দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের দিন দুয়েক আগে বাংলায় পা রেখেই চর্চার শিরোনামে যোগীরাজ্যের এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট অজয় পাল শর্মা। বাংলায় ভোট পর্যবেক্ষক হিসেবে আসা এই ‘সিংঘম’ অফিসারকে নিয়ে সোম রাত থেকেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। এবার যোগীরাজ্যের সেই এনকাউন্টার স্পেশালিস্টকে নিয়েই বড় ভবিষ্যদ্বাণী করলেন শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় (Subhashree Ganguly)।

আরও পড়ুন:
বুধবার আরবানার বুথে ভোট দিয়ে বেরিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ সম্বোধন করে বিজেপির উদ্দেশে তোপ দাগেন অভিনেত্রী। তৃণমূল সুপ্রিমোর সঙ্গে মা দুর্গার তুলনা টেনে শুভশ্রী বলেন, “প্রতিবারই মা দুর্গার সঙ্গে প্রচুর মহিষাসুররা লড়াই করতে আসে, কিন্তু জয় হয় মা দুর্গারই। এবারও তাই হবে।” অতঃপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই যে তাঁর কাছে মা দুর্গার রূপ, সেটা নায়িকার মন্তব্যে স্পষ্ট। এরপরই সংবাদমাধ্যমের তরফে ‘সিংঘম’ অফিসার অজয় পাল শর্মাকে নিয়ে প্রশ্ন ছোড়া হলে অভিনেত্রী বলেন, “একজন নেতার স্ত্রী হয়ে না, বরং আমজনতা হিসেবেই বলতে চাই ‘সিংঘম’ বা সিংহ তো মা দুর্গার পায়ের তলায় থাকে। আমাদের এখানে যিনি মা দুর্গা, তাঁরই রাজত্ব চলবে।” কারও নামোল্লেখ না করলেও আকার ইঙ্গিতে ভক্তদের ‘লেডি সুপারস্টার’ বুঝিয়ে দিলেন যে, মমতার পায়ের তলাতেই ঠাঁই হবে ‘সিংঘমে’র।
“এখানে রবীন্দ্রসঙ্গীত চলে। লেখা চলে। কবিতা চলে। আমরা এভাবেই বড় হয়েছি। আমাদের এখানে এনকাউন্টার স্পেশালিস্টের প্রয়োজন পড়ে না। যদি এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট দরকার হয়, তাহলে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে ব্যবহার করুক।”
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন সকাল থেকেই অ্যাকশন মোডে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা। উত্তরপ্রদেশের এই অফিসার ‘সিংহম’ নামেই পরিচিত। এদিন সকাল থেকে তাঁর কনভয় ডায়মন্ড হারবারের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরেছে। সাঁজোয়া গাড়ি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও তাঁর সঙ্গে রয়েছেন। জানা গিয়েছে, ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে তিনি ফলতা সহ ডায়মন্ড হারবার, মগরাহাট (পশ্চিম) বিধানসভা এলাকায় ঘুরে ভোট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। বাংলায় ভোট পর্যবেক্ষক হিসেবে আসা পুলিশ অফিসারের ‘ধমক-চমক’ নিয়ে গত দু’দিন ধরেই রাজনৈতিকমহলে শোরগোল। কেন এমন একজনকে বঙ্গভোটের দায়িত্ব দেওয়া হল? তা নিয়েও বিস্তর প্রশ্ন উঠেছিল। একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হয় তৃণমূলও। এবার এপ্রসঙ্গে রাজ বললেন, “এখানে রবীন্দ্রসঙ্গীত চলে। লেখা চলে। কবিতা চলে। আমরা এভাবেই বড় হয়েছি। আমাদের এখানে এনকাউন্টার স্পেশালিস্টের প্রয়োজন পড়ে না। যদি এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট দরকার হয়, তাহলে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে ব্যবহার করুক।”

রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট শান্তিপূর্ণভাবে করতে নতুন করে মোট ১১ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন। তার মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় সবচেয়ে বেশি – ৩ জন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম আইপিএস অজয় পাল শর্মা। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ডিআইজি এই আইপিএস পরিচিত ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ হিসেবে। এমন একজনকে কেন বঙ্গভোটের দায়িত্ব দেওয়া হল, তা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে তৃণমূল। সম্প্রতি তাঁর একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্র। সেই ভিডিও ভুয়ো বলে দাবি করে পালটা মহুয়ার দিল্লির মন্দির মার্গ সাইবার থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে তৃণমূলের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। মহুয়া নিজেও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। তবে যোগীরাজ্যের এনকাউন্টার স্পেশালিস্টকে নিয়ে যে সরগরম বাংলার রাজ্য রাজনীতি, তা বলাই বাহুল্য।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
জাল লটারি কেলেঙ্কারির তদন্তে বড় সাফল্য, পুলিশের জালে কিংপিন, উদ্ধার লাখ লাখ টাকা
-
দেশের বাজার সুরক্ষিত রাখতে বড় পদক্ষেপ, ডিজেল ও এটিএফের রপ্তানি শুল্ক বাড়াল কেন্দ্র
-
‘ডাঁট’ ডাহা ফেল! সরতেই হচ্ছে যুগ্মসচিব মদনকে, সিএবিতে এবার নির্বাচনী দামামা
-
৩০০ কোটি টাকার মাটি চুরিতেও জড়াল অভিষেকের নাম! এফআইআর বিজেপির ববির
-
রাম লক্ষ্মণ নিয়ে উসকানিমূলক মন্তব্য, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে আইনি জটে প্রকাশ
নিবেদিত


