ফাইল ছবি
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ত্রিপুরা (Tripura), গুজরাট (Gujrat), উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) পর এবার আরেক বিজেপি শাসিত রাজ্য গোয়ার দিকেও নজর তৃণমূলের। আর সেক্ষেত্রে ঘাসফুল শিবিরের জন্য মাটি শক্ত করতে আসরে নেমেছে ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের (Prasant Kishore) সংস্থা আই প্যাক। শুধু তাই নয়, গোয়ার একাধিক কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) পক্ষ থেকে। তবে পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় পশ্চিম ভারতের এই রাজ্যে তৃণমূলের শক্তিবৃদ্ধির খবরে একটুও বিচলিত নন গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত। তিনি উলটে তৃণমূলকে স্বাগতই জানিয়েছেন।
চলতি বছরে বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে সমস্ত শক্তি দিয়ে ঝাঁপালেও একশোর গণ্ডিও পেরোতে পারেনি বিজেপি। উলটে গতবার বিধানসভা নির্বাচনের থেকেও আরও বেশি সংখ্যক আসনে জিতে তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় ফিরেছে তৃণমূল। পরবর্তীতে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হয়েই সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে ছিলেন, এবার অন্য রাজ্যেও শক্তিবৃদ্ধি করবে তৃণমূল। এরপরই ত্রিপুরার দিকে নজর দেয় তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। বিজেপি শাসিত উত্তর-পূর্বের রাজ্যে একাধিকবার ইতিমধ্যে সফর করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দফায় দফায় সেখানে গিয়েছেন তৃণমূলের অন্যান্য নেতারাও। এমনকী গুজরাট, উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যেও সংগঠন বাড়াতে তৎপর তৃণমূল।
এই পরিস্থিতিতে আগামী বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে গোয়ায় বিধানসভা নির্বাচন। আর সেদিকেই পাখির চোখ তৃণমূলের। সূত্রের খবর, আগামিদিনে গোয়া যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে রাজ্যের রাজনীতিতে তৃণমূলের জমি শক্ত করাই লক্ষ্য তাঁর। সূত্রের খবর, গোয়ায় ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছেন ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা আই প্যাকের ২০০ জন কর্মী। তাঁরা তৃণমূলের হয়ে কাজ করতেও শুরু করেছেন। শোনা যাচ্ছে, এর পর রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রাথমিক ধাঁচটা বুঝতে গোয়ায় যেতে পারেন স্বয়ং তৃণমূলনেত্রী। এমনকী দলের সাংসদরাও সেখানে যেতে পারেন। প্রসঙ্গত, চলতি সপ্তাহেই নবান্নে মমতা-অভিষেক-প্রশান্ত কিশোরের একান্ত এবং দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকে গোয়ার পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়ে থাকতে পারে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। ইতিমধ্যে কংগ্রেস নেতা লুইজিনহো ফালেইরোর দলত্যাগ করে তৃণমূলে যোগদানের খবরও শোনা যাচ্ছে। যদিও তিনি সেই খবর অস্বীকার করেছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি নাগাদ গোয়ায় নির্বাচন হতে পারে। সেখানে কংগ্রেস, বিজেপি বা আম আদমি পার্টি (আপ)-র পাশাপাশি তৃণমূলও লড়াই করতে চায়। ঠিক যেমন পরিকল্পনা রয়েছে তাদের ত্রিপুরা নিয়ে। যদিও এতে ঘাবড়াতে নারাজ বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ”সবাইকে আসতে দিন, গোয়াকে সবাই ভালবাসে।”
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
Copyright © 2025 Sangbad Pratidin Digital Pvt. Ltd. All rights reserved.