Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩
  • বুধবার
  • ১ জুলাই ২০২৬
Jadavpur Incident

‘এটা দুর্ঘটনা, ইচ্ছাকৃত নয়’, ব্রাত্যর আন্তরিকতায় মুগ্ধ ইন্দ্রানুজের মা-বাবা

আন্দোলনকারী ছাত্রদেরও মন্ত্রীর গাড়ি আটকে তাণ্ডব-হামলা ঠিক হয়নি বলেও মনে করেন ইন্দ্রানুজের মা।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৪, ২০২৫, ২১:১৩

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৪, ২০২৫, ২১:১৩

options
link
‘এটা দুর্ঘটনা, ইচ্ছাকৃত নয়’, ব্রাত্যর আন্তরিকতায় মুগ্ধ ইন্দ্রানুজের মা-বাবা zoom

কৃষ্ণকুমার দাস: ‘আমি এটাকে অ‌্যাক্সিডেন্ট হিসাবেই দেখছি। তবে ইচ্ছাকৃত নয়। এবং এটা কেউই চায়নি।’
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত‌্য বসুর গাড়িতে ছেলের আহত হওয়া নিয়ে মঙ্গলবার খোলাখুলি এভাবেই নিজের বক্তব‌্য জানিয়েছেন যাদবপুর-কাণ্ডের বিতর্কিত ছাত্র ইন্দ্রানুজের মা বর্ণালী রায় বসু। শুধু তাই নয়, শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি গভীর আস্থা ও বিশ্বাস রেখে আন্দোলনকারীদের কটাক্ষ করে তাঁর স্পষ্ট দাবি, “সেদিন আচমকাই মন্ত্রীমশাইকে গাড়িতে তুলে দেওয়ায় ব্রাত‌্যবাবু হয়তো খানিকটা বিহ্বল ছিলেন। আমার বিশ্বাস, যদি উনি জানতেন এমন অ‌্যাক্সিডেন্ট হবে, তবে উনি কিছুতেই ওঁর গাড়ি চালাতে দিতেন না।”

আন্দোলনকারী ছাত্রদেরও এ ভাবে মন্ত্রীর গাড়ি আটকে রেখে এমন আচরণ (তাণ্ডব-হামলা) করা ঠিক হয়নি বলেও মনে করেন সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ফিজিওলজির অধ‌্যাপিকা বর্ণালীদেবী। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এদিন ইন্দ্রানুজের মা স্বীকার করেন, “শনিবার ঘটনার পর মোবাইলে ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছে। ও (ইন্দ্রানুজ) আমাকে নিজেই জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী কিন্তু সেদিন খুব ভালো করেই ইন্দ্রানুজের সঙ্গে কথা বলেছিলেন।” বাম ও অতিবামের তরফে মিটিং-মিছিলে গত চারদিন ধরে যে অপপ্রচার করে বলা হচ্ছে, “শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে ছাত্ররা সেদিন যাদবপুরে আলোচনা করতে চেয়েছিল, কিন্তু ব্রাত‌্য বসু কথা বলেননি।” অবশ‌্য এদিন যাকে সামনে রেখে মহম্মদ সেলিমরা যাদবপুর নিয়ে রাজনীতিতে ভেসে থাকতে চাইছেন, সেই মাওপন্থী ছাত্র ইন্দ্রানুজের মা বামেদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “ছেলেই জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী সেদিন আমাদের সঙ্গে খুব ভালো করে কথা বলেছিলেন।” বর্ণালী রায়ের এমন স্বীকারোক্তির পর বাম ও অতিবামের তরফে বিষয়টি নিয়ে রাত পর্যন্ত কেউই কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

একই সঙ্গে এদিন ইন্দ্রানুজের বাবা অমিত রায় জানিয়েছেন, “সোমবার রাতে শিক্ষামন্ত্রী নিজে ফোন করে ছেলের খবর নিয়েছেন, খুবই সহানুভূতির সঙ্গে খুঁটিনাটি জেনেছেন। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলে ছেলের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী কথা বলতে চান বলে জানিয়েছেন।” বস্তুত এর পরই ইন্দ্রানুজের বাবা অমিত রায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বাম ও অতিবামেদের মতো তিনি শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত‌্য বসুর পদত‌্যাগ চান না। তাঁর কথায়, “যে ঘটনা ঘটেছে, তা অনভিপ্রেত ঠিকই, তবে এর জন‌্য আমি শিক্ষামন্ত্রীর পদত‌্যাগ চাই না।”

যাদবপুর বিশ্ববিদ‌্যালয়ে পূর্বনির্ধারিত এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া অধ‌্যাপকদের একটি সভায় শনিবার যোগ দিতে গিয়ে বাম ও অতিবাম ছাত্রদের হামলার মুখে পড়েন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত‌্য বসু। তাঁর গাড়ির কাচ ভেঙে দেওয়া হয়। অধ‌্যাপকদের সংগঠন ওয়েবকুপার অভিযোগ, ‘যাদবপুরের প্রয়াত প্রাক্তন উপাচার্য গোপাল সেনের মতোই বিশ্ববিদ‌্যালয় ক‌্যাম্পাসেই ব্রাত‌্য বসুকে খুনের ছক কষেছিল বাম ও অতিবাম ছাত্ররা।’ এখানেই শেষ নয়, বামেদের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীর গাড়িতে পিষ্ট হয়েছেন বিশ্ববিদ‌্যালয়ের ইংরেজি অনার্সের প্রথম বর্ষের ছাত্র ইন্দ্রানুজ রায়। যদিও ডাক্তারি এক্স-রে রিপোর্ট এবং ভিডিও ফুটেজ, দুই ক্ষেত্রেই স্পষ্ট প্রমাণ হয়ে গিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীর গাড়িতে পিষ্ট হওয়ার কোনও ঘটনা ঘটেনি। ইন্দ্রানুজের শরীরে বা মাথার করোটিতে কোনও ‘ফ্র‌্যাকচার’ নেই। যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইন্দ্রানুজ, সেই কেপিসি মেডিক‌্যাল কলেজের চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞরাও জানিয়েছেন, আহত ছাত্রের বাম চোখের কোনায় সেলাই থাকলেও ‘ম‌্যাক্সিলোফেসিয়াল’ অর্থাৎ মুখমণ্ডলে কোনও ফ্র‌্যাকচার নেই।

স্বভাবতই ছেলের আহত হওয়ার বিষয়টি যে দুর্ঘটনা এবং ইচ্ছাকৃত নয়, তা স্পষ্ট করে দিয়ে ইন্দ্রানুজের মা বর্ণালীদেবী বলেছেন, “শনিবার যে ঘটনা ঘটেছে, তা নিঃসন্দেহে দুর্ঘটনা, কখনওই তা ইচ্ছাকৃত নয়।” ইন্দ্রানুজের আঘাত নিয়ে মায়ের দাবি, “সেদিন বিশৃঙ্খলার মধ্যে ইন্দ্রানুজ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। ছেলের বাম চোখের কোণে আঘাত নিয়ে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভারী কিছুর আঘাত লেগেছে। তবে তা গাড়ির না অন‌্য কিছুর, সেটা চিকিৎসকরা বলতে পারেননি।” পুলিশের কাছে যে ভিডিও এসেছে, তাতে অবশ‌্য দাবি করা হয়েছে পড়ে গিয়ে স্কুটিতে আঘাত লেগে চোখের কোনা কেটে গিয়েছে ইন্দ্রানুজের। ছেলের আঘাতের খবর জানতে চেয়ে ফোন করা শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত‌্য বসুকে ইন্দ্রানুজের বাবা তথা রাজাবাজার সায়েন্স কলেজের অধ‌্যাপক অমিত রায় অনুরোধ করেছেন, “আপনার উপর হামলার অভিযোগে যে সমস্ত ছাত্রের নামে এফআইআর হয়েছে, তাদের মামলা থেকে অব‌্যাহতি দিলে খুব ভালো হয়।” এই অনুরোধ শিক্ষামন্ত্রী বিবেচনা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন, এমনই দাবি জখম ছাত্রের বাবার।

বামেরা যে তাঁর ছেলেকে সামনে রেখে শিক্ষামন্ত্রীর গাড়িতে পিষ্ট হওয়ার মতো মিথ‌্যা অভিযোগ তুলে রাজনীতি করছে, তা একদম পছন্দ নয় সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ফিজিওলজির অধ‌্যাপিকার। তাঁর কথায়, “আমি শিক্ষা জগতের লোক। আমি কোনও রাজনৈতিক তরজায় যাব না। শিক্ষামন্ত্রী গতকাল ওর বাবাকে ফোন করে সহানুভূতি জানিয়েছেন। তাই অন‌্যদের রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আমি একেবারেই আগ্রহী নই।” সংবাদমাধ‌্যমের এক প্রশ্নের উত্তরে বর্ণালীদেবী জানিয়েছেন, “শনিবারের ঘটনার পর হাসপাতালে ভর্তি ছেলের সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী সেদিন যে ইন্দ্রানুজদের সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলেছিলেন, তা যেমন জানিয়েছে, একই সঙ্গে এটাও জানিয়েছে কয়েকজন মিলে জোর করে কথা বলার পরই শিক্ষামন্ত্রীকে গাড়িতে তুলে দিয়েছিল।” এর পরই ইন্দ্রানুজের মা বলেন, “যাঁরা সেদিন শিক্ষামন্ত্রীকে গাড়িতে তুলে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, তাঁরা যদি ছেলেগুলোকেও সরিয়ে দিতেন, তা হলে ভালো হত।” এর পরই শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশ করে সুরেন্দ্রনাথের অধ‌্যাপিকা বলেন, “কেউই চাইবে না কাউকে চেপে দিয়ে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যেতে।”

প্রথমে টিভির পর্দায় ছেলের রক্তাক্ত মুখমণ্ডল দেখে কিছুটা ভয় পেলেও এদিন কেপিসি মেডিক‌্যালের চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে বর্ণালীদেবী অনেকটাই আশ্বস্ত হয়েছেন। কারণ, চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ এবং নিউরো চিকিৎসকরা তাঁকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ছেলের মাথা ও মুখমণ্ডলে যেমন কোনও ফ্র‌্যাকচার নেই, তেমনই অন‌্য কোনও গুরুতর আঘাত নেই। স্বভাবতই উদ্বেগহীন হয়ে ঘরে ফিরেছেন ইন্দ্রানুজের মা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.