নির্বাচন কমিশনের খাতায় ‘মৃত’। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনীর তালিকায় নাম নেই তাঁদের। তবে বাস্তবে তাঁরা জীবিত। দিল্লির চাণক্যপুরীর নয়া বঙ্গভবনে সাংবাদিক বৈঠকে তেমনই কয়েকজন ‘ভূতে’র পরিচয় করালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লির সংবাদমাধ্যমের সামনে তাঁদের দেখিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি। এর আগে বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে একাধিক জনসভায় এভাবেই ‘ভূতে’দের সামনে এনেছেন মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা।
এই বিষয়ে আরও খবর
এবারের দিল্লি সফরে মমতার সঙ্গে রয়েছেন এসআইআর ‘ভুক্তভোগী’দের পরিবার। তাঁদের মধ্যে কেউ এসআইআর ‘আতঙ্কে’ মৃতদের পরিবার। আবার কেউ কেউ রয়েছেন এসআইআর-এর ‘চাপে’ নিহত বিএলও-র পরিজন। মঙ্গলবার তাঁদের সকলকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন মমতা। পাশেই ছিলেন অভিষেক। কমিশনকে দুষে মমতা বলেন, “তথ্য অসংগতির তালিকা দিতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। তারা নাম বদলে দিচ্ছে। বিজেপি নেতাদের অবজার্ভার করে পাঠাচ্ছে। আমি সবাইকে দোষ দিচ্ছি না। আমি কমিশনকে সম্মান করি। তবে কয়েকজন তোতাপাখির মতো কাজ করছেন।”
“বিজেপি নেতাদের অবজার্ভার করে পাঠাচ্ছে। আমি সবাইকে দোষ দিচ্ছি না। আমি কমিশনকে সম্মান করি। তবে কয়েকজন তোতাপাখির মতো কাজ করছেন।”
ভবানীপুর থেকে ভোটার বাদ প্রসঙ্গও এদিন আরও একবার তুলে ধরেন মমতা। তাঁর দাবি, “আমার বিধানসভায় প্রায় ২ লক্ষের মতো ভোটার রয়েছে। তথ্য অসংগতি দেখিয়ে ৪৫ হাজারের নাম বাদ দিয়েছে। ইআরওরা জানেই না। বিজেপির সীমা খান্না বসে রয়েছেন কমিশনে। নাম বাদ দিচ্ছেন। গতকাল আমি বলেছি কমিশনকে, আপনারা হত্যাকারী। গণতন্ত্রে কে সরকার নির্বাচন করে, কমিশন করে নাকি?” কমিশনের বিরুদ্ধে নিয়মভঙ্গেরও অভিযোগ তোলেন মমতা। বুধবার আবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানি। ওই মামলায় শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণে নজর রয়েছে সকলের।

প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফর ঘিরে ঠান্ডায় কাবু দিল্লিতে ক্রমশ চড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। আর মাত্র কয়েকমাস পর বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। বাংলা দখলে এবার মরিয়া বিজেপি। আবার শাসক শিবির তৃণমূল আত্মবিশ্বাসী উন্নয়নকে হাতিয়ার করে বিপুল জনসমর্থনে ফের আসবে জয়। এই পরিস্থিতিতে এসআইআর নিয়ে চলছে চূড়ান্ত টানাপোড়েন। তৃণমূলের দাবি, এসআইআরের মাধ্যমে নাম বাদ দিয়ে ভোটবাক্সে লাভ পেতে চাইছে ‘ব্যর্থ’ গেরুয়া শিবির। আবার বিজেপি সে অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। বিজেপির দাবি, এসআইআরের মাধ্যমে ভোটার তালিকা ঝাড়াই বাছাই চলছে। যার ফলে মৃত ভোটারের পাশাপাশি কিছু ভুয়ো ভোটারের নামও বাদ যাবে, তা স্বাভাবিক। আর তার ফলে ‘ভূতুড়ে’ ভোটারের সাহায্যে ভোটের মার্জিন বাড়াতে পারবে না তৃণমূল। সে কারণেই তাদের এত এসআইআর বিরোধিতা। এই বাকযুদ্ধের মাঝে এসআইআর ‘ক্ষতিগ্রস্ত’দের নিয়ে মমতার দিল্লি সফর যে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এসআইআর পরবর্তী নির্বাচনে শাসক শিবির বিপাকে পড়ে নাকি তা বিজেপির কাছে ব্যুমেরাং হয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
‘তুষ্টিকরণে চাপা পড়েছিল উন্নয়ন’, সনাতনীদের অনুষ্ঠানে বাংলার ইতিহাস স্মরণ শুভেন্দুর
-
মেয়রের ইস্তফার পরেই বিধাননগর পুরনিগমে বসল প্রশাসক, হাওড়া পুরসভাতেও নয়া কমিশনার
-
তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য, ‘চোর’ স্লোগান জনতার
-
ঝড়-বৃষ্টি, হড়পা বানে বিপর্যস্ত উত্তরের বিস্তীর্ণ এলাকা, সিকিমে ভূমিধসে মৃত ১, নিখোঁজ ৪
-
বঙ্গে সাংগঠনিক রদবদলের পথে বিজেপি, দিল্লিতে শমীক-বনসল দীর্ঘ বৈঠক
নিবেদিত






