টিকিট পেয়ে কী বললেন রাজ
টিকিট পেলেন রাজ চক্রবর্তী। বলেন, "ভালোই লাগছে। আবার নতুন করে লড়াই। ৫ বছর আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করছি, আমার বিধানসভা এলাকার মানুষেরা বরাবরের মতো এবারেও আমাকে সমর্থন করবেন। আমার পাশে থাকবেন। আমার এক্তিয়ারের মধ্যে থেকে এযাবৎকাল যতটা চেষ্টা করার বিধায়ক হিসেবে, সেটা করেছি। দলও খুশি। সেই জন্যেই আমাকে দ্বিতীয়বারের জন্য সুযোগ দিয়েছে। এবারও যথাসাধ্য চেষ্টা করব আমি। প্রতিপক্ষ নিয়ে এই মুহূর্তে কোনও ভাবনা নেই। কাজের নীরিখেই লড়াইটা হবে। বারাকপুরে যতটা কাদের প্রয়োজন ছিল, আমি তার ৭০ শতাংশ করতে পেরেছি। কোনও বাকবিতণ্ডার মধ্যে যেতে চাই না। আমি কী করেছি, আর প্রতিপক্ষরা কী করেছে, এবং আমাদের দল মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষকে যে পরিষেবা দিয়েছেন সেটাই সকলের সামনে তুলে ধরা। আর আগামী দিনে কী করতে পারি আমরা, সেটাই এখন লক্ষ্য।" ভোটপ্রচারের পাশাপাশি সিনেমা-সিরিজের শুটিংও চলবে, বলে জানালেন রাজ চক্রবর্তী।
'দার্জিলিংয়ে ৩টে সিট আমরা লড়ছি না'
পাহাড় নিয়ে মমতা বলেন, "দার্জিলিংয়ে ৩ টে সিট আমরা লড়ছি না। আনীত থাপারা আছে, ওদের সঙ্গে আমরা আছি। বাকির২৯১ আসনে আমরা প্রার্থী দিচ্ছি। আমরা তীর্থের কাকের মতো বসে থাকি না। সব একসঙ্গে করে দিলাম। যারা পুরোনো পেলেন না আমায় ভুল বুঝবেন না। তাদের অন্য কাজে লাগাবো। জোটবদ্ধভাবে দলবদ্ধভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই হবে।"
'একজন মহিলা অফিসার, তাকে সরিয়ে দিল। আমার প্রতি এত রাগ?'
কমিশনকে তুলোধোনা করে মমতা বলেন, "গ্যাস নেই কিন্তু ক্যাশ নিয়ে বসে আছে মিটিংয়ের জন্য। এই চেঞ্জ গুলো হয়েছে ক্যাশ ডিস্ট্রিবিউট করার জন্য। একজন মহিলা অফিসার, তাকে সরিয়ে দিল। আমার প্রতি এত রাগ? মতুয়া বাদ, গুজরাটি বাদ, মাড়োয়ারি বাদ। হিন্দু ৫০% মারা গেছে। আপনারা টিকে থাকবেন তো? আমাদের কনফিডেন্স আছে আমরা জিতব, কারণ ৩৬৫ দিন আমরা মানুষের সঙ্গে আছি। প্ল্যান করে বসিয়েছে, জেল থেকে দেখবে। বর্ডার থেকে কাউকে ঢুকিয়ে বাংলায় যদি অসম্মান করেন তাহলে দায়িত্ব কিন্তু আপনাদের নিতে হবে।"
'দাঙ্গা লাগানোর কোনও প্ল্যান আছে নাকি?'
বিজেপিকে বিঁধে মমতা বললেন. "দাঙ্গা লাগানোর কোনও প্ল্যান আছে নাকি? এখনও সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট বের করেননি। ট্রাইব্যুনাল কবে হবে? কেস এখনও পেন্ডিং। আমি করেছিলাম কেস। আরএসএস এর কিছু লোক এনেছে। হরিয়ানা থেকে এনেছে। টনসিল বলে কাউকে এনেছে। যাতে টাকা ডিস্ট্রিবিউট করতে পারে। দাঙ্গা লাগাতে পারে। আমরা এখানে সবাই সম্প্রতি নিয়ে থাকি। দাঙ্গা লাগানো প্ল্যান। গায়ের জোরে সবাইকে বলছেন সেন্ট্রাল ডেপুটেশনে পাঠাও। জল কে দেখবে, পাওয়ার লোডশেডিং হলে কে দেখবে। কোথাও কিছু হলে আমায় দোষ দেবেন না। এদের টুঁটি চেপে ধরবেন। ২০২৬ এ ২২৬ এর বেশি সিট পেয়ে জিতব। মেঘের আড়ালে যিনি খেলছেন তিনি প্রার্থী হয়ে যান। সবই তো হয়ে গেল, আর কেন? এত তাড়াহুড়ো কেন? বাংলার জন্য এত হাংলামি কেন? আমি ভোটের পর সব রাজ্যে যাব। গণ আন্দোলন করব। বয়কট বিজেপি, ভোট ফর বাংলা। ভোট ফর জোরাফুল, বিজেপি দেখবে সর্ষে ফুল। বাংলাকে অপমানের জবাব দেওয়ার জন্য সবার কাছে অনুরোধ করছি।"
কমিশন, বিজেপিকে বিঁধলেন মমতা
মমতা বলেন, "বিজেপিকে অনুরোধ, গ্যাসের সংকট না করে, বাইরে থেকে লক্ষ লোক না এনে আসুন না, রাজনৈতিকভাবে লড়াই হোক। অহিংস ভাবে গণতন্ত্রের লড়াই হোক। কমিশনকে বলব, মুখ্যসচিব, ডিজি. এসপি সব বদলে দিলেন। খেলাটা বিজেপির কথায় না লড়ে সরাসরি আসুন না। মনে রাখবেন সব অফিসারই বাংলার অফিসার। বাংলার কাজ করে। এটা বাংলার অস্মিতা রক্ষার লড়াই। তারপরও বাংলার মানুষ জিতবে, দিল্লির লাড্ডু জিতবে না। কোন অফিসার কোথায় কী কাজ করে কোথায় কী আছে সেগুলো তো অফিসাররা জানত। জলের সংকট জানত বাহিনীর লোকেরা কোথায় খাবে, তাদের জন্য গ্যাসের সংকট হলে? প্রধানমন্ত্রীর কথায় বলি, যা আঘাত করছেন তত প্রত্যাঘাত আসবে। বাঙালি অফিসারদের সরিয়ে দিয়েছেন। আর নন বেঙ্গলি আমার ভাই বোনদের সরিয়ে দিয়েছেন। যাদের এনেছেন তারা কি টাকা ভাগ করবে? এই ঈদের সময় এত লোককে সরালেন।"
কালীঘাটের 'পয়া' প্রেসরুম থেকে তালিকা প্রকাশ
যে ঘরে মমতা বরাবর সাংবাদিক বৈঠক করেন সেই পুরোন ছোট ঘর থেকেই প্রার্থী ঘোষণা করবেন তৃণমূলনেত্রী। ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই অফিস থেকেই প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছিলেন তিনি। মমতার বাসভবনে পৌঁছেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর কিছুক্ষণের মধ্যে তৃণমূলের তালিকা ঘোষণা করবেন নেত্রী।
নজরে দুই ২৪ পরগনা, বেহালা পশ্চিমে পার্থর পরিবর্তে কে?
এক জেলায় ৩৩, আরেকটায় ৩১। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা – এই দুই জেলাতেই সর্বাধিক বিধানসভা আসন। অঙ্কের সহজ হিসেব বলে, বঙ্গে এই ৬৪ আসনের সিংহভাগ যে দখলে রাখতে পারবে, বঙ্গ বিজয়ে সে-ই এগিয়ে যাবে কয়েক কদম। শাসক শিবিরের শক্ত ঘাঁটি এই দুই জেলায় বরাবর চুলচেরা হিসেবনিকেশ করেই প্রার্থী বাছাই করে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC Candidate List)। ছাব্বিশের ভোটেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার সামান্য রদবদল করেই দাপট জিইয়ে রাখতে চাইছে শাসকদল। সূত্রের খবর, বেশ কয়েকটি আসনে প্রার্থী বদল হচ্ছে তৃণমূলের।
দক্ষিণ ২৪ পরগনায় একমাত্র বিরোধী আসন ভাঙড়। এখানকার বিধায়ক আইএসএফের নওশাদ সিদ্দিকি। আসনটি পুনরুদ্ধার করতে এখানে জোরদার লড়াইয়ে নামছে তৃণমূল। শোনা যাচ্ছে, ভাঙড় থেকে এবারের প্রার্থী করা হচ্ছে ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লা। তাঁর বদলে এই কেন্দ্রে লড়বেন অন্য কেউ।
আরও দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বেহালা পূর্ব ও বেহালা পশ্চিম। দুটি কেন্দ্রই ছিল একদা দুই মন্ত্রীর দখলে। বেহালা পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক ছিলেন প্রাক্তন মেয়র-মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়। তিনি বিজেপিতে চলে যাওয়ার পর ওই কেন্দ্রে বিধায়ক হন স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়। আর বেহালা পশ্চিমে ছিলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। শিক্ষা দুর্নীতিতে জেলযাত্রার পর দল তাঁর সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছিল। শোনা যাচ্ছে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে আর প্রার্থী করতে নারাজ তৃণমূল। তাঁর বদলে কেন্দ্র বদল করে রত্না চট্টোপাধ্যায়কে বেহালা পশ্চিমের প্রার্থী করা হতে পারে। বেহালা পূর্বের প্রার্থী হতে পারেন অভিজ্ঞ শুভাশিস চক্রবর্তী।
তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন পরমব্রত!
রাজনীতি আর গ্ল্যামার দুনিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তারকাদের রাজনৈতিক ময়দানে অবতরণের খবর নতুন নয়! এযাবৎকাল বহু তারকা সাংসদ-বিধায়ক পেয়েছে দেশবাসী। সে বলিউড হোক কিংবা বাংলা সিনেইন্ডাস্ট্রি। ভোটবাক্স ভারী করতে প্রচারের ময়দানে তারকামুখের ঝলক, নতুন নয়। এবার ছাব্বিশের বিধানসভা ভোট দুয়ারে কড়া নাড়তেই বাংলার রাজ্য-রাজনীতিতে বড় চমক! খবর, তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রার্থী ঘোষণার দিনই জোড়াফুল শিবিরে যোগ দিচ্ছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়।
নন্দীগ্রামে মাস্টারস্ট্রোক তৃণমূলের
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে ভিন্ন কৌশল নিচ্ছে শাসক শিবির। সূত্রের খবর, সেই নীতি ‘কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা’র। শুভেন্দু অধিকারীকে ধরাশায়ী করতে শাসকের হাতিয়ার ভূমিপুত্র। একদা শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ নেতা, নন্দীগ্রামের বয়ালের বাসিন্দা পবিত্র করকে এবার নন্দীগ্রামের প্রার্থী করতে চলেছে ঘাসফুল শিবির।
কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রার্থী তালিকা
আর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিধানমসভা নির্বাচনের প্রর্থী তালিকা ঘোষণা করবে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। কে দাঁড়াবে কোন কেন্দ্রে? চমক থাকছে কোথায়? স্পষ্ট করে দেবেন দলনেত্রী সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালিঘাটের দলীয় দপ্তর থেকেই ২৯৪ আসনের তালিকা দেবেন তৃণমূলনেত্রী।
নিবেদিত


