দীপঙ্কর মণ্ডল: আসলের সঙ্গে হুবহু মিলে গেল চলতি বছরের মাধ্যমিকের বাংলা পরীক্ষার ভাইরাল প্রশ্নপত্র। এতেই ফের অস্বস্তি বাড়ল মধ্যশিক্ষা পর্ষদের। পর্ষদের নিরাপত্তার ঘেরাটোপে যে অজস্র ফাঁকফোকর ছিল, প্রথম পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসেই তা প্রমাণিত। যদিও এ প্রসঙ্গে পর্ষদের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
মঙ্গলবার বেলা ১২ টায় শুরু হয় মাধ্যমিকের প্রথম ভাষার পরীক্ষা। কিছুক্ষণের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে বাংলার প্রশ্নপত্রের কয়েকটি পাতা। মুহূর্তেই প্রশ্নফাঁসের খবর ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু ভাইরাল প্রশ্নপত্রটিতেই পরীক্ষা হচ্ছে কি না, প্রথম থেকেই তা নিয়ে সংশয় ছিল। পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে আদতে আসল প্রশ্নটিই ভাইরাল হয়েছে কি না সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছিল না। কিন্তু পরীক্ষা শেষ হতেই দেখা গেল যে, হুবহু মিলে যাচ্ছে দুটি প্রশ্ন। অর্থাৎ এত নিরাপত্তা সত্ত্বেও এবছরও প্রশ্নফাঁস রুখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ পর্ষদ। যদিও এবিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন পর্ষদ সভাপতি। প্রথম পরীক্ষাতেই প্রশ্নফাঁস পর্ষদের ব্যর্থতা বলেই দাবি, সব মহলের।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের মাধ্যমিকে প্রশ্নফাঁসই নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছিল। প্রতিদিনই পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়া মূলত হোয়াটস অ্যাপে ঘুরতে শুরু করে প্রশ্ন। সেই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রশ্নফাঁস রুখতে চলতি বছরে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছিল পর্ষদ। পর্ষদ সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে করে জানিয়েছিলেন যে, নিরাপত্তার খাতিয়ে পরীক্ষা শুরুর পর দু ঘণ্টা বিভিন্ন জেলার ৪২ টি ব্লকে বন্ধ রাখা হবে ইন্টারনেট পরিষেবা। সেই নির্দেশ কার্যকর করে মঙ্গলবার বিভিন্ন এলাকায় বন্ধ ছিল নেট। কিন্তু তা যে আদৌ কার্যকর হয়নি প্রশ্নফাঁসই তার প্রমাণ। কিন্তু কেন প্রশ্নফাঁস রুখতে সক্ষম হচ্ছে না পর্ষদ? কোথায় গাফিলতি? উঠছে প্রশ্ন।
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
Copyright © 2025 Sangbad Pratidin Digital Pvt. Ltd. All rights reserved.