Advertisement
Advertisement
Ronaldo FIFA World Cup 2026

রুনিকে চোখ মারা থেকে অঝোরে কান্না! লাস্ট ডান্সে ফিরে দেখা রোনাল্ডোর বিশ্বকাপের গপ্প

রোনাল্ডোর অর্ঘ্যে সন্তুষ্ট হলেন না ফুটবলদেবতা। এবারও খালি হাতেই ফেরত পাঠালেন তাঁর একনিষ্ঠ পূজারীকে।

Advertisement
অণ্বেষা অধিকারী
অণ্বেষা অধিকারী

শেষ আপডেট: জুলাই ৭, ২০২৬, ১৭:২৯

link
অণ্বেষা অধিকারী
অণ্বেষা অধিকারী

শেষ আপডেট: জুলাই ৭, ২০২৬, ১৭:২৯

options
link
রুনিকে চোখ মারা থেকে অঝোরে কান্না! লাস্ট ডান্সে ফিরে দেখা রোনাল্ডোর বিশ্বকাপের গপ্প zoom
শূন্য হাতেই বিশ্বকাপকে বিদায় জানিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।

২০ বছর। দুই দশক ধরে সর্বোচ্চ মঞ্চে খেলেছেন দাপটের সঙ্গে। কিন্তু বিশ্বকাপটা আর জেতা হয়নি। শূন্য হাতেই বিশ্বকাপকে (FIFA World Cup 2026) বিদায় জানিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Ronaldo)। এই গ্রহের একমাত্র মানব হিসাবে টানা ৬টি বিশ্বকাপে গোল, বয়ষ্কতম হিসাবে বিশ্বকাপের নকআউটে নামা, গোল করা-একঝাঁক নজির ঝুলিতে পুরে ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চকে বিদায় জানালেন সিআর সেভেন। তাঁর বিদায়ে অগণিত ভক্তের মন ভেঙে চুরমার। কুড়ি বছর ধরে সিআর সেভেন নামক বৃক্ষকে আশ্রয় করে বেড়ে উঠেছে বহু গল্পগাথা। 

সালটা ২০০৬। প্রথমবার বিশ্বকাপের মঞ্চে সিআর সেভেন। কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল রোনাল্ডোর পর্তুগাল। শেষ আটের যুদ্ধে প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। সেই ইংল্যান্ড, যে দেশের ক্লাব ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডে খেলে খ্যাতির শিখরে উঠে পড়েছেন পর্তুগিজ তরুণ। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শুরু রোনাল্ডোর জন্মভূমি আর কর্মভূমির মধ্যে। ম্যাচের বয়স যখন ৬২ মিনিট, রোনাল্ডোর সঙ্গে পায়ে পা জড়িয়ে ফেললেন ওয়েন রুনি। সেসময়ে ম্যাঞ্চেস্টারে পাশাপাশি খেলেন রুনি-রোনাল্ডো। কিন্তু তরুণ রোনাল্ডো সটান আবেদন জানান রেফারির কাছে। ক্লাব সতীর্থকে যেন লাল কার্ড দেখানো হয়।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

খানিকটা রোনাল্ডোর জোরাজুরিতেই লাল কার্ড দেখেন রুনি। তিনি যখন মাঠ ছাড়ছেন, ঠিক সেসময়েই পর্তুগাল বেঞ্চের দিকে ফিরে রোনাল্ডো চোখ টিপে দিলেন! কী, কেমন দিলাম- এমনই ভাবখানা। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ হেরে যায় ইংল্যান্ড। ব্রিটিশ মিডিয়া তখন রোনাল্ডোকে সটান গদ্দার বলে দাগিয়ে দিয়েছে। ক্ষোভে ফুঁসছে আমজনতা। তখন তাঁদের একটাই দাবি, একেবারে ব্যান করে দিতে হবে পর্তুগিজ ফুটবলারকে। অন্তত তিন বছর ইংল্যান্ডে ঢোকার পথ তাঁর জন্য বন্ধ হোক, সেই দাবিতে উত্তাল হয় ব্রিটিশ জনতা। যদিও শেষ পর্যন্ত কোনওটাই হয়নি। ক্লাবের ড্রেসিংরুমে রুনির সঙ্গে মিটমাট করে নেন রোনাল্ডো নিজেও।

চোখ মারা এই মিচকে তরুণকেই ১৬ বছর পর অঝোরে কাঁদতে দেখেছিল বিশ্বকাপের মঞ্চ। ২০২২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রত্যেক ম্যাচেই প্রথম একাদশে ছিলেন রোনাল্ডো। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালীন কোচের নির্দেশ, এবার মাঠ ছাড়তে হবে। দেশের ফুটবল ইতিহাসের সেরা ফুটবলার হয়েও কিনা শেষ পর্যন্ত খেলা যাবে না! এহেন অপমান মেনে নেওয়া যায় না। তাই কোচ ফের্নান্দো স্যান্তোসের উপর রাগ উগরে দিয়ে একাই বেরিয়ে গেলেন মাঠ থেকে। শাস্তিস্বরূপ, সটান বেঞ্চে পাঠিয়ে দেওয়া হল সিআর সেভেনকে। প্রথম একাদশে আর ঠাঁই হল না। বেঞ্চে বসে দেখলেন, নতুন নায়ক পেয়ে গিয়েছে দল।

নতুন নায়কের হাত ধরে হয়তো অধরা বিশ্বকাপ আসবে, আশা করেছিলেন পর্তুগাল ভক্তদের একাংশ। সেই দলে রোনাল্ডো নিজে ছিলেন কিনা, জানা নেই। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর মতো দুর্বল দলে, ১০ জনে খেলা দলের কাছেও হারল পর্তুগাল। ভেঙে খানখান রোনাল্ডোর হৃদয়। মাঠের মধ্যেই হাউহাউ করে কেঁদে ফেললেন। চোখের জলে বিশ্বকাপকে বিদায়ের দৃশ্য আজও নাড়া দেয় ফুটবলপ্রেমীদের। চারবছর পর বয়স চল্লিশ পেরল, তাও বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নটুকু পূরণ করতে শেষবারের মতো নেমেছিলেন। কিন্তু রোনাল্ডোর অর্ঘ্যে এবারও সন্তুষ্ট হলেন না ফুটবলদেবতা। এবারও খালি হাতেই ফেরত পাঠালেন তাঁর একনিষ্ঠ পূজারীকে। স্পেনের কাছে হারের পর আবারও ভিজল রোনাল্ডোর চোখের কোণা। চোখ মেরে শুরু হয়েছিল বিশ্বকাপে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো নামক রূপকথা। সেটা শেষ হল চোখের জলে। থেকে গেল পর্তুগালকে বিশ্বমঞ্চে সেয়ানে সেয়ানে লড়াই শেখানো এক কাহিনী।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.