সোমবার এমন একটি শহরে ব্রাজিল তার নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচটি খেলতে নামছে, যেখান থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয় মহাকাশ যানের কক্ষপথ। যে কোনও মহাকাশ অভিযানে, মিশন কন্ট্রোল থাকে এই হিউস্টনে। এখানেই রয়েছে, নাসার সেই বিখ্যাত ‘জনসন স্পেস সেন্টার’। সোমবার এই হিউস্টনের মাটিতে ড্রেসিংরুমের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পুরো ব্রাজিল দলটাকে কোন কক্ষপথে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হন কোচ কার্লো আন্সেলোত্তি, সেদিকেই তাকিয়ে সবাই। তবে সেই কক্ষপথে ঘোরার কোনও সম্ভাবনাই নেই নেইমারের। গ্রুপ লিগের মতো নকআউটে জাপানের বিরুদ্ধেও তিনি শুরুতে রিজার্ভে (Brazil vs Japan Match Preview)।
চোট থাকা অবস্থায় রিজার্ভে। আর চোট সেরে যাওয়া নেইমার রিজার্ভে। এই দুই তথ্যর মধ্যে পার্থক্যটা আকাশ আর পাতালের। তার উপরেও কোন প্রতিপক্ষর বিরুদ্ধে? যে দলের বিরুদ্ধে খেলতে নামলে নেইমারের বুট নেচে ওঠে। এখনও পর্যন্ত পাঁচটি ম্যাচ খেলে গোল করেছেন ৯টি। জাপানের বিরুদ্ধে ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকারের চিরকালীন পারফরম্যান্সের তথ্যটাও যেমন সত্যি। সেরকম জাপানের বিরুদ্ধে নেইমারকে শুরুতে নামানো হচ্ছে না। এই তথ্যটাও ব্রাজিল শিবিরের জন্য ভীষণভাবেই সত্যি।
আরও পড়ুন:
ব্রাজিল ফুটবলের গত ১৬ বছরের সর্বজনস্বীকৃত সম্রাট, যিনি হয় ফ্রেন্ডলি অথবা জুনিয়রদের দেখে নেওয়ার জন্য জাতীয় দলে মাত্র ৬ বারের জন্য রিজার্ভ বেঞ্চে বসেছেন, সেই ব্রাজিল ফুটবলের গত দেড় দশকের একচ্ছত্র সম্রাট জাপান ম্যাচেও বসবেন রিজার্ভে!

এই জাতীয় খবর যদি বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) মঞ্চে অন্য যে কোনও দলের ড্রেসিংরুম থেকে প্রকাশিত হত, তাহলে এতক্ষণে ‘ইগো’, ‘ব্যক্তিত্বের লড়াই’, ‘ড্রেসিংরুমে ভাঙন।’ এই জাতীয় হেডলাইন তৈরি হয়ে যেত। কিন্তু কোচ আন্সেলোত্তি আর ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমারের সম্পর্কের রসায়নটা এতটাই গভীর যে, জাপান ম্যাচের আগে ড্রেসিংরুমের আবহাওয়া সামান্যতম বিঘ্নিত হতে পারে, এরকম কোনও সম্ভাবনাই নেই। উল্টে এদিন সকালের প্র্যাকটিসে আন্সেলোত্তির সঙ্গে প্র্যাকটিসে রীতিমতো মজা করতে কখনও আবার সতীর্দদের লেগপুল করতে দেখা যায় হাসিখুশি নেইমারকে। কিন্তু যার পায়ে বল পড়লেই এই গত দেড় দশক ধরে উথাল-পাথাল হয়েছে হলুদ গ্যালারি। সাম্বার ছন্দে হৃদয়কে দোলা দেওয়া রাজপুত্রর ভেতরটা কি একবারের জন্যও রিজার্ভে বসে জ্বলে পুড়ে খাঁক হয়ে যাচ্ছে না? বরং তাঁকে দেখা যাচ্ছে, ব্যক্তিস্বার্থ সরিয়ে সতীর্থদের উদ্বুদ্ধ করতে। হয়তো সেই কারণেই আন্সেলোত্তি এই কারণেই নেইমার সম্পর্কে বলছেন, ‘‘নেইমার ভীষণই প্রফেশনাল ফুটবলার। কোন সময়ে কী করতে হয়, ও জানে। তাছাড়া এই দলে তরুণ ফুটবলারদের কাছে নেইমার এক আদর্শ টিমম্যানের নাম।’’

তার মানে এই নয় যে, নেইমারকে ইচ্ছে করেই মাঠের বাইরে রেখেছেন আন্সেলোত্তি। তার উপর যখন তিনি জানেন, জাপানের বিরুদ্ধে নেইমারের রেকর্ডটা। কিন্তু চোট সারলেও সত্যিই এখনও নব্বই মিনিট ম্যাচ খেলার ফিটনেসের ধারেকাছে যেতে পারেননি ব্রাজিল তারকা। ফলে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার দলের প্রথম একাদশে পরিবর্তন আনার খুব একটা ইচ্ছে নেই ব্রাজিল কোচের। বরং যুদ্ধ জয়ে দরকার পড়লে জাপানের বিরুদ্ধে ১০ নম্বর বোমা বর্ষণের জন্য বেঞ্চে তো রইলেন নেইমার। দলের সেরা অস্ত্রটিকে তাড়াহুড়ো করে খেলিয়ে ফের চোটের তালিকায় নাম তুলে দিতে চাইছেন না আন্সেলোত্তি। সোমবার রাউন্ড অফ ৩২-এ জাপান। এরপর যত এগোবে, তত শক্তিশালী নামগুলি প্রতিপক্ষ হিসেবে আসবে। এমনিতেই চোটের জন্য রাফিনহাকে হিউস্টনে নিয়ে আসা হয়নি। চেষ্টা হচ্ছে নিউ জার্সির বেস ক্যাম্পে রেখে যত দ্রুত সম্ভব ফিট করে তোলার। চোটের পরিমাণ মারাত্মক কিছু হলে এতক্ষণে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হত তাঁকে। আর সেই জায়াগাতে স্কটল্যান্ড ম্যাচের মতোই থাকবেন রায়ান। বাকি দল তো অপরিবর্তিত। আলিসন, দানিলো, মার্কুইনোস, গ্যাব্রিয়েল, ডগলাস স্যান্তোস, কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারেস, লুকাস পাকেতা, কুনহা এবং ভিনিসিয়াস জুনিয়র।

প্র্যাকটিসে এদিন মানব প্রাচীর তৈরি করে ফরোয়ার্ডের ফুটবলারদের দিয়ে অনেকক্ষণ ডিফেন্স কীভাবে ভাঙতে হয়, প্র্যাকটিস করিয়ে গিয়েছেন আন্সেলোত্তি। এই প্র্যাকটিস দেখে অন্তত একটা ব্যাপার পরিষ্কার, জাপানের জমাট ডিফেন্স ভাঙার প্রক্রিয়াটা প্র্যাকটিসের মাঠ থেকে শুরু করেছেন।
এই জাতীয় খবর যদি বিশ্বকাপের মঞ্চে অন্য যে কোনও দলের ড্রেসিংরুম থেকে প্রকাশিত হত, তাহলে এতক্ষণে ‘ইগো’, ‘ব্যক্তিত্বের লড়াই’, ‘ড্রেসিংরুমে ভাঙন।’ এই জাতীয় হেডলাইন তৈরি হয়ে যেত।
প্রিয় দলকে সমর্থন জানানোর জন্য হাজারে-হাজারে সাম্বাপ্রেমী এই মুহূর্তে হিউস্টনে। মহাকাশ বিজ্ঞানের উত্তুঙ্গ শিখর ছোঁয়া শহরটিকে আবার অনেকে ডাকেন ‘বেয়ু সিটি’ বলে। শহরের চারিদিকে জলাভূমি আর খাঁড়ি দিয়ে ঘেরা বলে এই নাম। আবার এই শহরই বিশ্বের অন্যতম জ্বালানি তেলের কেন্দ্র। স্পোর্টস, বাণিজ্য, আর ভৌগোলিক অবস্থানের এক অদ্ভুত মিশ্রনে এখন নতুন করে জায়গা করে নিয়েছে ফুটবল। আর ব্রাজিল যে শহরে খেলতে যাবে, সেখানে এটাই স্বাভাবিক। শুধু জাপানকে হারিয়ে পরের রাউন্ডে যাওযাটাই যা আন্সেলোত্তিদের বাকি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বিশ্বকাপে মহা অঘটন! রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের কাছে হেরে বিদায় জার্মানির
-
সামুরাই সূর্যাস্ত, শিষ্য জাপানকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় গুরু ব্রাজিল
-
‘তৃণমূলের ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি নেই’, বঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক কংগ্রেস নেতা বেনুগোপালের
-
এবছরই দেশে ফেরার ঘোষণা হাসিনার, কী বলল ঢাকা?
-
‘বিয়ে করতে জেলে যাচ্ছি’, টোপর পরিয়ে ‘জামাই আদর’, তৃণমূল কাউন্সিলরকে ঘিরে জনরোষ!
