Advertisement
Advertisement
Mike Okoro

‘বাইচুংই পারে ভারতীয় ফুটবলের হাল ফেরাতে’, মার্কিন মুলুকে বসেও ইস্টবেঙ্গলে মন মাইক ওকোরোর

ওকোরো বলছিলেন, "একমাত্র বাইচুং পারে ভারতীয় ফুটবলকে ঘোরাতে। ওর দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসা উচিত।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২৬, ২০২৬, ১৪:৫১

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২৬, ২০২৬, ১৪:৫১

options
link
‘বাইচুংই পারে ভারতীয় ফুটবলের হাল ফেরাতে’, মার্কিন মুলুকে বসেও ইস্টবেঙ্গলে মন মাইক ওকোরোর zoom
ফাইল ছবি।

অনেকটা বদলে গিয়েছেন। সেই ‘সুপার ইগো,’ প্রতিপক্ষের দিকে ক্ষুরধার চাহনি। বেতের মতো ছিপছিপে শরীর। কিছুই আর নেই। সময় আর বয়সের ভারে বদলে গিয়ে মধ্যবয়স্ক ‘আমজনতা।’ যে সারাদিন অফিসে চাকরি করে। রাতে বাড়ি ফিরে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটায়। বলুন তো, কলকাতা থেকে ১৪,০০০ কিলোমিটার দূরে টেক্সাসের শহর ডালাসে বসে হঠাৎ করে কাকে এভাবে বর্ণনা করতে আগ্রহী হলাম।

নামটা বলেই ফেলি-মাইক ওকোরো। ইস্টবেঙ্গলের আশিয়ান জয়ের সেই সোনার ছেলে, মাইক ওকোরো। ইস্টবেঙ্গলের শতবর্ষের উদযাপনে পরিকল্পনা ছিল, বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বিদেশি ফুটবলারদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

সেই সুত্রেই ইরান থেকে এসেছিলেন মজিদ বাসকর। এসেছিলেন সুলে মুসা। মজিদ বাসকরকে হাতের কাছে পাওয়ার পরেও লাল-হলুদ জনতা যাঁকে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছে, তিনি মাইক ওকোরো। সেই উইং থেকে শরীরের দোলায় প্রতিপক্ষকে ছিটকে দিয়ে কাট করতে করতে ভিতরে ঢুকে গোলের কাছে পৌঁছে যাওয়া। সুভাষ ভৌমিকের কোচিংয়ে ওকোরোর এই মসৃণ ড্রিবল দেখতেই তো অভ্যস্ত সমর্থকরা।

‘সুপার ইগো’-র কথা বললাম কেন? একটা ঘটনা বলি। আশিয়ানের সেই দলটার কথা ভাবুন। বাইচুং, ওকোরো, ডগলাস, আলভিটো, দেবজিত, মুসা-কে নেই? সুভাষ কীভাবে মাইক ওকোরোকে বোঝাবেন, বাইচুংকে এক স্ট্রাইকারে রেখে ওকোরোকে উইং থেকে খেলাতে চান। ওকোরোও তো চাইছেন, গোলের জন্য বক্সের উপরে থাকতে। ফলে বাইচুংকে স্ট্রাইকার পজিশন ছেড়ে ওকোরোকে উইংয়ে খেলতে রাজি করানো ছিল, ‘নেক্সট টু ইমপসেবল’। বেঁচে থাকলে সুভাষ ভৌমিক নিশ্চয়ই সেদিনের ঘটনা বলতে পারতেন, কীভাবে বাবা-বাছা করে
মাইককে রাজি করিয়েছিলেন সুভাষ। সেইসব কথা উঠলে এখন হো হো করে হেসে ওঠেন মধ্য বয়সের মাইক। কোথায় সেই তারকা-সুলভ ইগো? বরং বারবার করে বলছিলেন, “একমাত্র বাইচুং পারে ভারতীয় ফুটবলকে ঘোরাতে। ওর দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসা উচিত। কারণ, অন্য অনেকের থেকে ভারতীয় ফুটবলটা ও বেটার জানে, বোঝে।” বলাই তো হল না, ১৪,০০০ কিলোমিটার দূরে মাইক ওকোরোর সঙ্গে সাক্ষাতের মুহূর্তটা।

সোশ্যাল মিডিয়া সূত্রে জানতে পেরেছিলেন, বিশ্বকাপ কভার করতে আমেরিকা এসেছি। ফলে নিজেই ফোন করে জানতে চান, ডালাসে আদৌ আসছি কি না? বিশ্বকাপে আমার শিডিউল জানার পর, যেদিন ডালাসে পা দিলাম, ফোন করে জানতে চাইলেন, মেসি ম্যাচের একটা টিকিট কি জোগাড় করা সম্ভব? ঠিক হয়, সময় বুঝে তিনি ডালাসে এসে দেখা করবেন। অবশেষে এক বন্ধুকে নিয়ে তিনি এলেন। ডালাস থেকে মায়ামি আসার জন্য বিমানবন্দরে যাওয়ার জন্য যখন তাড়াহুড়ো করছি। বন্ধুকে নিয়ে ঝড়ের গতিতে এলেন। জানালেন, স্থানীয় একটি এয়ারলাইন্সে চাকরি করছেন। মঙ্গলবার শুধু ছুটি। এতদিন পর দেখা। দু’জনেই আবেগপ্রবণ। কম সময়ের মধ্যে যত পারছিলেন, কলকাতা, ইস্টবেঙ্গল, তার সহ ফুটবলার, ইস্টবেঙ্গল কর্তা, বেশ কিছু সমর্থক, সবার খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

জানালেন, সোশ্যাল মিডিয়ার সূত্রে বেশ কিছু সহ ফুটবলার, ফ্যানদের সঙ্গে এখনও ওর বেশ ভালোরকম যোগাযোগ রয়েছে। কিন্তু ভারত? কলকাতা? মাইক বলছিলেন, “অনেক দেশেই বিভিন্ন ক্লাব খেলেছি। কিন্তু ইস্টবেঙ্গল আমার হৃদয়ে। প্রতি মুহূর্তে মিস করি। ইচ্ছে আছে, এই বছরে না হলেও, সামনের বছরে একবার কলকাতায় গিয়ে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে যাব।” একটা সময় ভেবেছিলেন, এখানেই বাচ্চাদের নিয়ে কোচিং শুরু করবেন। আমেরিকা জুড়ে প্রচুর বাঙালি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন। বিশেষ করে নিউ জার্সির দিকে। বলছিলেন, “জানেন তো, আমেরিকাতেও আমার অনেক ইস্টবেঙ্গল ফ্যান রয়েছে। অনেকে বলেছেন, ওদের বাচ্চাদের কোচিং দিতে। টাইম ম্যানেজ করে উঠতে পারছি না। তাহলে ডালাস ছেড়ে আমাকে নিউ জার্সিতে গিয়ে থাকতে হবে।” তবে এই মুহূর্তে না হলেও, দ্রুত কোচিং ডিগ্রি নিয়ে কলকাতায় গিয়ে ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে কোনওভাবে যুক্ত হওয়ার ভীষণই ইচ্ছে। “যাই কাজ করি। আসলে তো আমি ফুটবলার। সেটাই তো আমার প্যাশন। এখানে ছুটির দিনে বন্ধুরা টুর্নামেন্ট খেলার জন্য ডাকে। ভাল লাগে না। শুনেছি, মুসা, ব্যারেটোরা সবাই কোচিংয়ে চলে এসেছে। আমাকেও তাড়াতাড়ি ডিগ্রিটা নিতে হবে। সুভাষকে খুব মিস করি।” জানেন তো, সুভাষ ভৌমিক আর নেই? জবাব এল, “হুম। মৃত্যুর তিনদিন আগে আমার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। সেই লোকটাই একদিন শুনলাম, আর নেই। ওর ছেলে রনিকে ফোন করেছিলাম। কাঁদতে কাঁদতে ঘটনাটা বলল।”

কলকাতা থেকে এত দূরত্বে থাকলে কী হবে। মন কিন্তু পড়ে আছে সেই গঙ্গাপাড়ে। বারবার খোঁজ নিচ্ছিলেন, “আচ্ছা, এখনও ডার্বির আগে সমর্থকরা ক্লাবে এসে ফুটবলারদের পিঠ চাপড়ে দেয়? এখনও সমর্থকরা রোজ ক্লাবের প্র্যাকটিসে এসে ভীড় জমান?” সত্যি বলতে কী, এর একটারও উত্তর আমি ওকোরোকে দিইনি। বলিনি, ওর দেখা কলকাতা ফুটবলের সঙ্গে কর্পোরেট যুগের কলকাতা ফুটবলের এখন সহস্র যোজন পার্থক্য। হয়তো কলকাতায় গিয়ে, দেখে আসা সময়ের পরিবেশের সঙ্গে কোনও মিলই খুঁজে পাবেন না তিনি। খুঁজে বেড়াবেন সমর্থকদের সঙ্গে, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ফুটবলারদের সই আত্মিক সম্পর্ক। ওঠা-বসা। একে অপরের সুখে-দুঃখের গল্প শোনা। এই কলকাতা ফুটবল মাইক না দেখলেই বোধহয় ভাল করবেন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.