ফুটবলে, ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারদের নিয়ে একটা কথা প্রায়ই বলা হয়। বলা হয়, মাঠে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারদের উপস্থিতি বোঝা না গেলেও অনুপস্থিতি নজর এড়িয়ে যায় না। অর্থাৎ, এই ‘প্রজাতি’র ফুটবলাররা চোখের আরাম না হলেও দলের জয়ের ক্ষেত্রে অপরিহার্য। পাজলের সেই খণ্ড যা না থাকলে স্পষ্ট হয় না পুরো ছবিটা।
স্পেনের জাতীয় দলে রডরিগো হার্নান্ডেজ কাসকান্তেও তেমনই এক সদস্য। যাঁকে ফুটবলগ্রহ চেনে রড্রি নামে। তাঁর কাছে নেই লামিন ইয়ামালের স্কিল বা নিকো উইলিয়ামসের গতি। মিকেল ওয়ারজাবালের মতো ফিনিশার নন, হয়ে উঠতে পারেন না মিকেল মেরিনোর মতো ‘সুপার সাব’। কিন্তু তারপরও কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্প্যানিশ ইঞ্জিনে ইন্ধন রড্রি। যাঁকে স্প্যানিশ হেডস্যর বর্ণনা করেন দলের ‘মেরুদণ্ড’ হিসেবে। “অনেকদিন আগেই বলেছি, ফুটবলবোধ আছে এমন কেউ রড্রিকে নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই পারে না। সময়ের সঙ্গে আমার কথা সত্যি বলে প্রমাণিত হয়েছে। আমাদের ফুটবল দর্শনের জন্য ও একেবারের পারফেক্ট।” কাতারে ৬৩৮ পাস খেলেছিলেন রড্রি, গড়েছিলেন বিশ্বকাপ-রেকর্ড। এবার ইতিমধ্যেই নিজের নজির টপকে গিয়েছেন। সেমিফাইনাল পর্যন্ত ৬৫৫ পাস এসেছে তাঁর পা থেকে। এখনও একটা ম্যাচ আছে তাঁর হাতে। কোথায় থামবেন, সেটাই প্রশ্ন।
আরও পড়ুন:
এবারের বিশ্বকাপে খাতায়-কলমে সবচেয়ে ‘ভয়ংকর’ ফরোয়ার্ড লাইন ফ্রান্সের। কিলিয়ান এমবাপে, ওসমানে ডেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে, ব্র্যাডলি বারকোলার মতো ক্লাব ফুটবলে দুর্ধর্ষ ফর্মে থাকা ফরোয়ার্ডের সমাহার ফরাসি শিবিরে। যদিও মঙ্গলবার রাতে ডালাসে বলার মতো পারফরম্যান্স নেই কারও। কারণ পারফর্ম করার জন্য মাঝমাঠ থেকে বলের যোগাতে হয়। আর ফরাসি মিডফিল্ডকে কার্যত দর্শক করে রাখার দায়িত্ব দারুণভাবেই পালন করেন রড্রি। আদ্রিয়ান রাবিও, অরেলিয়া চুয়ামেনি, মানু কোনের মতো তারকাও ম্লান হয়ে গিয়েছিল তাঁর কিরণে। তবে প্রচারের আলো সেভাবে পাননি তিনি। যা দেখে জাটান ইব্রাহিমোভিচও বলে দিয়েছেন, “রড্রির কথা বলতেই হবে। পুরো মাঠ জুড়ে খেলেছে। ওকে নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয় না। কিন্তু ও সেমিফাইনালে পুরোটাই দুর্দান্ত খেলল। অসাধারণ শব্দটাও যেন যথেষ্ট নয় ওর জন্য।”
চোটের জন্য গত দু’মরশুম ধরেই ভুগছেন রড্রি। ২০২৪-এর মাঝে লিগামেন্টের চোটের জন্য অস্ত্রোপচার হয় তাঁর। বাইরে ছিলেন সাড়ে সাত মাস। অর্থাৎ মরশুমের প্রায় পুরোটাই দর্শক হিসেবে কাটিয়েছিলেন তিনি। চলতি মরশুমেও দফায় দফায় ভুগেছেন। কখনও কুঁচকি, কখনও হাঁটু। বিশ্বকাপের পর ফের অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা তাঁর, যাতে আরও কয়েকটা সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকবেন তিনি। এমনকী চোটের জন্য রষ্ট্রির বিশ্বকাপ খেলা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু তাঁর উপর ভরসা বিন্দুমাত্র কমেনি ফুয়েন্তের। এখন সেই ভরসার দাম পাচ্ছেন স্পেন হেডস্যর। পাচ্ছে স্পেনও।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
সুলভে জীবনদায়ী ওষুধ, মোদি সরকারের উদ্যোগে আরও একধাপ! কলকাতা-বর্ধমানে নতুন স্টোর
-
পেনাল্টিই হল না, তবু ভাইরাল ইংরেজ গোলকিপারের ‘চিট শিট’, দেখে হেসে গড়াগড়ি মেসিরা
-
ইসরোর বিজ্ঞানীদের ইস্তফার হিড়িক, ‘বহু এসেছে-গিয়েছে’, পাত্তাই দিচ্ছেন না কেন্দ্রীয় মন্ত্রী!
-
বিচ্ছেদ ঘোষণার আড়াই মাসেই বন্ধুর প্রেমে মশগুল! সূরজকে ভুলে কাকে মন দিলেন মৌনী?
-
‘সব দোষ মমতার, বছরে যা রেভিনিউ তুলেছ…’, কেন ফুঁসছেন দিদির ‘প্রিয়’ কেষ্ট?
