রাজ্যের ভোটের বাকি আর বড়জোড় তিন সপ্তাহ। ইতিমধ্যে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সুষ্ঠু ও রক্তপাতহীন নির্বাচনের লক্ষ্যে এবার অনেক আগে থেকে রাজ্যে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। তারপরও একাধিক অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিকতম ঘটনা বুধবার গভীর রাতে মালদহের কালিয়াচকে (Kaliachak) জনবিক্ষোভ। আর এতে নির্বাচন কমিশনকেই দায়ী করছেন অনেকে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এনিয়ে রাজ্যের ডিজিপি, মালদহ ও কলকাতার পুলিশ সুপারকে তুলোধোনা করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। কিন্তু তা একেবারেই ব্যুমেরাং। কারণ, ভোটের মুখে আদর্শ আচরণবিধি মেনে এই আইপিএস-দের নিয়োগ করেছে কমিশনই। ফলে নিজেদের নিযুক্ত অফিসারদের এহেন ব্যর্থতায় লজ্জায় মুখ ঢাকতে হচ্ছে জ্ঞানেশ কুমারের টিমকে।
এসআইআরে (SIR News) নাম বাদ পড়ায় কালিয়াচক ২ বিডিও অফিস ঘেরাও থেকে শুরু করে ১২ নং জাতীয় সড়ক অবরোধ – রাতভর কার্যত তাণ্ডব চলে উত্তেজিত জনতার। এর মাঝে বন্দি হয়ে পড়েন এসআইআরের জন্য কাজে যাওয়া বিচারক, জুডিশিয়াল অফিসাররা। ভোরে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনা ঘিরে আপাতত উত্তপ্ত রাজ্যের নির্বাচনী পরিবেশ। তবে এই অশান্তি রুখতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যর্থতা নয়, বরং কমিশনকেই দায় স্বীকার করতে হবে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। এনিয়ে বৃহস্পতিবার সকালেই সুপ্রিম কোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়েছিল কমিশন। প্রধান বিচারপতির মন্তব্য ছিল, সিবিআই বা এনআইএ দিয়ে মালদহের এই ঘটনার তদন্ত হবে। সন্ধ্যায় কমিশনের তরফে সিবিআই তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়। এসবের জেরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের রাগ গিয়ে পড়ে পুলিশ আধিকারিকদের উপর। সকালেই তিনি মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালকে দিল্লিতে ডেকে পাঠান।
আরও পড়ুন:
এদিন কমিশন ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমার প্রশ্ন করেন, মোথাবাড়ির ঘটনা চলাকালীন মুখ্যসচিবকে ফোনে পাননি হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি। তিনি কোথায় ছিলেন? এদিন কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল, স্বরাষ্ট্রসচিব ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা, কলকাতার সিপি অজয় নন্দা, মালদহের পুলিশ সুপারের সঙ্গে বৈঠক করে। জানা গিয়েছে, মালদহ কাণ্ডে নির্বাচন কমিশনের মুখোমুখি রাজ্যের মুখ্যসচিব, পুলিশ কমিশনার, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি। ভারচুয়াল বৈঠকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দাকে জ্ঞানেশ কুমারকে ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়। সূত্রের খবর, অজয় নন্দার উদ্দেশে জ্ঞানেশ কুমার বলেন, ”আপনি কলকাতা সামলাতে পারছেন না, আইপিএস হলেন কী করে? যদি চান অন্য কাউকে দায়িত্ব দিয়ে দেব।” ডিজিকে বলেন, ”আপনি সিনিয়র অফিসার। ভালো করে কাজ করুন। বাংলায় যা হচ্ছে তা মানা যায় না।”
এসবের পাশাপাশি যে সমস্ত ‘বাহুবলী’, ‘দাগি’ নেতারা রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা রয়েছে, তাদের নিরাপত্তা আজ রাতের মধ্যেই প্রত্যাহার করার কথা বলা হয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
পুরদলেও ফাটল, আইনি জটের আশঙ্কা, মমতার পছন্দে মেয়র বাছতে ‘সই’ দিলেন না অধিকাংশ কাউন্সিলর!
-
ছবির দেশ, কবিতার দেশে রূপকথা! ফরাসি ওপেনে প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামের স্বাদ জাভেরেভের
-
পাহাড় থেকে সমতল, ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বাংলা! আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বাসিন্দারা
-
‘একে নেব না, ওকে নেব না বললে হবে না’, বঙ্গে বৃহত্তর হিন্দু ঐক্যের বার্তা বনশলের
-
শ্বাস যন্ত্রে কিছুতেই ফুঁ দিতে পারছেন না মদ্যপ! চড় কষালেন পুলিশকর্মী, ভিডিও ঘিরে বিতর্ক
নিবেদিত


