Advertisement
Advertisement
FIFA World Cup 2026

ইরান-মিশর ম্যাচে রামধনু পতাকার অনুমতি, তীব্র আপত্তি কায়রো-তেহরানের, কী বলল ফিফা?

শুক্রবার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নামতে চলেছে মিশর ও ইরান। এই ম্যাচে দর্শকদের রামধনু পতাকা নিয়ে স্টেডিয়ামে ঢোকার অনুমতি দিয়েছে ফিফা। এরপরেই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২৬, ২০২৬, ১৭:১৩

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২৬, ২০২৬, ১৭:১৩

options
link
ইরান-মিশর ম্যাচে রামধনু পতাকার অনুমতি, তীব্র আপত্তি কায়রো-তেহরানের, কী বলল ফিফা? zoom
ইরান-মিশর ম্যাচে রামধনু পতাকার অনুমতি। ছবি সংগৃহীত।

শনিবার ভারতীয় সময় সকালে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নামতে চলেছে মিশর ও ইরান। এই ম্যাচে দর্শকদের রামধনু পতাকা নিয়ে স্টেডিয়ামে ঢোকার অনুমতি দিয়েছে ফিফা। এরপরেই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। কারণ মিশর এবং ইরানে সমকামিতা আইনত অপরাধ। একই সময়ে সিয়াটলে বার্ষিক ‘প্রাইড’ সেলিব্রেশন। এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের সেই ‘প্রাইড’ সেলিব্রেশন নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে ইরান ও মিশর।

দুই দেশেই সমকামীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন রয়েছে। বিশ্বকাপের ড্র হওয়ার পর থেকেই এই বিষয়টির বিরোধিতা করে আসছিল কায়রো ও তেহরান। এরপর দুই দেশই ফিফার কাছে প্রাইড অনুষ্ঠান বাতিলের অনুরোধ জানায়। মিশরের ফুটবল ফেডারেশনের বক্তব্য, এমন বিষয় তাদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে মেলে না। ম্যাচের আগে ইরান ফুটবল ফেডারেশন অনুরোধ করে, সাংবাদিক সম্মেলনে প্রশ্ন যেন কেবল খেলা নিয়েই করা হয়। ইরানের হেডকোচ আমির গালেনোয়ি বলেন, “আমাদের দেশে যে বিষয়টি নিষিদ্ধ, তা নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না। আমাদের সব মনোযোগ এখন ফুটবলে। আমাদের ফোকাস ভালো ফলাফলের দিকে। দেশের মানুষ সেদিকেই চেয়ে আছেন। মাঠের বাইরের কোনও বিষয় নয়, আমরা শুধু ফুটবল নিয়েই ভাবতে চাই।” একই সুর শোনা যায় মিশরের কোচ হোসাম হাসানের গলায়। তাঁর মন্তব্য, “আমরা শুধু ফুটবল নিয়েই ভাবছি। মাঠের বাইরের বিষয়গুলো দেখার দায়িত্ব ফিফার। সবাইকে সম্মান করি আমরা। ফেয়ার প্লে-র নীতি মেনে চলি। ফিফার সব নিয়ম অনুসরণ করি।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

ফিফা জানিয়েছে, বিশ্বকাপ এমন একটি প্রতিযোগিতা, যেখানে লিঙ্গ পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক সমর্থককে স্বাগত জানানো হবে। এক বিবৃতিতে তারা একথা জানায়। রামধনু পতাকার সঙ্গে অন্যান্য পতাকা নিয়েও স্টেডিয়ামে ঢোকার অনুমতি থাকবে। তবে এরসঙ্গে মানতে হবে স্টেডিয়াম আচরণবিধিও। ফিফা জানিয়েছে, পতাকা, ব্যানারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে। রাজনৈতিক বার্তা লেখা কোনও ব্যানার স্টেডিয়ামে আনা যাবে না।

ছবি সংগৃহীত।

উল্লেখ্য, রামধনু পতাকা বলতে সাধারণত এলজিবিটিকিউ (LGBTQ+) বা প্রাইড পতাকাকে বোঝায়। যা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সমকামী, উভকামী, রূপান্তরকামী এবং বিচিত্র মানুষের অধিকার ও গর্বের প্রতীক। ম্যাচটিকে তাই অনেকেই ‘প্রাইড ম্যাচ’ বললেও, ফিফা সেই বক্তব্য খারিজ করে দিয়েছে। ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো বলেন, “আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, বিশ্বকাপে কোনও ‘প্রাইড ম্যাচ’ নেই। সিয়াটলে বিশ্বকাপের ম্যাচ হবে। একই দিনে শহরের বিভিন্ন জায়গায় অন্য অনুষ্ঠানও চলবে। যদিও তার সঙ্গে ম্যাচের কোনও সম্পর্ক নেই।”

সুতরাং বিশ্বকাপের ম্যাচের সঙ্গে ‘প্রাইড’ সেলিব্রেশনকে এক করে না দেখার আহ্বান জানিয়েছে ফিফা। অন্যদিকে স্থানীয় আয়োজকরাও জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপের জন্য বহু বছরের ঐতিহ্য বদলানো হবে না। সিয়াটলের বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটির সদস্য হেডা ম্যাকলেনডন বলেন, “এই প্রাইড সেলিব্রেশন ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হয়ে আসছে। এ বছরও হবে। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরও ভবিষ্যতে চলতে থাকবে।” তিনি আরও বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে সকলকে সম্মান দেখানো হয়। উল্লেখ্য, বিশ্বকাপে এমন ইস্যু নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও ‘ওয়ান লাভ’ বাহুবন্ধনী পরে মাঠে নামার পরিকল্পনা ঘিরে তুমুল বিতর্ক হয়েছিল। সে সময় ফিফা নিয়ম ভাঙলে ফুটবলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছিল। এবার মিশর-ইরান ম্যাচকে ঘিরে সেই বিতর্কই নতুন করে সামনে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.