'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ করে দেবে'
বিজেপিকে বিঁধে মমতা বলেন, "মাছ-মাংস খাওয়া যাবে না! কী পরব, না পরব। এরা বলে দেবে। ওরা এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ করে দেবে। কন্যাশ্রী বন্ধ করে দেবে। সব বন্ধ করে দেবে। স্বাস্থ্যাসাথী সবাই পায়। আর আয়ুষ্মান ভারত মাথায় ছাদ থাকলে পাবে না। ওরা মিথ্যা বলে। আমরা কথা রাখি। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে টাকা বাড়বে বলেছিলাম। মার্চে ব্যাঙ্কে ঢুকেছে। এই ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি তো ওরা পেয়েছিল। কী করেছে? যা করেছি তো আমরা করেছি। একটা কাজও করে না। নেই কাজ তো খৈ ভাজ।"
গ্যাসের দাম নিয়ে বিজেপিকে বিঁধলেন মমতা
ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির ভোটসভা থেকে বিজেপিকে বিঁধলেন মমতা। তাঁর আক্রমণ, "গ্যাসের দাম কত? কোথায় গেল উজালা? দেশটাকে বিক্রি করে দিয়েছে। হাঁদা-ভোঁদা দুই ভাই। আমরা পরিষে বা দিই। ব্যাঙ্কে টাকা দেবে বলেছিল, দিয়েছে। ১৫ লাখ টাকা চাইবেন। তৃণমূল কথা দিলে কথা রাখে। এসআইআরে কত লাইন দেবেন। হয়রান করাতে লাইনে দাঁড় করাচ্ছেন। লজ্জা করে না।"
'এবার দুয়ারে সরকার, হাসপাত়ালে যেতে হবে না'
মমতা বলেন, "আমরা দুয়ারে সরকার করেছি। মানুষের কথা শুনি। কন্যাশ্রী কে দেয়, কৃষকবন্ধু কে দেয়, তৃণমূল সরকার। দুয়ারে স্বাস্থ্য। কষ্ট করে হাসপাতালে যেতে হবে না। বাড়ির কাছেই স্বাস্থ্য ক্যাম্প হবে। ডাক্তার-নার্সরা দেবেন পরিষেবা। জলপাইগুড়ির সঙ্গে নেপাল-ভুটান-বাংলাদেশ ওয়েলকানেক্টেড। গঙ্গাসাগর সেতু-জগন্নাথ মন্দির-দুর্গাঅঙ্গন, ধরে ধরে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে।"
কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সহযোগিতা বার্তা মমতার
ময়নাগুড়ির সভা থেকে মমতা বলেন, " সেন্ট্রাল ফোর্সকে আমি সম্মান করি। মনে রাখবেন, জনগণের শক্তিই আসল শক্তি। বিজেপি এখন দিল্লিতে ক্ষমতায় আছে, পালটে যাবে। আপনারা আপনাদের (কেন্দ্রীয় বাহিনী) কাজ সম্মানের সঙ্গে করুন। যদি ভোটের সময় আপনারা বিজেপির পোলিং এজেন্ট হয়ে গেলে, আমাদের মা-বোনেরা আছেন, তাঁরা দেখে নেবেন। আমরা কিছু করব না। আমরা সহযোগিতা করব।"
এসআইআর প্রসঙ্গে মমতা
এসআইআর প্রসঙ্গে মমতা বলেন, "রাস্তা থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত লড়াই করেছি। যা নাম উঠেছে এজন্য উঠেছে। আমার কৃতিত্ব নেই। মানুষের কৃতিত্ব। আপনুাদের পাগুলোকে প্রণাম জানাই। আমার আরও মিটিং আছে তাই যেতে হবে। মা-বোনেদের প্রণাম জানাই।"
'কে কী খাবে, মেয়েরা কী পরবে ওরা বলবে?'
বিজেপিকে বিঁধে মমতা বললেন, "কে কী খাবে, মেয়েরা কী পরবে ওরা বলবে? আমরা সবাইকে সম্মান করি। আমি সেন্ট্রাল ফোর্সকে সম্মান করি। আপনাদের সঙ্গে সহযোগিতা করব। আজ দিল্লিকে বিজেপি আছে, কাল থাকব না। বিজেপির একজন মন্ত্রী বলে গেছেন, গাছে বেঁধে পেটাবেন। আমি বলি, গাছ আমাদের, অরণ্য আমাদের। গাছ মানুষকে ছায়া দেয়। পোস্টার লাগিয়ে বলতে হবে আমি বিজেপি করি না। দিল্লির দুই ভদ্রলোককে বিদায় দিন। না দিলে দেশ বেচে দেবে।"
'ওরা বিজ্ঞাপনে আছে, আমরা পরিষেবায় আছি'
ওরা শুধু মিথ্যা বলে আর মানুষকে লাইনে দাঁড় করায়। সোশাল মিডিয়ায় প্রচার করে, বিজ্ঞাপন করে। আমরা পরিষেবা দিচ্ছি। আদার কার্ড দেখালে বলছে নো পাপা। ভোটার অধিকার কাড়া ইয়েস পাপা। হয়েছে দুই ভাই (বিজেপি-কমিশন) যত পারে চক্রান্ত করে। আমার মা-বোনেরা রেডি আছে। একজনের নাম বাদ গেলেও দেখে নেব। ভোটচুরি রুখে দেবেন মা-বোনেরা। আপনারা জানেন। ছেলেদের পেছনে রাখবেন। আপনারা সামনে রাখবেন।"
'সব কেড়ে নিয়েছে, আমার হাতে শুধু মানুষ আছে'
মমতা বলছেন, "ময়নাগুড়ি আমার পছন্দের জায়গা। জলপেশ শিবমন্দিরে ৫ কোটির স্কাইওয়াক করে দিয়েছি। নতুন হাসপাতাল হয়েছে। পলিটেকনিক হয়েছে। ময়নাগুড়ি ব্লকে ১৬৩ কোটি খরচে জলপ্রকল্প হয়েছে। ঘরে ঘরে জল পৌঁছে দেব। আমাদের ম্যানিফেস্টোয় আছে। চ্যাংরাবান্দ থেকে জোড়পুখরি ১৪ কিমি রাস্তা মানোন্নয়ন হয়েছে। সব কেড়ে নিয়েছে, আমার হাতে শুধু মানুষ আছে।"
ময়নাগুড়িতে প্রচারে মমতা
মঙ্গলবার চালসায় জনসংযোগের পর আজ ময়নাগুড়িতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জনসভা বক্তব্য রাখছেন তিনি। এবারের বিধানসভা ভোটে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বনাম মমতা বন্দ্যোপাধায়ের এসআইআর সংঘাতই যে সব ইস্যুকে পিছনে ফেলে দিয়েছে সেটা স্পষ্ট হয়েছে আগেই। সেই 'ভ্যানিশ কুমার'কে কাঠগড়ায় তুলেই মঙ্গলবার শুরু হয় তৃণমূল নেত্রীর প্রচারাভিযান। তথ্যপ্রমাণ দিয়ে পর পর প্রশ্ন ও অভিযোগে তাঁকে বিদ্ধ করলেন মুখমন্ত্রী। বললেন, "এই এসআইআরই শেষ করবে বিজেপিকে।"
নিবেদিত


