Advertisement
Advertisement
Abhishek Banerjee

‘ভোটের পর মাছ-মাংস বিক্রি করাব’, বিজেপি নেতা-কর্মীদের হুঁশিয়ারি অভিষেকের

বিজেপির বিরুদ্ধে বারবার মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধের চেষ্টা করছে বলেই অভিযোগ। কোনও রাজনৈতিক দল কারও খাদ্যাভ্যাস বেঁধে দিতে পারে না বলেই দাবি শাসক শিবির তৃণমূলের। দু'পক্ষের এই টানাপোড়েনের মাঝে ভোটমুখী বাংলায় মাছ-মাংসই যেন বড় ইস্যু।

Advertisement
সুরজিৎ দেব
সুরজিৎ দেব

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ১৯:৩৭

link
সুরজিৎ দেব
সুরজিৎ দেব

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ১৯:৩৭

options
link
‘ভোটের পর মাছ-মাংস বিক্রি করাব’, বিজেপি নেতা-কর্মীদের হুঁশিয়ারি অভিষেকের zoom
ফাইল ছবি।

বিজেপির বিরুদ্ধে বারবার মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধের চেষ্টা করছে বলেই অভিযোগ। কোনও রাজনৈতিক দল কারও খাদ্যাভ্যাস বেঁধে দিতে পারে না বলেই দাবি শাসক শিবির তৃণমূলের। দু’পক্ষের এই টানাপোড়েনের মাঝে ভোটমুখী বাংলায় মাছ-মাংসই যেন বড় ইস্যু। এই পরিস্থিতিতে বুধবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বিষ্ণুপুরের পৈলানে দৌলতপুর যুব সংঘের মাঠে দাঁড়িয়ে ‘মেছো রাজনীতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)। ৪ মে-র পর বিজেপিকে নিয়ে মাছ বিক্রি করানোর হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।

অভিষেক বলেন, “শপথ নিচ্ছি, তোমরা তো বাংলায় মাছ বন্ধ করে দেবে বলেছিলে, ভোটের পর তোমাদের দিয়ে মাছও ধরাব, আবার দোকানে বসিয়ে মাছ-মাংস দুটোই বিক্রি করাব।”

তৃণমূল প্রার্থী দিলীপ মণ্ডলের সমর্থনে জনসভা থেকে অভিষেক স্পষ্টই ঘোষণা করেন, “তৃণমূলের জয় অনিবার্য। কারোর ক্ষমতা নেই তৃণমূলকে আটকাবে। বিজেপি তো কোন ছার।” কটাক্ষের সুরে অভিষেক বলেন,”বাংলাকে পালটাতে গিয়ে পালটে গিয়েছে বিজেপির নেতারা, এটাই বাংলার ক্ষমতা। যারা বাংলায় মাছ বন্ধ করে দেবে বলেছিল তারাই এখন রুই-কাতলা-ইলিশ হাতে নিয়ে ঘুরছে, প্রচার করছে। এরাই ২০১৯ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছিল। শপথ নিচ্ছি, তোমরা তো বাংলায় মাছ বন্ধ করে দেবে বলেছিলে, ভোটের পর তোমাদের দিয়ে মাছও ধরাব, আবার দোকানে বসিয়ে মাছ-মাংস দুটোই বিক্রি করাব।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

সরাসরি অমিত শাহকে অভিষেকের (Abhishek Banerjee) চ্যালেঞ্জ, “অমিত শাহ হুমকি দিচ্ছে। বাংলার মানুষকে চমকাচ্ছে। বলছে, ২৩ তারিখ সব বাড়িতে ঢুকে থাকবে। গুজরাটের গুন্ডা এসে বাঙালিকে চমকাচ্ছে। আমি বলছি, অমিত শাহ, যদি আপনার বুকের পাটা থাকে ৪ তারিখ বাংলায় থাকবেন, বিকেলে দেখা হবে। আর বেলা বারোটার পর আপনার মুখটা সেদিন আমি দেখতে চাই।” বিজেপিকে কটাক্ষের সুরে অভিষেক বলেন, “বিষ্ণুপুর বিধানসভায় বিজেপিকে তিনবার প্রার্থী ঘোষণা করতে হয়েছে। মানে মাঠে নামার আগেই খেয়ে গেছে দশ গোল।”

বিজেপির বিরুদ্ধে আরও একবার ধর্মীয় মেরুকরণের অভিযোগ তোলেন অভিষেক। বলেন, “আমরা ধর্মের নামে রাজনীতি করি না। রাজনীতি করি কর্মের নামে। মনুষ্যত্বে বিশ্বাস করি আমরা। মানুষের ভোটে নির্বাচিত, তাই মানব ধর্মই আমাদের ধর্ম। বিজেপি নিদান দিচ্ছে বাংলায় কে কি খাবে, কে কি পরবে? গায়ের জোরে বাংলা দখল করার চেষ্টা করছে। ভোটপাখি, পরিযায়ী নেতা হয়ে ভোটের সময় আসবে আর বিপদের সময় খুঁজে পাওয়া যাবে না, ৪ মে বাঙালি বুঝিয়ে দেবে।” জনসভার মঞ্চ থেকে এসআইআরের ফলে নাম বাতিল হওয়া ভোটারদের অভয়বাণী দেন অভিষেক। বলেন, “চিন্তিত বা আতঙ্কিত হবেন না কেউ। যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে চতুর্থবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার গঠনের পর এক মাসের মধ্যে সকলের নাম তালিকায় উঠবে।”

এদিন জনসভায় অভিষেক বিষ্ণুপুর বিধানসভার উন্নয়নের খতিয়ানও তুলে ধরেন। বলেন, “কেবল বিষ্ণুপুর এই ২২-২৩ হাজার পাকা বাড়ি, ২৫ হাজার যুবক-যুবতী যুবসাথী, ১ লক্ষ ১২ হাজার মহিলা লক্ষ্মীর ভান্ডার পেয়েছেন। বিধানসভার ১৫ টি গ্রাম পঞ্চায়েতে গত তিন বছরে ১১৬ কোটি টাকার গ্রামীণ রাস্তা, ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে খাল সংস্কার হয়েছে। ১২ বছরে মোট ৬ হাজার ২০০ কোটি টাকার কাজ হয়েছে বিষ্ণুপুরে। ২০২১ এর ভোটে তৃণমূল ৫৮ হাজার ভোটে বিষ্ণুপুর থেকে জেতে। ‘২৪ এর লোকসভা ভোটে বিষ্ণুপুর বিধানসভা থেকে তৃণমূল ৭১ হাজারের বেশি ভোটে লিড পেয়েছিল। এবার বিধানসভা ভোটে ‘২৪ এর লোকসভা ভোটের সেই লিডকেও টপকে গিয়ে জয়ের ব্যবধান বাড়াতে হবে। গত লোকসভা ভোটে বিষ্ণুপুরের ১৫ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের কোনোটাতেই তৃণমূল পরাস্ত হয়নি। এবারও সেই জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.