বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁর স্ত্রী পারমিতা রায়চৌধুরির বিরুদ্ধে টিকিট পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলল দলেরই একাংশ। শুক্লা চট্টোপাধ্যায়ের নাম বিষ্ণুপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করতেই তাঁর বিরুদ্ধে পড়ল একাধিক পোস্টার। পারমিতার জন্যই তিনি টিকিট পেয়েছেন বলে ঘনিষ্ঠ মহলে নাকি দাবি করেছিলেন শুক্লা। আর এই নিয়ে দলের একাংশের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেল। শুক্লার বিরুদ্ধে পড়ল একের পর এক পোস্টার। যার মধ্যে একটিতে লেখা, “সংগঠন করে করবেন কী, টিকিট দিয়েছে এমপি-র স্ত্রী, বক্তা শুক্লা চ্যাটার্জি।” এছাড়াও অশালীন ভাষায় ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রসঙ্গ টেনে তাঁকে আক্রমণ করা হয়েছে।
পোস্টারের ভাষা এবং বিষয়বস্তু ঘিরে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। পোস্টারগুলির মধ্যে কয়েকটিতে শুক্লার সাংগঠনিক ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। রাজনৈতিক শিবিরের মতে, পোস্টারে এমপি বলতে বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ’র কথা বলা হয়েছে। প্রথম স্ত্রী সুজাতা খাঁ’র সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির পর ২০২৪ সালে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তাঁর বর্তমান স্ত্রী’র নাম পারমিতা রায়চৌধুরী। শুক্লা ঘনিষ্ঠ মহলে পারমিতা প্রসঙ্গেই একথা বলে থাকতে পারেন বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।
আরও পড়ুন:
এদিন সকালে শহরের এক্সচেঞ্জ মোড় থেকে কবরডাঙা যাওয়ার পথে বিজেপির কার্যালয়ের বাইরের দেওয়ালে এই পোস্টারগুলি চোখে পড়তেই ভিড় জমান সাধারণ মানুষ। এরপর সকলের একটাই প্রশ্ন, প্রার্থী ঘোষণার পর কেন তাঁর বিরুদ্ধে এরকম পোস্টার পড়ল? রাজনৈতিক মহলের মতে, পোস্টারের ভাষাতেই লুকিয়ে রয়েছে বড় ইঙ্গিত। সেখানে প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ এবং ‘উপরমহলের প্রভাব’-এর অভিযোগ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এর আগেও একই প্রার্থীকে ঘিরে পোস্টার পড়েছিল, ফলে বিষয়টি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর জন্য বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দলকেই দায়ী করেছেন অনেকে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপি প্রার্থী শুক্লা চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছেন, “বিজেপির পরিবারে কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই। আমরা সবাই নরেন্দ্র মোদির ছাতার তলায় একটি পরিবার।” তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস পরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে নোংরা পোস্টার লাগিয়ে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে। কিন্তু তাঁকে ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখা যাবে না। পাশাপাশি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “এই ধরনের অপপ্রচারে আমি থামব না, সত্যের পথেই থাকব।” তবে প্রার্থীর এই ব্যাখ্যায় বিতর্ক থামার বদলে আরও বাড়তে শুরু করেছে। কারণ, পোস্টারের ভাষা ও ইঙ্গিত যে দলের একাংশেরই ক্ষোভের প্রতিফলন, তা অস্বীকার করা কঠিন বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে বিজেপির “অন্তর্কলহের নগ্ন প্রকাশ” বলে কটাক্ষ করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের শহর-সভাপতি দিব্যেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, “বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বই এই পোস্টারের মাধ্যমে সামনে এসেছে। নিজেদের অশান্তি ঢাকতে এখন তৃণমূলের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে। এই ধরনের নোংরা রাজনীতি তৃণমূল করে না, মানুষ সব দেখছে।”
নির্বাচনের (WB Assembly Election 2026) আগে এরকম ঘটনা বিষ্ণুপুরে বিজেপির সংগঠনিক ঐক্য নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, প্রার্থী ঘোষণার পরেই এই ঘটনা দলকে বেশ কিছুটা ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে। এখন দেখার, বিজেপির অন্দরমহলের টানাপোড়েন ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
জন্ম থেকে দলের ‘মালিকানা’ বদল, মমতার তৃণমূলের ২৮ বছরের ইতিবৃত্ত
-
জিনিয়াস স্পোর্টস নয়, আইএসএল আয়োজনের অধিকার খুব সম্ভবত পেতে চলেছে ক্লাবগুলি
-
ফেডারেশনের বৈঠকে রণক্ষেত্র টলিপাড়া, ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর বিরুদ্ধে ‘চোর চোর’ স্লোগানে ছোঁড়া হল ডিম
-
সমর্থকদের উপস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞা, হোটেল আর ট্রেনিংয়ে ‘কারফিউ’ ব্রাজিলের
-
বন্ধুত্বের উপহার, প্রথমবার সংসদে যাওয়ার সুযোগ হারিয়েও রাজ্যসভা আসন কংগ্রেসকে ছাড়লেন বিজয়
নিবেদিত


