অধীর চৌধুরী এবং বহরমপুর ছিল সমার্থক। কিন্তু সেই অধীরের সঙ্গে আজকের অধীরের তফাৎ অনেক। আগেকার অধীর বহরমপুরেই থাকতেন, স্থানীয় রাজনীতি করতেন। মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। কিন্তু আজকের প্রজন্মের অনেকের কাছেই তিনি অচেনা। মাঝে দীর্ঘদিন দিল্লিবাসী ছিলেন। তাছাড়া পুরসভা, পঞ্চায়েতগুলি হাতছাড়া হওয়ার পর সেভাবে নাগরিক পরিষেবাও দিতে পারেন না তিনি। নীচুতলায় জনপ্রতিনিধি না থাকায় সংগঠন রুগ্ন ও ভগ্ন। এখন বহরমপুর শহরের সব বুথেও এজেন্ট দেওয়ার ক্ষমতা অধীরের নেই। যার অবধারিত ফল প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার ভোটে হার বিজেপির সুব্রত মৈত্রর কাছে।

এখন প্রশ্ন হল, এরপর অধীর কি করবেন? কংগ্রেসেই পড়ে থাকবেন? রাজ্যে দ্বিমেরু রাজনীতির ফাঁসে কংগ্রেসী রাজনীতি করাটা কতটা সম্ভাবনাময় তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাছাড়া দলে তাঁর একাধিপত্য অনেক আগেই শেষ হয়েছিল। এবার নিজের জেলাতেও সম্ভবত আর তাঁর একাধিপত্য চলবে না। ‘বেতাজ বাদশা’র সব সিদ্ধান্ত এখন আতস কাঁচের তলায় পড়বে। অধীরের জন্য সহজ বিকল্প অবশ্য হতে পারে কংগ্রেস ছেড়ে দেওয়া। কিন্তু সেক্ষেত্রে কোন দলে যোগ দেবেন তিনি। বিকল্প একটাই, বিজেপি। কিন্তু মুর্শিদাবাদের মতো জেলায় আজীবন সংখ্যালঘু রাজনীতি করে আসা অধীর কি বিজেপির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবেন? তার চেয়েও বড় প্রশ্ন, বিজেপি কি অধীরের মতো ‘হেরো’ নেতাকে দলে নেবে? যদি না নেয়, তাহলে বিকল্প কি? তাহলে কি বাদাম বিক্রিই পথ? নাকি ৭০ বছর বয়সে নতুন করে লড়াই শুরু করতে পারবেন বহরমপুরের রবিনহুড?

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.