নরওয়ে: ২ (নুসা, হালান্ড)
আইভরি কোস্ট: ১ (দিয়াল্লো)
গোটা ম্যাচে তিনি শান্ত ছিলেন। বিপক্ষের বক্সে মাঝে মধ্যে উঁকিঝুঁকি দিলেও সেভাবে সাড়া ফেলতে পারেননি। তাঁর নাম শুনে বিপক্ষের রক্ষণে যে কাঁপুনি ধরে যায়, এদিন সেটাও ছিল না। কিন্তু দিনের শেষে তিনি আর্লিং হালান্ড। বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার। দিনের শেষে নরওয়ের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম তিনি। ম্যাঞ্চেস্টার সিটির বিশ্ববরেণ্য স্ট্রাইকারই নরওয়েকে কঠিন ম্যাচে জিতিয়ে দিলেন। মজার কথা হল কাজটা তিনি করলেন সহজতম সুযোগ কাজে লাগিয়ে। আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ব্রাজিলের বিরুদ্ধে খেলাটা নিশ্চিত করে ফেললেন মুসারা।
ERLING HAALAND SCORES FOR NORWAY!!!
Advertisement🇨🇮 Ivory Coast 1-2 Norway 🇳🇴 pic.twitter.com/j9cW5KClWT
— World Cup HQ (@WorldCup26HQ) June 30, 2026
ম্যাচের ৮৬ মিনিটে হালান্ড যে গোলটি করলেন তার আগে ম্যাচে দু’টি গোল হয়ে গিয়েছে। বলা বাহুল্য, হালান্ডের গোলটির সঙ্গে প্রথম দু’টি গোলের তুলনাই হয় না। মঙ্গলবার ম্যাচের প্রথম গোলটি হয় ৩৯ মিনিটে। বাঁদিক থেকে দ্রুত গতিতে বক্সের ভিতরে আচমকা ঢুকে পড়লেন নরওয়ের অ্যান্তনিও নুসা। দু’জনকে ড্রিবল করে ইনস্টেপে জোরালো শট। বল জাড়িয়ে গেল আইভরি কোস্টের গোলে। অনেকটা ব্রাজিলের ফরওয়ার্ড নেইমার সেরা ফর্মে থাকলে যেমন গোল করেন, সেই একই ধাঁচে এই গোলটি করেন নরওয়ের বছর একুশের উইঙ্গার। নুসা আসলে নিজে নেইমারের ফ্যান। ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারের ভিডিও দেখে তাঁর খেলা শেখা। নেইমারের ধাঁচে তাঁর করা গোলটি রেকর্ড বুকেও নাম লিখিয়েছে। নুসাই বিশ্বকাপে নরওয়ের তরুণতম গোলদাতা হয়ে গিয়েছেন।
নুসার ওই গোল বাদ দিলে প্রথমার্ধে বেশিরভাগ সময় দাপট ছিল আইভরি কোস্টের। সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি নরওয়ে। যদিও ম্যাচের ৪০ মিনিটে জোড়া সুযোগ এসেছিল নরওয়ের সামনে। এবং একপ্রকার অপ্রত্যাশিতভাবে গোলের একেবারে ৬ গজ দূর থেকে সুযোগ নষ্ট করলেন খোদ হালান্ড। বিশ্বাস হয়নি অনেকের। ওই সুযোগ নষ্টের খেসারতও দিতে হয় ‘ভাইকিং’দের। ম্যাচের ৭৪ মিনিটে আমাদ দিয়াল্লো কার্যত একার ক্যারিশমায় অবিশ্বাস্য গোল করে আইভরি কোস্টকে সমতায় ফিরিয়ে দিলেন। ডানপ্রান্ত থেকে কার্যত একার দক্ষতায় বল নিয়ে নরওয়ে বক্সে ঢুকে ডিফেন্ডারদের ড্রিবল করে একপ্রকার অবিশ্বাস্য গোলটা করে গেলেন দিয়াল্লো।
🚨🌎 AMAD DIALLO HAS EQUALIZED FOR IVORY COAST! WHAT A GOAL! 🤯🤯
Norway 1-1 Ivory Coast.pic.twitter.com/8DbSHb9wVo
— Tekkers Foot (@tekkersfoot) June 30, 2026
কিন্তু আফসোসের কথা ওই গোলটি কাজে এল না। কাজে এল না কারণ বিপক্ষ দলে একজন ছিলেন যার নাম আর্লিং হালান্ড। আধুনিক ফুটবলের গোলদস্যু। গোল পাওয়ার জন্য ঠিক কখন-কোথায় থাকতে হবে, তাঁর চেয়ে ভালো কেউ জানেন না। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে আবারও সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় পৌঁছে গেলেন হালান্ড। সতীর্থর বাড়ানো বল কার্যত ফাঁকা নেটে ঠেলে দিয়ে নিশ্চিত করে ফেললেন নরওয়ের প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা।

১৯৯৮ সালের পর এই প্রথমবার ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে নরওয়ে। সেবার হালান্ডের বাবা আলফ ইঙ্গে হালান্ড খেলেন নরওয়ে জার্সিতে। ২৮ বছর আগে নক আউটে খেলা হয়নি নরওয়ের। কিন্তু এবার প্লে-অফে নেমেই বাজিমাত করলেন হালান্ডরা। বাবাদের স্বপ্নপুরণ করতে এখন তাঁরা প্রিকোয়ার্টারে। প্রতিপক্ষ ব্রাজিল। লড়াই কঠিন। মঙ্গলবার জিতলেও মনের মতো ফুটবল নরওয়ে খেলতে পারেনি। কিন্তু তাতে কী! তাঁদের হাতে একজন আর্লিং হালান্ড আছে। যার নামের পাছে বিশ্বকাপে পাঁচটি গোল আছে।
সর্বশেষ খবর
-
বাড়িতে পাথর ছুড়ছে দুষ্কৃতী! সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে তোপ অভিষেকের
-
ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপ প্রধানমন্ত্রী মোদির, কী কথা হল, চাপ বাড়বে ট্রাম্পের?
-
নীচু জাত! কলেজের অশিক্ষক কর্মীকে নির্যাতন, ঘরে ঢুকতে বাধা অধ্যক্ষার! বিতর্ক পুরুলিয়ায়
-
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সস্ত্রীক দিলীপ ঘোষের সাক্ষাৎ, উপহার আম ও সন্দেশ! কী কথা হল?
-
পেট্রলে ইথানল মিশিয়ে ব্যবহারের পরিণাম কী? সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র বলল, ‘সবটাই পরীক্ষার স্তরে’
