সব শহরের একটা নিজস্বতা থাকে। নিজস্ব ভাষা থাকে। আটলান্টার ভাষা যেমন ইতিহাস। মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র যেমন মানুষে মানুষে বিভেদ মুছে নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন। সেই শহরই মঙ্গলবার সাক্ষী থাকতে চলেছে এক ফুটবল-যুদ্ধের। বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) শেষ ষোলোর যুদ্ধে মুখোমুখি হতে চলেছে আর্জেন্টিনা আর মিশর (Argentina vs Egypt Preview)।
বিশ্বকাপের নকআউট যুদ্ধ এমন এক লড়াই যেখানে অতীত গৌরবের কোনও অস্তিত্ব থাকে না। যেখানে সামান্য ভুলত্রুটিও মুহূর্তে সব কিছু শেষ করে দিয়ে যেতে পারে! কেপ ভার্দে ম্যাচের পর সেটা হয়তো আরও ভালো করে বুঝেছেন অর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। বুঝেছেন লিওনেল মেসি। একটু এদিক থেকে ওদিক হলেই যে সব আশার বিসর্জন হয়ে যেত। মিশরের বিরুদ্ধে নামার আগে আরও বেশি সতর্ক আর্জেন্টিনা।
আরও পড়ুন:

মায়ামি থেকে আগের দিনই আটলান্টায় চলে এসেছে আর্জেন্টিনা। কোচ স্কালোনি বিশ্বকাপে সবসময় ক্লোজড ডোর ট্রেনিং করিয়েছেন। সেখানে মিডিয়ার জন্য প্রথম দশ মিনিট প্র্যাকটিস দেখার জন্য বরাদ্দ থাকত। প্রথম একাদশ থেকে শুরু করে টিমের স্ট্র্যাটেজি–সবকিছু নিয়েই বিপক্ষকে ধোঁয়াশায় রাখতে চান আর্জেন্টিনা কোচ। আটলান্টায় ম্যাচের আগের দিন মিশর-যুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে বিকল্প কিছু ঘটেনি। কিন্তু যা শোনা যাচ্ছে, তাতে বেশ কয়েকটা ব্যাপার নিয়ে ভাবনা-চিন্তা শুরু করেছেন স্কালোনি। যেমন–পারাদেসকে শুরু থেকে খেলানো যায় কি না? কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে নামার পর পারাদেস যথেষ্ট ভালো ফুটবল খেলেছিলেন। একইরকম ভাবনা ফাকুন্দো মেদিনাকে নিয়েও। বিশ্বকাপের আগে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে লেফট ব্যাক হিসাবে প্রথম পছন্দ ছিল স্কালোনির। কিন্তু চোট-সমস্যায় পরিকল্পনা বদলাতে হয়। এখনও পর্যন্ত মেদিনা যথেষ্ট নির্ভরতা দিয়েছেন টিমকে। ফলে মিশরের বিরুদ্ধেও তাঁকেই শুরুতে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
আর্জেন্টিনা কেন, পুরো বিশ্ব একটা সারসত্য জানে। মেসি ফর্মে থাকা মানে অর্ধেক কাজ ওখানেই হয়ে যায়। এবারের বিশ্বকাপে সেটা আরও ভালোভাবে বোঝা যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত আর্জেন্টিনা চার ম্যাচে এগারোটা গোল করেছে। যার মধ্যে মেসির গোল সংখ্যা সাত।
ফরোয়ার্ডে লাউতারো মার্টিনেজ না জুলিয়ান আলভারেজ? সেটা নিয়েও একটা ধোঁয়াশা রয়েছে। মার্টিনেজ এখনও পর্যন্ত নিজের চেনা ফর্মে নেই। আলভারেজ গত বিশ্বকাপের আবিষ্কার ছিলেন। কিন্তু এখানেও চোট-সমস্যা। যার ফলে আলভারেজ শুরু থেকে খেলেছিলেন না। এখনও অবশ্য সে’সব সমস্যা নেই। আগের থেকে অনেক বেশি ফিট তিনি। ফলে স্কালোনি কিছুটা হলেও সংশয়ে রয়েছেন। যদিও কারও কারও মনে হচ্ছে, আর্জেন্টিনা কোচ হয়তো উইনিং কম্বিনেশন ভাঙতে চাইবেন না।
কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে আলোচনা একজনকে নিয়েই। লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপের প্রথম চার ম্যাচেই গোলের দেখা পেয়েছেন যিনি।
আর্জেন্টিনা কেন, পুরো বিশ্ব একটা সারসত্য জানে। মেসি ফর্মে থাকা মানে অর্ধেক কাজ ওখানেই হয়ে যায়। এবারের বিশ্বকাপে সেটা আরও ভালোভাবে বোঝা যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত আর্জেন্টিনা চার ম্যাচে এগারোটা গোল করেছে। যার মধ্যে মেসির গোল সংখ্যা সাত। অনেকে বলছেন, এই মেসি গত বিশ্বকাপের থেকেও অনেক বেশি ভয়ঙ্কর। প্রি-কোয়ার্টারের যুদ্ধে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় অস্ত্র তিনিই।
Even Leo’s walkouts look like a moviepic.twitter.com/zS8eHp9TG7
— Stop That Messi (@stopthatmessiii) July 4, 2026
যদিও মিশর ওসব পাত্তা দিচ্ছে না। বরং আর্জেন্টিনা যুদ্ধের আগে প্রছন্ন হুংকার দিয়ে রাখা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, আর্জেন্টিনায় যদি মেসি থাকে, তাহলে তাদেরও একটা মহম্মদ সালাহ রয়েছেন। ম্যাচের আগে মিশরের সহকারী কোচ ইব্রাহিম হাসান বলেন, “আমরা মেসিকে নিয়ে ফোকাস করছি না। ফুটবলারদের বলে দেওয়া হয়েছে, প্রতিপক্ষ নিয়ে বেশি ভাবার দরকার নেই। বরং নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে হবে। ওদের যদি মেসি থাকে, তাহলে আমাদের একজন মহম্মদ সালাহ রয়েছে। আশা করি, আমরা সেরাটা দেব। ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ব। এর বাইরে অন্য কিছু আর ভাবছি না। আমরা নিজেদের নিয়ে ভাবছি। দেখুন আমাদের মাঠে নেমে ম্যাচ জিততে হবে। তা সেটা মেসির বিপক্ষেই খেলা হোক কিংবা অন্য কারও। তাই বিপক্ষ নিয়ে ভেবে শুধু শুধু চাপ নিতে যাব?”
মঙ্গলবার আটলান্টায় মেসি বনাম সালাহ যুদ্ধ কতটা উত্তাপ ছড়াবে, সেটা আশা করি বুঝতেই পারছেন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মুক্তির আগেই বিতর্কে কঙ্গনার ‘ক্যুইন ২’! ২৫০ কোটির মামলা প্রযোজনা সংস্থার
-
সিআইএ এজেন্ট সেজে প্রতিরক্ষা চুক্তি! ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টকে বোকা বানিয়ে লুট ভারতীয় বংশোদ্ভূতর
-
লক্ষ্য কর্মসংস্থান, ঘাটতি পূরণে ডিম উৎপাদন নিয়ে বিপ্লবের পথে বাংলা
-
মাত্র ৩৮ বছরেই প্রয়াত আফগান পেসার, ‘জঙ্গি হানা’য় বাঁচলেও হার বিরল রোগের কাছে
-
দেশে প্রথম, নয়া আইন মেনে ওয়াকফ বোর্ডে নির্বাচিত হলেন দুই হিন্দু সদস্য
