সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কিছু বিষয় নিয়ে বচসা হয়েছিল। তাই এক দলিত যুবককে একটি বাড়ির থামে বেঁধে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হল। পরে সে যখন রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে যন্ত্রণায় ছটফট করছে তখন তাঁর মুখে প্রস্রাব ঢেলে দেওয়া হয়। হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় ভরতি থাকাকালীন শনিবার সকালে ওই যুবকের মৃত্যু হয়। অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে পাঞ্জাবের সাঙ্গরুর জেলার চাঙ্গালিওয়ালা গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২১ অক্টোবর পাঞ্জাবের সাঙ্গরুর জেলার বাসিন্দা ৩৭ বছরের ওই যুবকের সঙ্গে স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতীর ঝামেলা হয়েছিল। পরে গ্রামের মাতব্বররা তা মিটিয়েও দেন। কিন্তু, এরপর থেকেই ওই দলিত যুবককে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছিল দুষ্কৃতীরা। গত ৭ নভেম্বর ওই দুষ্কৃতী দলের নেতা রিঙ্কু ও তার শাগরেদরা ওই যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে বের করে। তারপর জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে একটি ভাঙা বাড়ির থামে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে। লাঠি দিয়ে মারতে মারতে প্রায় আধমরা করে ফেলে। এর ফলে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ওই দলিত যুবক পানীয় জল চাইতে থাকে। কিন্তু, তাঁর সেই করুণ আকুতিতে মনে গলেনি অত্যাচারী দুষ্কৃতীদের। উলটে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ওই যুবকের মুখে প্রস্রাব করে দেয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখ থেকে এই ঘটনার কথা শুনে যুবকটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল এডুকেশন ও রিসার্চ (পিজিআইএমইআর) হাসপাতালে ভরতি করা হয়।
এপ্রসঙ্গে সাঙ্গরুর সিনিয়র পুলিশ সুপার গর্গ জানান, পুরনো বিবাদের জেরেই ওই যুবকের উপর চড়াও হয়েছিল স্থানীয় কয়েকজন দুষ্কৃতী। ওদের বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন দলিত সম্প্রদায়ের মানুষকে মারধর করার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে নেমে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে। যুবকের মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
Copyright © 2025 Sangbad Pratidin Digital Pvt. Ltd. All rights reserved.