অর্ণব আইচ: প্রচণ্ড গরমে তাদেরও কাজের অন্ত নেই। কিন্তু গরমে তাদের শরীর অসুস্থ না হয়ে পড়ে, তার জন্য তাদের মেনুতে টক আর লোমশ শরীরে যাতে তাদের কষ্ট না হয়, তার জন্য হ্যান্ডলারদের সঙ্গে থাকছে কুলিং জ্যাকেট আর আইস বক্স। দই আবশ্যিক। কলকাতা পুলিশের সারমেয় বাহিনীর সদস্যদের স্বস্তি দেওয়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে লালবাজার। একইসঙ্গে সতর্ক হয়েছে রাজ্য পুলিশও। কলকাতা-সহ এ রাজ্যের প্রত্যেকটি জেলা এবং কমিশনারেটে তদন্তের সাহায্যের জন্য রয়েছে পুলিশ কুকুর। প্রচণ্ড গরম পড়ার শুরু থেকেই সারমেয় বাহিনীর জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ। সূত্রের খবর, সব ক্ষেত্রেই কুকুরদের মেনুতে আবশ্যিক হয়েছে টক দই। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দিনের বেলায় টক দই দেওয়া হয়।
লালবাজারের সূত্র জানিয়েছে, এই ব্যাপারে চিকিৎসকদের পরামর্শকেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কোন ব্রিডের কুকুরকে কতটা দই দেওয়া হবে, তা চিকিৎসকরাই জানিয়ে দিয়েছেন পুলিশ হ্যান্ডলারদের। সেইমতো তাদের দেওয়া হচ্ছে দই। এছাড়াও তাদের মেনুতে থাকছে হালকা খাবারও। পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, সকাল ও বিকেলে ঠান্ডা জলে প্রত্যেকটি সারমেয়র সাঁতারের উপর দেওয়া হচ্ছে গুরুত্ব। কুকুররা জন্মগতভাবেই ভালো সাঁতারু। কলকাতা পুলিশের পিটিএসে কুকুরের কেনেলের কাছেই রয়েছে তাদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি সুইমিং পুল। এখন কলকাতা পুলিশের কেনেলে রয়েছে ৪১টি সারমেয়। ডিউটির সময়টুকু বাদে দিলে কখনও একবার, আবার গরম বুঝে কখনও দিনে দু’বারও তাদের নামিয়ে দেওয়া হয় সুইমিং পুলে। ব্যাচ হিসাবে তাদের সাঁতার কাটতে দেওয়া হয়। তাতে ঠান্ডা হয় তাদের শরীর। এছাড়াও জেলার ক্ষেত্রেও কোনও পুল বা পুকুরে যাতে তারা সাঁতার কাটতে পারে, সেই ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
পুলিশ কুকুরদের ডিউটির সময়ও কমানো হচ্ছে। সাধারণত এই কুকুরগুলি বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ও ট্র্যাকার। শুধু কোথাও সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধার হলেই যে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ কুকুরদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়, এমনটা নয়। ভিআইপি ও ভিভিআইপিদের লাইন অফ রুট ও যে জায়গাগুলি তাঁদের গন্তব্য, সেখানেও কোনও নাশকতা যাতে না হয়, তার জন্য বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ সারমেয়রা আগাম পরীক্ষা করে। এক্ষেত্রে দুপুরের আগেই যাতে তাদের ডিউটি শেষ হয়, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যদিও ট্র্যাকার ডগ বা গন্ধ শুঁকে খুনি ধরার কাজে যাদের কাজে লাগানো হয়, তাদের রোদের মধ্যেও প্রয়োজনে বের হতে হলে সঙ্গে যাচ্ছে কুলিং জ্যাকেট ও আইস বক্স। ওই জ্যাকেটের ভিতর বরফ পুরে রাখা যায়। কোনও সারমেয় যদি অসুস্থ বোধ করে, সঙ্গে সঙ্গেই তাকে পরিয়ে দেওয়া হচ্ছে ওই কুলিং জ্যাকেট।
এদিকে লালবাজার জানিয়েছে, প্রত্যেকদিনই পুলিশ কুকুরদের প্র্যাকটিস বা মহড়া হয়। গরমের মধ্যে ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত চলে তাদের মহড়া। এরপর ফের বিকেল সাড়ে চারটে থেকে চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এর মাঝের সময়ে যাতে তাদের গরম না লাগে, তার জন্য তাদের ঘর বা কেনেলে বসানো হয়েছে চারটি কুলার। তবে গরম ও ঠান্ডায় যাতে সারমেয়রা অসুস্থ না হয়ে পড়ে, তার জন্য চিকিৎসকরা তাদের পরীক্ষা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
Copyright © 2025 Sangbad Pratidin Digital Pvt. Ltd. All rights reserved.