চারিদিক থেকে যা তথ্য আসছে, তাতে রবিবার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা-স্পেনের মধ্যে যে বিশ্বকাপ ফাইনাল হতে চলেছে, সেটা যে শুধুই বিশ্বফুটবলে নিজেদের দেশের মাহাত্ম প্রতিষ্ঠা করা, এরকমটা নয়। বরং রবিবারের ফাইনালটা হবে আজ পর্যন্ত ক্রীড়া ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ইভেন্ট। কারণ, ফাইনালের টিকিট ঘিরে যে পরিমাণ দাম ঘোরাফেরা করছে, তাতে স্টেডিয়ামে বসে ফুটবল দেখা, সাধারণের আয়ত্বের বাইরে চলে গিয়েছে। সেমিফাইনাল পর্যন্ত তাও মেরে কেটে একটা টিকিট ৩ লাখ টাকায় পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু ফাইনালে সবচেয়ে কম দামের টিকিটটাই রিসেলে হাঁকছে ১০ লক্ষ টাকা।
ফিফা একদিকে বলছে, টিকিট ঘিরে কালোবাজারি বন্ধ করতে হবে। আরেকদিকে নিজেরাই রিসেলের ব্যবস্থা করে একটা টিকিট থেকে তিনবার কমিশন ঘরে তুলছে। প্রথমে একবার সাধারণ বুকিং থেকে কমিশন নিচ্ছে। তারপর একবার রিসেল থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন কাটছে। আবার সেই টিকিটকা যে কাটছে, তার থেকেও ১৫ শতাংশ কমিশন নিয়ে আমেরিকা বিশ্বকাপে আর্থিক ভাবে ফুলে ফেঁপে উঠছে ফিফা। আর তাতেই সাধারণ মানুষের চাপে ফাইনালের আগে নড়ে চড়ে বসেছে মার্কিনি প্রশাসন। নিউ ইয়র্ক আর নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেলরা যৌথভাবে ফাইনাল ম্যাচের টিকিট বুকিং প্রক্রিয়া নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
আরও পড়ুন:
রবিবার মেটলাইফের ভিতর আর্জেন্টিনা-স্পেনের ফুটবল যুদ্ধ শুরুর আগেই, মেটলাইফের বাইরে শুরু হয়েছে বিশাল এক অর্থনৈতিক যুদ্ধ। ফুটবল এখন আর শুধুই ফুটবল নয়। পুঁজিবাদের বিশাল এক বিজ্ঞাপন। ফাইনালের টিকিট নিয়ে সরকারিস্তরে নড়াচড়া আরও শুরু হয়েছে কারণ স্প্যানিশ সমর্থকরা বারবার করে তাদের ফেডারেশনের কাছে আবেদন করছে ফাইনালের টিকিট নিয়ে। কিন্তু তারা অপারগ। এর মধ্যে আবার ফাইনালের আগে থাই মাসলের চোটের জন্য অনুশীলন না করে লামিনে ইয়ামল বাইরে বসে থাকায় টেনশনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে স্পেন শিবিরে।
দু’বছর আগে জুলাই মাসে ইউরো সেরা হয়েছিল স্পেন। দুবছর পর ফের আর এক জুলাই। এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি। ফাইনালে ওঠার জন্য ১৬ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা। ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক গোলে বিশ্বকাপ জেতার পর স্পেন আর একবারের জন্যও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে পারেনি। ১৬ বছর পরেও ফাইনালে উঠে এরকম সমস্যায় পড়তে হবে, কে আর আগে ভেবেছিলেন? প্র্যাকটিসে দেখা গিয়েছে, বাঁ পায়ের থাই মাসলে ব্যান্ডেজ বেঁধে মাঠের পাশে বেঞ্চে বসে আছেন স্প্যানিশ তারকা ইয়ামেল। দলের অন্য ফুটবলাররা যখন ফুয়েন্তের কোচিংয়ে টানা প্র্যাকটিস করছেন, ইয়ামাল তখন থাই মাসলে ব্যান্ডেজ বেঁধে বসে।
সেমিফাইনালে ওয়ারজাবালের পেনাল্টি থেকে গোলের পিছনে বড় অবদান ছিল ইয়ামালের। ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়ে পিছন থেকে ট্র্যাকল করায় স্প্যানিশ তারকাকে বক্সের মধ্যে আটকান। সেখান থেকেই পেনাল্টিতে গোল করে এগিয়ে যায় স্পেন। ইয়ামেলকে প্র্যাকটিসে না দেখে কিছুটা হলেও চিন্তিত হয়ে পড়েন স্প্যানিশ সমর্থকরা। দেখা যায়, মাঠে বসে ফোম রালার দিয়ে রিহ্যাব করছেন তিনি। এই অবস্থায় আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে দলের অন্যতম তারকা পুরো ফিট হয়ে খেলতে না পারলে, দলের অবস্থা কী হবে, তা সহজেই অনুমেয়। সেই কারণেই সমর্থকদের চিন্তা।
ইয়ামাল যাতে ফাইনালে সম্পূর্ন ফিট হয়ে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে মাঠে নামতে পারেন, তারজন্য দিন-রাত এক করে ফেলছেন দলের সঙ্গে থাকা ডাক্তাররা। দলের মেডিক্যাল বার্তায় অবশ্য বলা হয়েছে, বড় কোনও চোট নেই ইয়ামালের। ফাইনালের আগে স্প্যানিশ তারকা নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না টিম ম্যানেজমেন্ট। তাই যতটা সম্ভব বিশ্রাম দিয়ে চোটের জায়গায় রিকভারি করা হচ্ছে। আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে শুরু থেকেই মাঠে নামবেন তিনি। তবে শুধু ইয়ামাল নন। এদিন স্পেনের প্র্যাকটিসে বল নিয়ে অন্যদের সঙ্গে দেখা যায়নি পেড্রো পোরোকেও। তিনিও আলাদা ট্রেনিং করেন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
স্টেশন মাস্টারের জন্যই হয়েছে! মুর্শিদাবাদে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার দায় ঝেড়ে কী দাবি ‘মদ্যপ’ গেটম্যানের?
-
‘টুকরে টুকরে গ্যাং, টিএমসি থেকে টিটিজি’, ২১ জুলাই একাধিক অনুষ্ঠান নিয়ে কটাক্ষ অগ্নিমিত্রার
-
রাজারহাট বিস্ফোরণে পুলিশের জালে মূল অভিযুক্ত, সোদপুর থেকে গ্রেপ্তার শামিম
-
‘মামলা থেকে সরে যান’, হুমকি দিয়েই ছুরি নিয়ে হামলা! বাপ্পাদিত্যের বিরুদ্ধে থানায় আইনজীবী
-
জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চে সেরা অভিনেতা কার্তিক, সেরা ছবি শ্রীকান্ত, দেখুন তালিকা
