সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ‘আব কি বার চারশো পার।’ এমনই স্লোগান তুলেছিলেন তিনি। কিন্তু মঙ্গলবার গণনা শুরু হওয়ার পর থেকেই ট্রেন্ড অন্য কথা বলতে শুরু করে। ক্রমশই পরিষ্কার হয়ে যায়, ২০১৪ ও ২০১৯ সালে যে গেরুয়া ঝড় দেখা গিয়েছিল তা এবার অনেকটাই ফিকে। কার্যতই যেন মোদি হাওয়া গায়েব! একথা ঠিকই, ইন্ডিয়ার সঙ্গে জোর টক্করে গিয়েও যে এনডিএ এগিয়ে থাকতে পারল তার পিছনে ফ্যাক্টর সেই ‘মোদি ম্যাজিক’ই। তবু একথা মানতেই হবে, ‘ব্র্যান্ড মোদি’ জোর ধাক্কা খেয়েছে।
কিন্তু কেন? ঠিক কোন কোন কারণে ফিক হল মোদি(PM Modi) ম্যাজিক? মনে রাখতে হবে ২০১৪ সালে এক দশকের ইউপিএ সরকারকে সরিয়ে নরেন্দ্র মোদিকে দেশবাসী বেছে নেওয়ার পিছনে প্রধান কারণই ছিল দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি। মোদি বুঝিয়েছিলেন, তাঁর হাতে রয়েছে এমন জাদুদণ্ড যা ‘আচ্ছে দিন’ নিয়ে আসবে। কালো টাকা ফেরানো যাবে। দেশবাসীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ জমা পড়ার আশ্বাস তো ছিলই।
এই রেশ ছিল ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনেও। মোদি সরকার প্রথম পাঁচ বছরে যে সব প্রকল্প এনেছিল তা সব মিলিয়ে এই বার্তা দিতে পেরেছিল যে মোদিই সেই নেতা যিনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষ বাছাই। বাকিরা ধারেকাছেও নেই। এর মধ্যে ২০১৬ সালের নোটবন্দি সমালোচনার মুখে পড়লেও সেটাও ধোপে টেকেনি শেষপর্যন্ত। প্রথম দুবারই মোদির (PM Modi) স্লোগান ছিল ‘সব কা সাথ সব কা বিকাশ’। কিন্তু সেই হাওয়া বদলে গিয়েছে দ্বিতীয়বার তিনি মসনদে বসার পর থেকেই। ৩৭০ ধারার অবলুপ্তি, তিন তালাক প্রথার উপর আইনি নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপের পাশাপাশিই সিএএ নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। যত সময় গিয়েছে মোদিও ফিরেছেন মেরুকরণের রাজনীতিতে। এবারের নির্বাচনে রামমন্দির যেমন ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছিল, তেমনই আলোচনায় ফিরে ফিরে এসেছে মোদির মুখে ‘হিন্দু-মুসলমান’ প্রসঙ্গ। অর্থাৎ ‘সব কা সাথ’ থেকে সরে আসা। এটাই সম্ভবত ‘বুমেরাং’ হয়ে গিয়েছে।
এছাড়াও বেকারত্ব কিংবা মুদ্রাস্ফীতির মতো ইস্যুকেও অস্বীকারের কোনও জায়গা নেই। গত এক দশকে রান্নার গ্যাসের দাম হু হু করে বেড়েছে। তাছাড়া আধারের সঙ্গে বহু কিছু লিঙ্ক করার নিদান- সোজা কথায় লালফিতের ফাঁসও জনতার মনে বিক্ষোভের সঞ্চার করেছে। এই সব ফ্যাক্টর মিলেমিশেই যেন কমজোরি করে দিয়েছে মোদি ম্যাজিককে। তাঁর ‘গ্যারান্টি’তেও এই বিরোধী হাওয়াকে রোখা গেল কই? পাক অধিকৃত কাশ্মীর দখলের প্রতিশ্রুতি হোক বা বছরের গোড়ায় অযোধ্যায় রামলালার ‘প্রাণপ্রতিষ্ঠা’, তাতে যে কাজ হয়নি, ব্যালট বাক্সের হিসেব বুঝিয়ে দিচ্ছে।
এবারের নির্বাচনের (Lok Sabha Election 2024) শেষ লগ্নে, সপ্তম দফার প্রচার সমাপ্ত হতেই কন্যাকুমারিকায় ধ্যানে বসেন মোদি। ৪৫ ঘণ্টা ধ্যানমগ্ন ছিলেন তিনি। এর পরই সামনে আসে এক্সিট পোলের হিসেব। এনডিএ গতবারের থেকেও ভালো ফল করতে চলেছে, এমনটাই বলছে সমস্ত সংস্থার বুথফেরত সমীক্ষা। মোদির কথাতেও ছিল সেই আত্মবিশ্বাস। কিন্তু মঙ্গলবারের সকাল বুঝিয়ে দিল ছবিটা একেবারেই তেমন নয়। এমনকী, সকালের দিকে দেখা যায় খোদ মোদিই বারাণসীতে হারছেন। ব্যবধান ছিল ৬ হাজার ভোটের। পরবর্তী রাউন্ডের গণনায় অবশ্য মোদি এগিয়ে যান। কিন্তু বারাণসীতে মোদি পিছিয়ে পড়তে পারেন, এমনটাও কি ভাবা যায়? এর পরও কি সন্দেহ থাকতে পারে, মোদি ম্যাজিকে সত্যিই ভাটার টান!
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
Copyright © 2024 Pratidin Prakashani Pvt. Ltd. All rights reserved.