এগারো সালে বামদূর্গ ধসে যাওয়ার পর তৎকালীন ‘পরিবর্তনের ট্রেন্ডে’ ২০১৪ সালে তৃণমূলের হাত ধরে রাজনৈতিক ইনিংস শুরু করেন টলিউড সুপারস্টার দেব (Dev)। সময় যত গড়িয়েছে রাজনীতির পিচে ‘পরিণত দেব’কে দেখে ততোধিক বিস্মিত হয়েছে বঙ্গবাসী। একযুগের রাজনৈতিক কেরিয়ারে সাংসদ হিসেবে পরপর তিনবার হ্যাটট্রিক করেছেন একেবারে নিজস্ব ক্যারিশমাতেই। কিন্তু ছাব্বিশের নির্বাচনে বাংলায় গেরুয়া ঝড় বইতেই কালিমালিপ্ত তারকার ইমেজ!
এই বিষয়ে আরও খবর
নেটভুবনে দাবানল গতিতে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিও দেখে প্রশ্ন উঠেছে, দেবের মতো ‘সৌজন্যের রাজনীতি’ করা সাংসদের কি এমন আচরণ প্রাপ্য? কারণ ১২ বছরের রাজনৈতিক ইনিংসে টলিউড সুপারস্টার দেখিয়ে দিয়েছেন সৌজন্যতা কাকে বলে? একদিকে যেমন প্রচারমঞ্চে কোনোদিন বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে কোনওরকম অপশব্দ প্রয়োগ করেননি, তেমনই রাজনৈতিক সংস্কৃতি কলুষিত করার অভিযোগও কখনও ওঠেনি দেবের বিরুদ্ধে।
তৃণমূলের বিধ্বংসী হারের পর সোশাল পাড়ায় ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, দেবকে ঘিরে চোর চোর স্লোগান উঠেছে। পরনে কালো টিশার্ট। চোখেমুখে গাম্ভীর্য। নিরাপত্তা বলয় বেষ্টিত হয়ে মাথা হেঁট করে করজোড়ে ভিড় এড়ানোর চেষ্টা করছেন সুপারস্টার। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল, তবে নেটভুবনে দাবানল গতিতে ছড়িয়ে পড়া ওই ক্যামেরাবন্দি মুহূর্ত দেখে প্রশ্ন উঠেছে, দেবের মতো ‘সৌজন্যের রাজনীতি’ করা সাংসদের কি এমন আচরণ প্রাপ্য? কারণ ১২ বছরের রাজনৈতিক ইনিংসে টলিউড সুপারস্টার দেখিয়ে দিয়েছেন সৌজন্যতা কাকে বলে? একদিকে যেমন প্রচারমঞ্চে কোনোদিন বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে কোনওরকম অপশব্দ প্রয়োগ করেননি, তেমনই রাজনৈতিক সংস্কৃতি কলুষিত করার অভিযোগও কখনও ওঠেনি দেবের বিরুদ্ধে। সে চব্বিশের লোকসভা হোক বা একুশ কিংবা ছাব্বিশের বিধানসভা ভোট, সবক্ষেত্রেই দলনেত্রীর কাজের খতিয়ান দেখিয়ে আমজনতার কাছে ভোটপ্রার্থনা করেছেন সুপারস্টার সাংসদ। আর তৃণমূলের হারের পর সেই নেতা-অভিনেতার সঙ্গেই কিনা অভব্য আচরণ? ভিডিও দেখে ভক্তদের একটাই অনুরোধ, ‘দয়া করে, আপনি এবার রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান।’ কারও বা আর্জি, ‘এবার থেকে শুধু সিনেমার পর্দাতেই দেখতে চাই আপনাকে।’ এহেন নানা মন্তব্যে ছেয়ে গিয়েছে নেটভুবন।

শত দৌড়াদৌড়ি সত্ত্বেও রাজনীতির বক্স অফিসে ধাক্কা খেয়েছে দল। এমনকী নিজস্ব গড় ঘাটালেও গেরুয়া নিশান আটকাতে ব্যর্থ হয়েছেন। যদিও ওয়াকিবহালমহলের অন্দরে ফিসফাস, আসলে জোড়াফুল ম্যাজিক নয়, প্রচারের পিচে এহেন জনস্রোত স্রেফ ‘খোকা’কে দেখার জন্যেই। কিন্তু জনতার এহেন রোষ যে ‘অভিনেতা দেবে’র জন্য নয়, বরং ‘রাজনীতিক দেবে’র জন্য, সেটা স্পষ্ট।
আসলে আমজনতার কাছে তিনি ‘রাজনীতিক দেবে’র থেকেও অনেক বেশি শ্রদ্ধেয়, ভালোবাসার পাত্র ‘মানুষ দেব’। যখনই যেখানে গিয়েছেন অভিনেতাকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছে আমজনতা। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আবহেও লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশনের দুনিয়া ছেড়ে রাজ্যজুড়ে প্রচারের পিচে ঝড় তুলেছিলেন দেব। কাঠফাটা গরম উপেক্ষা করেই কখনও আকাশপথে, কখনও গাড়িতে, আবার কখনও বা পায়ে হেঁটেই আমজনতার দুয়ারে পৌঁছে গিয়েছিলেন তৃণমূলের সুপারস্টার সাংসদ। ‘সৌজন্যের পোস্টার বয়’কে দেখতে রাজ্যের উত্তর বলয় থেকে দক্ষিণে ভিড়ও উপচে পড়েছিল। এহেন জনসুনামির সাক্ষী দেব নিজেও প্রচারের মাঠে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘যেখানেই গিয়েছি জনতার প্রতিক্রিয়াই বলে দিচ্ছে ভোটের ফল।’ কিন্তু শত দৌড়াদৌড়ি সত্ত্বেও রাজনীতির বক্স অফিসে ধাক্কা খেয়েছে দল। এমনকী নিজস্ব গড় ঘাটালেও গেরুয়া নিশান আটকাতে ব্যর্থ হয়েছেন। যদিও ওয়াকিবহালমহলের অন্দরে ফিসফাস, আসলে জোড়াফুল ম্যাজিক নয়, প্রচারের পিচে এহেন জনস্রোত স্রেফ ‘খোকা’কে দেখার জন্যেই। কিন্তু জনতার এহেন রোষ যে ‘অভিনেতা দেবে’র জন্য নয়, বরং ‘রাজনীতিক দেবে’র জন্য, সেটা স্পষ্ট। উল্লেখ্য, এই ভাইরাল ভিডিও কবেকার, সেটাও অস্পষ্ট।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
‘সরকারের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ’, ‘৯৮ শতাংশ’-এর দাবি উড়িয়ে বিধানসভা অভিযানে ঝাড়খণ্ডের পড়ুয়ারা
-
‘অভিনেতা হিসেবেই অনন্তকাল থেকে যেতে চাই’, অনন্ত সিংহর বায়োপিক নিয়ে আড্ডায় জিৎ
-
প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাট করলেও সংশয় কাটল না, শ্রীলঙ্কায় প্রথম টেস্টে খেলবেন গিল? মুখ খুললেন কোচ
-
বিএসএফের বৈঠক নিষ্ফলা, এখনও বাংলাদেশে বন্দি ভারতীয় চাষি
-
বন্যায় কাঁদছে অসম! এখনও ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষাধিক মানুষ, ১১ হাজার হেক্টর কৃষিজমি জলমগ্ন, মৃত ১০০
নিবেদিত






