Advertisement
Advertisement
FIFA World Cup 2026

জীবন-মৃত্যুর সীমান্তে দুই বন্ধু, ‘আমরা হেরে গেলে রোনাল্ডো কাপ জিতুক’, বলছেন মদ্রিচ

৩ জুলাই। দিনটা পর্তুগিজ ফুটবলের জন্য বিশেষ সুখের নয়। বরং শোকের, দুঃখের, যন্ত্রণার। জোটার মৃত্যুবার্ষিকীতে কাপের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার যুদ্ধে সিআর।

Advertisement
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: জুলাই ২, ২০২৬, ১৫:০৪

link
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: জুলাই ২, ২০২৬, ১৫:০৪

options
link
জীবন-মৃত্যুর সীমান্তে দুই বন্ধু, ‘আমরা হেরে গেলে রোনাল্ডো কাপ জিতুক’, বলছেন মদ্রিচ zoom
দুই বন্ধু। মদ্রিচ ও রোনাল্ডো। ফাইল ছবি।

বৃহস্পতিবার রাতে টরন্টোয় বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) রাউন্ড অফ ৩২-এর ম্যাচে মুখোমুখি হবে পর্তুগাল আর ক্রোয়েশিয়া (Portugal vs Croatia)। পর্তুগালের স্থানীয় সময়ে ম্যাচ শুরু হবে রাত বারোটায়। অর্থাৎ কানাডায় তারিখ ২ জুলাই হলেও, ইউরোপের দেশটির ক্যালেন্ডারে পাতা উলটে চলে আসবে নতুন একটা তারিখ।

৩ জুলাই। দিনটা পর্তুগিজ ফুটবলের জন্য বিশেষ সুখের নয়। বরং শোকের, দুঃখের, যন্ত্রণার। কারণ, দিনটা দিয়েগো জোসে ট্যাক্সেইরা ডা সিলভার প্রয়াণের দিন। যাঁকে ফুটবলবিশ্ব চেনে দিয়েগো জোটা নামে। পর্তুগালের জাতীয় দলের প্রাক্তন সদস্য। গত বছরের ৩ জুলাই স্পেনের কার্ডেনিয়ায় এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মাত্র ২৮ বছরে থেমে গিয়েছিল জোটার দৌড়। ২০২৪ সালে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে শেষবার মাঠে নেমেছিল তাঁর দেশ। নেশনস লিগের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে। চোটের জন্য সেদিন খেলা হয়নি জোটার। তবে টরন্টোয় বিশ্বকাপে ম্যাচে প্রবলভাবেই থাকবেন তিনি। আসলে বিশ্বকাপের জন্য স্কোয়াডে ২৬ জন রাখার অনুমতি দেয় ফিফা। কিন্তু পর্তুগাল এসেছে ২৭ জনকে নিয়ে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
দিয়েগো জোটা। ফাইল ছবি।

আর প্রাক্তন ইউরো চ্যাম্পিয়নদের দলের সেই অতিরিক্ত সদস্যের নাম– ‘দিয়েগো জোটা’। বিশ্বকাপের শুরু থেকেই দলের সঙ্গে বারবার উচ্চারিত হয়েছে তাঁর নাম। কোচ রবার্তো মার্টিনেজ থেকে ক্যাপ্টেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo), অকালপ্রয়াত উইঙ্গারের কথা শোনা গিয়েছে সবার মুখে। এমনকী দল বিশ্বকাপ খেলতে রওনা হওয়ার আগে পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুই মন্টেনেগ্রো স্বয়ং বিশেষ এক রিস্টব্যান্ড তুলে দিয়েছিলেন স্কোয়াডের প্রত্যেকের হাতে। যাতে লেখা আছে জোটার নাম। সেই ব্যান্ড পরে খেলেছেন রোনাল্ডোরা। অর্থাৎ আক্ষরিক অর্থেই, দলের সঙ্গে প্রতি ম্যাচে মাঠে নামছেন জোটা। এমন একজনের প্রয়াণের দিনে জেতার জন্য যে মুখিয়ে থাকবে পর্তুগাল, নতুন করে বলার প্রয়োজন পড়ে না।

আরও একটা বিষয় রয়েছে এই ম্যাচে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে বৃহস্পতিবারই শেষ দিন হতে পারে রোনাল্ডো বা লুকা মদ্রিচের (Luka Modric)। কারণ পর্তুগাল আর ক্রোয়েশিয়ার মধ্যে যেই হারবে, এবারের মতো অভিযান শেষ হয়ে যাবে তাদের। কারণ রোনাল্ডোর মতো মদ্রিচও চল্লিশোর্ধ। পর্তুগাল শিবির থেকেও বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে প্রতিপক্ষ শিবিরে ব্যালন ডি’অর জয়ী মিডফিল্ডারের উপস্থিতিকে। বার্নার্ডো সিলভা যেমন বলছিলেন, “লুকা এমন একজন ফুটবলার, যাকে দেখে নতুন প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হয়। শুধু যে দীর্ঘদিন ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলছে, তা নয়। বরং কেরিয়ারের পুরো সময়টা নিজের ছন্দে খেলে গিয়েছে। কয়েকবার ওর বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পেয়েছি। সেজন্য নিজেকে ভাগ্যবান বলব। ম্যাঞ্চেস্টার সিটির হয়ে রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে খেলা একটা ম্যাচে ওর থেকে জার্সি চেয়ে নিয়েছিলাম। আমার কেরিয়ারে সেটা অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।”

ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে নামার আগে টিম পর্তুগাল। ছবি সংগৃহীত।

এমনিতে শেষ কয়েকটা প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের বিচারে পর্তুগালের থেকে পিছিয়ে রয়েছে ক্রোয়েশিয়া। নেশনস লিগে শেষ সাক্ষাতে ড্র করলেও তার আগে ঘরের মাঠে জিতেছেন রোনাল্ডোরা। ২০২০-২১ নেশনস লিগেও দুই পর্বেই জিতেছিলেন তাঁরা। ২০১৬ ইউরোর প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে গোল করে জিতেছিল পর্তুগাল। অবশ্য এবার বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) কোনও পক্ষই তেমন ফর্মে নেই। গ্রুপে একটা ম্যাচ হেরেছে ক্রোয়েশিয়া। পর্তুগাল আবার আটকে গিয়েছে কঙ্গো এবং কলম্বিয়ার কাছে। তবে সেসব নিয়ে ভাবছেন না জোয়াও ফেলিক্স। দলের তারকা উইঙ্গার মনে করছেন, নকআউটে লড়াই শুরু হবে নতুন করে।

“দলের সবাই শান্ত আছে। দু’টো ম্যাচ ড্র করে আমরা আত্মবিশ্বাস হারিয়েছে, এমন নয়। লোকে বিভিন্ন কথা বলছে। ওদের ধৈর্য ধরতে বলব। আর আমরা শান্ত থেকে ক্রোয়েশিয়াকে ঠেকানোর জন্য প্রস্তুত হচ্ছি। জয় নিয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী।” শেষ দু’টো বিশ্বকাপে যথাক্রমে রানার্স এবং তৃতীয় হয়েছে ক্রোয়েশিয়া। তবে দলের সেই সাফল্যের নেপথ্যনায়ক জ্লাটকো দালিচ মানছেন, আগের সেই স্বর্ণযুগ নেই। “আট বছরে অনেককিছু বদলে গিয়েছে। তবে আমাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল, নকআউটে ওঠা। সেটা পূরণ হয়েছে। এবার যতদূর সম্ভব যেতে চাই।”

আরও একটা বিষয়। সম্ভবত শেষবারের জন্য মাঠে মুখোমুখি হচ্ছেন দুই বন্ধু– রোনাল্ডো আর মদ্রিচ। রিয়ালের সাদা জার্সিতে বহু সুখস্মৃতি আছে দু’জনের। তবে ভাগ্যের লেখায় এবার একজনের সুখের দিনে দুঃখ পাবেন অন্যজন। দাঁড়িপাল্লায় কে কোন দিকে থাকেন, সেটাই এখন দেখার।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.