Advertisement
Advertisement
Argentina vs Spain

ধোঁয়ায় ঢাকা নিউ ইয়র্কে সূর্যরশ্মি আর্জেন্টিনা, দেশ বনাম ‘দেশ’ দ্বন্দ্বের সামনে ফুটবলের বরপুত্র

কানাডার ভয়াবহ দাবানল থেকে প্রবল ধোঁয়া উৎপন্ন হয়েছে। সেই ধোঁয়া নাকি নিউ ইয়র্কের পাশাপাশি নিউ জার্সির আকাশও ঢেকে ফেলেছে।

Advertisement
দুলাল দে
দুলাল দে

শেষ আপডেট: জুলাই ১৮, ২০২৬, ১১:২৬

link
দুলাল দে
দুলাল দে

শেষ আপডেট: জুলাই ১৮, ২০২৬, ১১:২৬

options
link
ধোঁয়ায় ঢাকা নিউ ইয়র্কে সূর্যরশ্মি আর্জেন্টিনা, দেশ বনাম ‘দেশ’ দ্বন্দ্বের সামনে ফুটবলের বরপুত্র zoom
ধোঁয়ায় ঢাকা নিউ ইয়র্কে ফাইনাল খেলবেন মেসি-ইয়ামালরা।

ঠিক ছিল নিউ জার্সি আসার জন্য আটলান্টা থেকে ফ্রন্টায়ার এয়ারলাইন্সের বিমান ছাড়বে রাত দশটা চল্লিশে। নির্ধারিত সময়ে বিমানে বসে আছি। বাইরে এমন ঝোড়ো হাওয়া শুরু হল, পাক্কা ২ ঘণ্টা বিমানের মধ্যে আটলান্টাতে বসে। ভোর রাতে নিউ জার্সি পৌঁছে শুনলাম, আটলান্টা থেকে বিমান ওড়ার সময়ে একই সমস্যায় পড়েছিলেন মেসিরাও। আর্জেন্টিনা দল বিশেষ বিমানে যখন নিউ জার্সিতে পৌঁছল, তখন মধ‌্যরাত পেরিয়ে গিয়েছে।

একে তো আটলান্টা ছাড়ার সময় ঝড়-ঝঞ্ঝা। তার উপর নিউ জার্সি আসার পথে বিমানে যা ঘোষণা হল, তা চমকে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। আর্জেন্টিনা দলের কাছেও নিশ্চিতভাবে ওই বার্তা পৌঁছেছে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

কানাডার ভয়াবহ দাবানল থেকে প্রবল ধোঁয়া উৎপন্ন হয়েছে। সেই ধোঁয়া নাকি নিউ ইয়র্কের পাশাপাশি নিউ জার্সির আকাশও ঢেকে ফেলেছে। তাতে নিউ ইয়র্ক আর নিউ জার্সির পরিবেশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। আর সেটা এতটাই যে, শহরে বিশ্বকাপ ফাইনালের দু’দিন আগে শহরের মেয়র জোহরান মামদানিকে সাংবাদিক সম্মেলন পর্যন্ত করতে হয়েছে। জানানো হয়েছে, দাবানলের ধোঁয়া থেকে পরিবেশ এতটাই অস্বাস্থ্যকর হয়েছে, যাঁরা বাইরে দৌড়তে বা শরীরচর্চা করতে বের হন, তাঁরা কয়েকটা দিন না বেরোলেই ভালো করবেন। যাঁদের হৃদরোগজনিত সমস্যা রয়েছে, তাঁদের এই সময় বাইরে না বেরোনোই ভালো।

এই সব কারণেই বিমানে ঘোষণার সময় জানানো হল, সামনের কয়েকটা দিন মাস্ক পরে বাইরে যাওয়াই মঙ্গল। একদিন পর তো এই শহরেরই যে বিশ্বকাপ ফাইনাল! তাহলে সেখানে খেলা হবে কী করে? মেটলাইফ তো আর ডালাস কিংবা আটলান্টার মতো ইন্ডোর স্টেডিয়াম নয়। যা জানা গেল, শিকাগো শহরের বাতাসে এই ধোঁয়ার পরিমাণ এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে মেজর লিগ সকারের শিকাগো বনাম ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসের ম্যাচ বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। তাহলে রবিবার মেটলাইফে আর্জেন্টিনা বনাম স্পেন ম্যাচে কী হবে?

সামনের কয়েকটা দিন মাস্ক পরে বাইরে যাওয়াই মঙ্গল। একদিন পর তো এই শহরেরই যে বিশ্বকাপ ফাইনাল! তাহলে সেখানে খেলা হবে কী করে? মেটলাইফ তো আর ডালাস কিংবা আটলান্টার মতো ইন্ডোর স্টেডিয়াম নয়।

বাতাসের দূষণের জন‌্য চিন্তার মাঝেই আরও একটা অস্বস্তি থাকছে আর্জেন্টিনা শিবিরে। অস্বস্তি ফাইনালের রেফারি নিয়ে। ফাইনালে দায়িত্বে স্লোভেনিয়ার রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ। এই রেফারিকে নিশ্চয়ই ভুলতে পারেননি আর্জেন্টাইন সমর্থকরা। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে শুরুতে সৌদি আরবের কাছে হেরে গিয়ে যে টেনশনের আবহ তৈরি হয়ে গিয়েছিল, সেই ম্যাচের দায়িত্বে ছিলেন এই স্লোভানিয়ার রেফারি। ফলে আর্জেন্টিনার সৌভাগ্যের সঙ্গে এই রেফারি ভীষণভাবে জড়িত এরকমটা দাবি করা যায় না। ফাইনালের রেফারি সম্পর্কে তার থেকেও একটা মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে। ছয় বছর আগে মাদক, অস্ত্র এবং পতিতাবৃত্তির চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার জন্য ভিনচিচকে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিলজিনা শহর থেকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ! মনে হতেই পারে, এরকম একজনকে ফাইনালে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব কীভাবে দিল ফিফা? কিন্তু পরে স্লোভেনিয়ান ফুটবল ফেডারেশন এবং পুলিশ তদন্ত করে দেখে অপরাধ চক্রের যিনি প্রধান ছিলেন, তাঁর একটা আমন্ত্রণে তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার সঙ্গে কোনওভাবেই জড়িত নন। ফলে বিনা শর্তে মুক্তি দেওয়া হয় ভিনচিচকে। ফাইনালের বাকি দুই সহকারী রেফারিও স্লোভেনিয়ার। চতুর্থ রেফারি জর্ডনের।

যেহেতু শুক্রবার মধ্যরাতে আর্জেন্টিনা দলকে নিউ জার্সিতে পৌঁছতে হয়েছে, ফাইনালের প্রস্তুতি হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে আটলান্টাতে দলকে অনুশীলন করিয়ে নিয়েছিলেন কোচ স্কালোনি। অনুশীলনের বাইরে আর্জেন্টিনা শিবিরে এখন একটাই শঙ্কা– ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড এবং ফিফার আইনি জটিলতায়, ফকল্যান্ড নিয়ে সেমিফাইনাল ম্যাচে মাঠে বিতর্কিত ব্যানার প্রদর্শনের জন্য কোনও নির্বাসন বা জরিমানার শাস্তি নেমে আসবে না তো? কারণ, এই ঘটনা নিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া না কি শুরু হয়ে গিয়েছে।

আটলান্টায় অনুশীলনে শুরুর দিকে মেসিকে দেখা যায়নি। ফাইনালের আগে সুস্থ-সতেজ মেসিকে পাওয়ার জন্য বল নিয়ে অনুশীলনের বদলে আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে না কি জিমে বেশি ব্যস্ত রেখেছিলেন স্কালোনি। কারণ ফাইনালে স্পেন ম্যাচের আগে দ্রুত রিকভারি করতে হবে মেসিকে। মেসি না কি ফুটবলারদের সতর্ক করে দিয়েছেন, ফাইনালের আগে স্পেন ছাড়া অন্য কোনও নেতিবাচক বিষয়ে এই মুহূর্তে মাথা না ঘামাতে। ফাইনালের ফোকাস নষ্ট হতে পারে তাতে। তবে ফাইনালে স্পেনের বিরুদ্ধে মেসির খেলতে নামা, একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ হওয়া বলে মনে করছেন অনেকে। এই স্পেন থেকেই তাঁর ফুটবল কেরিয়ার শুরু। আর সেই স্পেনের বিরুদ্ধেই দেশের হয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ার মোটামুটি শেষের পথে। স্প্যানিশ ফুটবলের জল হাওয়ায় বড় হয়ে মহীরুহ হওয়া মেসির অস্তাচলের ম্যাচেই আবার উনিশ বছরের এক তরুণ, স্প্যানিশ ফুটবলের লামিনে ইয়ামালের বিশ্বকাপে সাফল্যর সূর্যোদয়ের হাতছানি।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.