ফাইল ছবি।
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: শুধু ভারতের নন। ব্রিটেনেরও নাগরিক লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বিজেপি নেতার সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ফের কেন্দ্রের মতামত জানতে চাইল এলাহাবাদ হাই কোর্ট। রাহুলের নাগরিকত্ব নিয়ে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রের মতামত জানতে চাইল শীর্ষ আদালত।
সম্প্রতি বিজেপি নেতা ভিগ্নেশ শিশির এলাহাবাদ হাই কোর্টে দাবি করেন, রাহুল গান্ধী যে শুধু ভারতের নাগরিক নন, তার যথেষ্ট প্রমাণ তাঁর হাতে রয়েছে। ওই বিজেপি নেতা আদালতে দাবি করেছেন, রাহুলের নাগরিকত্ব নিয়ে তথ্য জানতে তিনি ব্রিটেনের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। কিছু তথ্য তাঁরা দিয়েছেন। তবে সব তথ্য গোপনীয়তার খাতিরে দেয়নি। এ বিষয়ে সিবিআই তদন্ত হওয়া উচিত। কেন্দ্রেরও উচিত, এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা। এলাহাবাদ হাই কোর্ট এ বিষয়ে কেন্দ্রের অবস্থান জানতে চেয়েছে। এর আগে কেন্দ্রকে একাধিক দফায় মতামত জানানোর জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনও কেন্দ্র অবস্থান স্পষ্ট করেনি।
এলাহাবাদ হাই কোর্ট এবার দ্রুত বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে চায়। আগামী ২১ এপ্রিল মামলার পরবর্তী শুনানি। তার আগে এই নিয়ে মতামত জানাতে হবে মোদি সরকারকে। কেন্দ্র রাহুলের নাগরিকত্ব নিয়ে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য ৯ সপ্তাহ সময় চেয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু আদালত অত সময় দিতে রাজি হয়নি। ৪ সপ্তাহ সময় দিয়েছে।
উল্লেখ্য, রাহুল গান্ধীর নাগরিকত্ব নিয়ে এর আগেও একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে দিল্লি হাই কোর্টে এই একই অভিযোগে মামলার করেছেন বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। স্বামীর দাবি, ব্রিটিশ সংস্থা ব্যাকপ্স লিমিটেডের মাধ্যমে ২০০৫ এবং ২০০৬ সালে রাহুলের দাখিল করা বার্ষিক রিটার্ন সংক্রান্ত নথিগুলি তাঁর ব্রিটেনের নাগরিকত্বের প্রমাণ। এছাড়া ইংল্যান্ডে রাহুলের নামে থাকা একটি কোম্পানির ঘোষণাপত্রে, নিজেকে ইংল্যান্ডের নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। রাহুল ব্রিটেনের নাগরিক, এই অভিযোগ তুলে তাঁর মনোনয়ন খারিজের দাবিও একাধিকবার উঠেছে। ঘটনাচক্রে বিজেপি নেতারা এর আগে বারবার রাহুল গান্ধীকে বিদেশের নাগরিক হিসাবে প্রমাণ করার চেষ্টা করলেও কেন্দ্র সেভাবে উচ্চবাচ্চ করেনি। প্রতিবারই রাহুলের নাগরিকত্ব ইস্যুটি কোনও না কোনওভাবে এড়িয়ে গিয়েছে মোদি সরকার। কেন্দ্র এবার কি অবস্থান নেয় সেটাই দেখার।
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
Copyright © 2025 Sangbad Pratidin Digital Pvt. Ltd. All rights reserved.