রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়: খুইয়েছিলেন পদ! দলীয় কার্যালয়ের ঘর থেকে খুলে নেওয়া হয়েছিল নেমপ্লেট। এমনকী সেই ঘরের এসি-টিভিও খুলে নেওয়া হয়েছিল। সবমিলিয়ে দলের অন্দরেই কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে আচমকা ভোলবদল! মঙ্গলবার অন্য ভূমিকায় দেখা গেল দিলীপকে। বিধানসভায় বিজেপি বিধায়কদের ‘ক্লাস’ নিলেন তিনি। যা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে কি তাপসী মণ্ডলের দলবদলের পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্ব নিয়ে সন্দিহান দলীয় নেতৃত্ব? আর তাই ধীরে ধীরে বঙ্গ বিজেপির রাশ হাতে নিচ্ছেন দিলীপ ঘোষ?
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে এদিন সকালে বিধানসভায় হাজির হন দিলীপ। শুভেন্দু অধিকারীর ঘরে উপস্থিত হন। সূত্রের দাবি, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশেই দিলীপকে আমন্ত্রণ করেছিলেন বিরোধী দলনেতা। বিধানসভায় সন্দেশ এনেছিলেন দিলীপ। সেই সন্দেশ খান শুভেন্দু। তারপর দীর্ঘ আলাপ আলোচনা দুজনের মধ্যে। উপস্থিত ছিলেন বিজেপির অন্য বিধায়করাও। তাঁদের ‘ক্লাস’ নেন দিলীপ। জনসংযোগের পাঠ দেন তিনি। বলেন, চা চক্র করতে হবে। বাজারে বেরতে হবে। মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে। মোট কথা, যেখানে যে ওষুধ কাজে লাগে তা ব্য়বহার করতে হবে। শুভেন্দুর পাশে বসে দিলীপ ঘোষের এই সক্রিয়তা রাজনীতির কারবারিদের চোখ টেনেছে।
উনিশে বাংলায় চোখ ধাঁধাঁনো ফল করেছিল বঙ্গ বিজেপি। তখন রাজ্যের গেরুয়া শিবিরের হাল ছিল দিলীপ ঘোষের হাতে। কিন্তু একুশে সেইমতো ফল হয়নি। এরপর রাজ্য বিজেপির সভাপতি বদল করা হয়। দিলীপের হাত থেকে ব্যাটন যায় সুকান্ত মজুমদারের হাতে। এদিকে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হন শুভেন্দু। তারপর থেকেই ক্রমে অস্তাচলে দিলীপ-রাজ। শুভেন্দু-সুকান্তদের সঙ্গে ক্রমে দূরত্ব বাড়ছিল দিলীপ ঘোষের। দলেও কোণঠাসা হচ্ছিলেন। তবে ছাব্বিশের আগে আচমকাই পুনরুত্থান তাঁর। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে বিধানসভায় হাজির হয়ে ‘ভোকাল টনিক’ দিলেন। দিন কয়েক আগে তৃণমূলে ফিরে যান হলদিয়ার বিধায়ক তাপসী মণ্ডল। শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরেই বিজেপিতে এসেছিলেন তিনি।
ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, তাপসীর দলবদলই কি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল শুভেন্দু অধিকারীর যোগ্যতাকে? নিখিল রাজ্য নেতা হতে ব্যর্থ হলেন তিনি? তাঁর বদলে ফের দিলীপ ঘোষ চলে এলেন আলোচনার কেন্দ্রে? তবে কি তিনিই বঙ্গ বিজেপির পরবর্তী রাজ্য সভাপতি? এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষ বলেন, “দুটো ইনিংস খেলে ফেলেছি। তবে যে কোনও নতুন ইনিংসের জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকি।”
সর্বশেষ খবর
-
‘শীঘ্রই খুন হবেন’, এবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে চিঠি ‘জঙ্গি’দের, প্রাণ বাঁচাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি
-
ক্ষত না শুকনো পর্যন্ত নেপালে ত্রাণ বিলোবেন সোনু সুদ, কাঠমাণ্ডু পৌঁছে কী বার্তা ‘মসিহা’র?
-
যাদবপুরে আর যত্রতত্র দেওয়াল লিখনে ‘না’! ‘জাতীয় সংহতি’ বজায় রাখতে খোলা চিঠি উপাচার্যের
-
পাঁচ দশকে ভুটান পাহাড়ে পাঁচশোর বেশি হিমবাহ বিলুপ্ত! নেপালের মতো ভয়ঙ্কর হড়পাবানের অশনিসংকেত সিকিমেও!
-
ধুলিয়ান পুরসভায় অনাস্থা প্রস্তাব, ১৫-০ ভোটে অপসারিত পুরপ্রধান