সবেমাত্র প্রশিক্ষণ সেরে কলকাতায় ফিরেছে তারা। চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর ভোটের (WB Assembly Election 2026) ডিউটি করেই হাতেকলমে কাজ শিখছে ইনা-টিনারা। লালবাজারের সূত্র জানিয়েছে, এই চারটি সারমেয়ই ল্যাবরাডর প্রজাতির।
এই বিষয়ে আরও খবর
মাস সাতেক আগে গোয়ালিয়রে বিএসএফ-এর ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিতে গিয়েছিল স্নুপি, মুন, ইনা আর টিনা। কলকাতা পুলিশের ডগ স্কোয়াডের এই চার সদস্যই সেখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে সম্প্রতি কলকাতা পুলিশে যোগ দিয়েছে ‘বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ’ হিসাবে। কিন্তু প্রশিক্ষণের পর কলকাতায় এসে হাতেকলমে শিক্ষা বা ‘প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং’ নিতে হয় সব সারমেয়কেই। সাধারণভাবে ‘অভিজ্ঞ’ বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ সারমেয়দের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ঘুরে প্রশিক্ষণ নিতে হয় ডগ স্কোয়াডের নতুন সদস্যদের। পুলিশের মতে, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও শহরে ভিআইপিদের নিরাপত্তার জন্য ডিউটির মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। এবার ভোটের ডিউটি দিয়েই হাতেকলমে শিক্ষা নেওয়া শুরু করল স্নুপি, মুন, ইনা আর টিনা।
লালবাজারের সূত্র জানিয়েছে, এই চারটি সারমেয়ই ল্যাবরাডর প্রজাতির। তাদের মধ্যে তিনজনই হলদেটে রঙের। একজনের রং কালো। চারটি শাবককেই তাদের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে পাঠানো হয়েছিল গোয়ালিয়রে। কলকাতায় ফিরে আসার পর প্রচণ্ড গরমের মধ্যে শুরু হয়েছে তাদের কাজ। প্রত্যেকদিন সকাল ও বিকেলে ব্যয়াম, সাঁতার, দৌড়ানো ও বিভিন্ন ধরনের মহড়া রয়েছে। তার মধ্যেই শুরু হয়েছে ভোটের ডিউটি। ভোটের আবহে শহরে শুরু হচ্ছে রাজনৈতিক সমাবেশ, যাতে থাকছেন ভিআইপি ও ভিভিআইপিরা। এই সমাবেশগুলি শুরু হওয়ার আগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে ডগ স্কোয়াডের।
‘বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ’ সারমেয়রা মঞ্চ ও তার আশপাশের অঞ্চলে পরীক্ষা চালায়। তার সঙ্গে থাকে বম্ব স্কোয়াডও। এ ছাড়াও প্রতে্যকদিনের ভিআইপি ডিউটি করতে হয় পুলিশের সারমেয় বাহিনীকে। আবার ভিআইপি বা ভিভিআইপিদের রোড শো-এর আগেও প্রয়োজনমতো রাস্তার দু’পাশে পরীক্ষা চালায় গোয়েন্দা কুকুর। সেই ক্ষেত্রে ভোটের সময় সাধারণভাবে ডিউটির সময়ও বেড়ে যায় গোয়েন্দা কুকুরদের। আর পুলিশের চাকরিতে যোগ দিয়েই ডগ স্কোয়াডের ‘সিনিয়র’ সদস্যদের সঙ্গে রাস্তায় বের হতে হচ্ছে ইনা-টিনাদের। তাদের রাস্তায় দিনে কখনও চার ঘণ্টা, আবার কখনও পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্তও ডিউটি করতে হচ্ছে। যদিও গরমে এভাবে ডিউটি করতে অনভ্যস্ত এই নতুন চার সদস্যের কোনও সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গেই তাদের বিশ্রাম দেওয়া হচ্ছে।
লালবাজার জানিয়েছে, এখন কলকাতা পুলিশের ডগ স্কোয়াডে রয়েছে মোট ৪০ সারমেয়। এর মধ্যে ৩০ জনই ‘বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ’। প্রচণ্ড গরমে তাদের শরীর ঠান্ডা রাখতে প্রত্যেকদিনই তাদের মেনুতে থাকছে দই। ডিউটিতে বের হলে তাদের গ্লুকোজ দেওয়া হচ্ছে। দিনে দু’বার করে তাদের পুলিশ ট্রেনিং স্কুলের পুকুরে স্নান করানো হচ্ছে। মধ্যাহ্নভোজনে দেওয়া হচ্ছে মুরগির মাংস। ভোটের আগে যাতে অতিরিক্ত ডিউটির জন্য তাদের শরীর খারাপ না হয়, সেই ব্যবস্থাই নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
সমাজ-অপরাধীর মনস্তত্ত্বে আতশকাচ রেখে কলকাতার বুকে জমাট রহস্য, কেমন হল করিশ্মার ‘ব্রাউন’?
-
শালিমারে উচ্ছেদ অভিযান! বুলডোজারে ভাঙা পড়ল অন্তত ৫০টি বেআইনি দোকান
-
৬০ বছরের বর, ৫৮-র কনে! পঁচিশ বছর লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা বাবা-মায়ের বিয়ে দিলেন সন্তানরা
-
শ্রীভূমিতে গঙ্গাসাগরের প্রসাদ দুর্নীতি! উদ্ধার কাঁড়ি কাঁড়ি শাড়ি-বালতি-ত্রিপল
-
দেশজুড়ে অকেজো ফেসবুক-ইনস্টা-হোয়াটসঅ্যাপ! চরম ভোগান্তিতে ব্যবহারকারীরা
নিবেদিত






