বুদ্ধদেব সেনগুপ্ত, নয়াদিল্লি: রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের বিদায় সংবর্ধনা হয়ে গিয়েছে দিল্লিতে। বাংলার পরবর্তী রাজ্য সভাপতির নামও চূড়ান্ত। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এখনই নাম প্রকাশ্যে আনতে নারাজ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। জেলা সভাপতিদের নাম ঘোষণার পরই গোষ্ঠীকোন্দল রাস্তায় নেমে এসেছে। এর মধ্যে রাজ্য সভাপতির নাম ঘোষণা করলে আগুনে ঘৃতাহুতি পড়তে পারে। তাই কয়েকদিন পর নাম ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সভাপতির দৌড়ে এক সাংসদ এগিয়ে রয়েছেন বলে সূত্রের খবর।
সুকান্ত মজুমদার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ায় তাঁকে সভাপতির দায়িত্ব ছাড়তেই হতো। সাংগাঠনিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেই কাজ চলছিল। ইতিমধ্যেই মণ্ডল ও বেশিরভাগ জেলা সভাপতিদের নাম ঘোষণা হয়েছে। এবার রাজ্য সভাপতি নির্বাচনের পালা। সুকান্তর উত্তরসূরি কে হবেন তা নিয়ে গত কয়েকমাস ধরেই জল্পনা চলছিল।
সর্বসম্মতিক্রমে রাজ্য সভাপতি বাছাই করতে বারবার দিল্লিতে তলব করা হয় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী-সহ রাজ্য নেতৃত্বকে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যেমন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা, সাংগাঠনিক সাধারণ সম্পাদক বিএল সন্তোষ, বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল, মঙ্গল পান্ডে ও অমিত মালব্য ছাড়াও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শীর্ষনেতৃত্ব তাঁদের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেন। শেষ পর্যন্ত দলের সব গোষ্ঠীর কাছে সমান গ্রহণযোগ্য এক সাংসদকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গ সূত্রে খবর।
কয়েকদিন আগে দিল্লিতে সুকান্ত মজুমদারের দিল্লির বাসভবনে বিরোধী দলনেতা-সহ বাংলার সাংসদদের একটি নৈশকালীন বৈঠক ও খাওয়াদাওয়ার আয়োজন হয়। সেই বৈঠক সুকান্ত মজুমদারকে কার্যত বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন এক সাংসদ। কিন্তু নয়া সভাপতির নাম কবে ঘোষণা করা হবে তা নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর। এছাড়াও নয়া সভাপতিকে সর্বসময়ের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হবে নাকি কার্যকরী সভাপতি করা হবে তা নিয়েও সংশয়ে বঙ্গ বিজেপি। এক্ষেত্রেও পুরোটাই নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর। এই বিষয়ে রাজ্য নেতৃত্বকে এখনও অবহিত করা হয়নি বলে জানান ওই সাংসদ।
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
Copyright © 2025 Sangbad Pratidin Digital Pvt. Ltd. All rights reserved.