‘জয়ী হোক, রাজা হোক পাণ্ডবসন্তান/ আমি রব নিষ্ফলের, হতাশের দলে।’ এই ছিল মনষ্কামনা সূতপুত্র কর্ণের। রবীন্দ্রনাথের ‘কর্ণ-কুন্তী-সংবাদ’-এর একেবারে শেষদিকে তাঁর এই আর্তি আমাদের খুব প্রিয়। মনে মনে অনেকেই ভেবেছি, একবার যদি জিতে যেত কর্ণ! আসলে যে বিজয়ী, সমস্ত গরিমা তাঁকে ঘিরে আবর্তিত হলেও পরাজিতের থাকে নিজস্ব অভিজ্ঞান। চলতি বিশ্বকাপে একটা অদ্ভুত ‘ট্রেন্ড’ লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশ্বজয়ী আর্জেন্টিনা (Argentina Football Team) এবং তাদের প্রবাদপ্রতিম খেলোয়াড় লিওনেল মেসির প্রতি এক আশ্চর্য অসূয়া। একসময় বহু ফুটবল ভক্ত আর্জেন্টিনাকে ‘আওয়াজ’ দিত ‘এরা খালি ফাইনালে হারে’ বলে! আজ তাঁদেরই বড় একটা অংশের তীব্র মনখারাপ হয়ে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা জিতলে!
এই প্রসঙ্গে একটা কথা বলা যেতে পারে। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও এই ট্রেন্ড ছিল। নানা ‘গন্ধ’ পেয়েছিলেন নিন্দুকেরা। বলা হতে থাকে, বিশ্বকাপটা ‘ডিজাইন’ই করা হয়েছে মেসিদের বিশ্বজয়ী করতে। মেসিদের নাকি ইচ্ছে করে পেনাল্টি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে! মেসিকে ডাকা হচ্ছিল ‘পেসি’ নামে। যদিও আশ্চর্যের বিষয় হল, কোনও বড় টুর্নামেন্টে পেনাল্টি থেকে সুবিধা পাওয়া দলের তালিকা করলে আর্জেন্টিনা মোটেও অগ্রগণ্য হবে না। তবে সেই নিন্দুকরা সংখ্যায় কম ছিলেন।
আরও পড়ুন:

এবার আর্জেন্টিনা খেলতে নেমেছে বিশ্বজয়ী হিসেবে। আর এবার সেই ট্রেন্ড এক তুমুল আকার ধারণ করেছে। আর্জেন্টিনার প্রতিটি জয়কেই আতসকাচের তলায় ফেলে দেখা হচ্ছে। কিন্তু কেন? বিশেষজ্ঞদের একটা অংশ বলছে, আসলে ‘বিজয়ী’ হওয়ার মূল্য চোকাতে হচ্ছে আর্জেন্টিনাকে। মেসির নেতৃত্বে দীর্ঘ সময় ধরেই আর্জেন্টিনাকে হারতে হয়েছে। প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। মন জিতেছে তাঁর দল। কিন্তু না বিশ্বকাপ, না কোনও বড় সাফল্য! ২০১৬ সালের ২৬ জুন কোপা আমেরিকা ফাইনালে চিলির কাছে হারের পর তো মেসি অবসরই নিয়ে ফেলেছিলেন। পরে অবশ্য ভক্ত ও সতীর্থদের অনুরোধে সিদ্ধান্ত বদলান। এভাবে ক্রমেই ট্র্যাজিক হিরো হয়ে উঠছিলেন এলএমটেন। সর্বগুণসম্পন্ন দুরন্ত খেলোয়াড়। কিন্তু তবু বিশ্বজয়ী হতে পারছেন না। ২০২১ সাল থেকে পরিস্থিতি বদলায়। সেবছর কোপা আমেরিকা জয়ের পর ২০২২ সালে শক্তিশালী ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বজয়ী। কেবল মেসি নন, গোটা বিশ্বে বহু মানুষ সেদিন হাতের মুঠোয় বিশ্বকাপ নিয়ে ঘুমোতে গিয়েছিলেন!
বহু মানুষের স্বপ্ন ছিল, একবার জিতে যান ফুটবলের বিশ্বজয়ী। ক্লাব ফুটবলে সাফল্য বারবার এসেছে। বার্সেলোনা ভক্তদের এনে দিয়েছেন ভূরি ভূরি সাফল্য। কিন্তু মেসি ও আর্জেন্টিনার যোগফল সাফল্যের রূপরেখা তৈরি করতে করতে আটকে যাচ্ছিল। একবার সেই সাফল্যের চাকা গড়াতেই যেন অনেকের শখ মিটে গেল! স্বপ্নপূরণের পরে আর যেন কিছু পড়ে ছিল না তাঁদের চোখের সামনে। তাই এবার বিশ্বজয়ী দল হিসেবে আমেরিকায় খেলতে নামার পর থেকে বারবার রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলতে থাকেন তাঁরা। নানাবিধ ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ঘুরপাক খাচ্ছে। খোদ ফিফার প্রেসিডেন্টের দিকে আঙুল তুলে তুমুল পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে সরব হচ্ছেন বহু মানুষ। এর নেপথ্যে হয়তো রয়েছে নিজেদের দেশ (বা পছন্দের দল) হেরে যাওয়ার জ্বালা। কিন্তু পাশাপাশি আর্জেন্টিনাকে হারতে দেখার একটা অদ্ভুত ইচ্ছেও পাক খাচ্ছে তাঁদের মনে। ওরা বিশ্বজয়ী যে!
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
কবে ছাত্রভোট? ‘ফ্যাসিস্ট’ মমতা সরকারকে বিঁধে শুভেন্দুর দরবারে ঋতব্রতরা
-
১০ ঘণ্টা মেরাথন জেরা, ভবানী ভবন থেকে বেরিয়েই অভিষেকের বাড়ি ছুটলেন পিএ সুমিত
-
ভিডিওকলে স্বামীর পরকীয়া, ফোন ভেঙে দেওয়ায় স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারল যুবক! হাড়হিম ঘটনা মালদহে
-
২৫ ফুটের ‘গামোছা’য় জুবিনের গান! শব্দে স্বর বুনে শ্রদ্ধার্ঘ্য অসমের তাঁতির
-
ডেকে অপমান! দু’ঘণ্টা অপেক্ষার পর রাজ ঠাকরের দেখা না পেয়ে ফিরলেন কমনওয়েলথ সোনাজয়ী
