সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দিল্লিতে এক মহিলার মৃত্যুর ঘটনায় হতবাক স্থানীয়রা। গরুর দুধ খাওয়ার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই মহিলা। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করলে ধরা পড়ে মহিলার শরীরে র্যাবিস ভাইরাস রয়েছে। তিনি জলাতঙ্ক বা হাইড্রোফোবিয়ায় আক্রান্ত। প্রশ্ন হল, গরুর দুধ খেয়ে ওই মহিলা কীভাবে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হলেন?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতা গ্রেটার নয়ডার বাসিন্দা। দুধ পান করার কিছুদিন পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। চিকিৎসার জন্য তাঁকে একাধিক হাসপাতলে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। যদিও সব ধরনের চিকিৎসা ব্যর্থ হলে ডাক্তারদের পরামর্শেই মহিলাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনে পরিবার। এরপরেই মৃত্যু হয় রোগীর। গবেষকরা বলছেন, কুকুরের মতোই গরুও ব়্যাবিস ভাইরাস বহন করে। যদি কেউ গুরুর দুধ না ফুটিয়ে খান সেক্ষেত্রে তাঁর শরীরে ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে।
অন্য সম্ভাবনাও রয়েছে। হতে পারে, যে গরুর দুধ ওই মহিলা খেয়েছিলেন সেই গরুটিকে দিনকয়েক আগে কুকুর কামড়েছিল। তা থেকেই গরুটির শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে। সংক্রমিত গরুটির দুধ খাওয়ার পরে মহিলাও র্যাবিস আক্রান্ত হন। এই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে দিল্লি ও আশপাশের এলাকার খাটালগুলিতে নজরদারি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি এলাকার সকলকে অ্যান্টি-র্যাবিস টিকা ও র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন (আরআইজি) প্রতিষেধক নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, কেবল কুকুরের কামড় বা না ফোটানো দুধ পানের ফলেই নয়, র্যাবিস আক্রান্ত প্রাণীর মলমূত্র, লালা, দেহাবশেষ থেকেও ছড়াতে পারে ভাইরাস। উল্লেখ্য, এদেশে প্রতি বছর পাঁচ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় র্যাবিস ভাইরাসের কারণে। জলাতঙ্ক এখনও জলজ্যান্ত সমস্যা ভারতে।
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
Copyright © 2025 Sangbad Pratidin Digital Pvt. Ltd. All rights reserved.