আর্জেন্টিনা ৩ (সেলসো, লাউতেরো, মেসি)
জর্ডন ১ (তামারি)
দল নকআউটে পৌঁছে গিয়েছিল আগেই। সেরা অস্ত্র লিওনেল মেসি (Messi) যে শুরু থেকে খেলবেন না, তা সকলেই জানতেন। তবু ডালাসে ‘লা আলবিসেলেস্তে’দের নিয়ে এতটুকু উন্মাদনা কমেনি। বরং তা এমন পর্যায়ে পৌঁছয়, চর্মচক্ষে দেখলে যাকে অনায়াসে বলে দেওয়া যায় ‘ফ্যান ফেস্টিভ্যাল’। রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে কোথাও নজরে পড়ছে আকাশি-সাদা ট্রেডমার্ক জার্সি। কোথাও আবার ‘সোল দে মায়ো’, সোনালি সূর্যের পতাকা। দলের হোটেলের সামনেও থিকথিকে ভিড়। একটিবার প্রিয় তারকাকে কাছ থেকে দেখার আকুতি। এমনটা হবে নাই বা কেন? গত দুই দশকে ফুটবল বিশ্ব বরাবর কান্নাহাসির দোল-দোলানো মুহূর্তের সাক্ষী থেকেছে মেসি নামক অবতারে। তিনি প্রথম থেকে না খেললেও দল কেমন খেলে দেখতে স্টেডিয়াম ভরিয়ে তুললেন টিমের ‘দ্বাদশ ব্যক্তি’ সমর্থকরা। ম্যাজিশিয়ান মেসি নামলেন পরিবর্ত হিসাবে। ফ্রিকিকের ম্যাজিকে গোলও পেলেন। ৩-১ গোলে জর্ডনকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নকআউটে তাদের সামনে কেপ ভার্দে।
আরও পড়ুন:
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে মেসিহীন আর্জেন্টিনা। মাঝমাঠের পুরো নিয়ন্ত্রণ তাদের দখলে। প্রথম কোয়ার্টারে গোল না হলেও একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করেন জুলিয়ান আলভারেজ, লাউতারো মার্টিনেজরা। জর্ডন ঠিক ততটাই নিষ্প্রভ। কোনও আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১৯তম মিনিটে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রিকিক থেকে দুর্দান্ত গোল জিওভানি লো সেলসোর। দুই পা এগিয়ে সামান্য বাঁদিকে সরে যান জর্ডন গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবুলাইলা। সেটা না করলেই বরং গোল বাঁচানোর সুযোগ পেতেন।

৩০ মিনিটে গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন লাউতারো মার্টিনেজ। তাঁর জোরাল শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে স্টেফানো সেনসি হেড করলেও জর্ডনের গোলরক্ষক দারুণ সেভ করেন। তবে হেড করার মুহূর্তে জর্ডনের এক ডিফেন্ডারের পা সেনসির মাথায় লাগে। প্রথমে রেফারি ফাউল দিলেও পরে ‘ভার’-এর পরামর্শে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পটকিক থেকে কোনও ভুল করেননি মার্টিনেজ। গোল হজমের পর আরও গুটিয়ে যায় জর্ডন। আটজন মিলে ডিফেন্স করে আর্জেন্টিনার একের পর এক আক্রমণ ঠেকনা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান তিন গুণ করার সুযোগ নষ্ট লিওনেল স্কালোনির দলের। সেলসোর ফ্রিকিক থেকে বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে হেড করেন নিকোলাস ওটামেন্ডি। তাঁর প্রচেষ্টা অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট। ২-০ এগিয়ে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বেরয় জর্ডন। শুরুতেই সুযোগ নষ্ট মুসা আল-তামারির। ৫৫ মিনিটে প্রতি আক্রমণ থেকে ব্যবধান কমায় তারা। ডান প্রান্ত থেকে ইহসান হাদ্দাদের নিখুঁত ক্রসে ৬ গজের বক্সে দারুণভাবে পা ছুঁইয়ে বল জালে জড়ান তামারি। কিছু করার ছিল না এমিলিয়ানো মার্টিনেজের। এশিয়ার দেশ ব্যবধান কমানোয় কোনও রকম ঝুঁকি নেননি স্কালোনি। ৬০ মিনিটে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। দর্শকদের সম্ভাষণে মাঠে নামলেন মেসি। ৬৫ মিনিটে আবারও ফ্রিকিক পায় আর্জেন্টিনা। মেসি শটও নিলেন। যা পোস্টের বেশ কিছুটা উপর দিয়ে চলে যায়। এরপর হাল ছাড়েনি জর্ডন। মাঝেমাঝেই প্রতি আক্রমণে উঠেছে তারা। কিন্তু যে দলে মেসি নামক ‘সংকটমোচক’ রয়েছেন, তাদের আর চিন্তা কীসের! ৮০ মিনিটে ফ্রিকিক থেকে গোল পেলেন তিনি।
LIONEL MESSI JUST SCORED THE GREATEST FREEKICK GOAL IN HISTORY 🤯🐐 pic.twitter.com/VZYdSSBCtM
— MC (@CrewsMat10) June 28, 2026
বক্সের ঠিক বাইরে জর্ডনের এক ডিফেন্ডারের ফাউলে ফ্রিকিক পায় আর্জেন্টিনা। আবারও শট নিতে আসেন এলএম১০। নিখুঁত বাঁ-পায়ের শটে গোলরক্ষককে কোনও সুযোগ না দিয়ে বল জড়িয়ে দেন জালে। মানবপ্রাচীরে দাঁড়ানো জর্ডন ফুটবলাররা ভেবেছিলেন শূন্যে শট নেবেন লিও। তাঁরা লাফ দিতেই বাঁদিকে তৈরি হওয়া সামান্য ফাঁক গলিয়ে গড়ানো শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। গোলরক্ষক নড়ারও সুযোগ পাননি। তিনি ডান দিকে সরে না দাঁড়ালে দর্শকের মতো গোল দেখতে হত না তাঁকে। গোটা জর্ডনকে কার্যত বোকা বানিয়ে দেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। পাশাপাশি প্রথম ফুটবলার হিসাবে বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) টানা সাত ম্যাচে গোল করে ইতিহাস গড়লেন মেসি। চলতি বিশ্বকাপে ষষ্ঠ গোল পেলেন মেসি। সবমিলিয়ে বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা ১৯। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলে জিতল আর্জেন্টিনা।

আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
এবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির অভিযোগ, পুলিশের দ্বারস্থ বধূ
-
‘খুব বাঁচা বেঁচেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ’, রচনার সুরবদলের পরই কেন একথা বললেন মনোরঞ্জন?
-
আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধেও চুনকাম! ১০৫০ দিন পর সিরিজ হার ভারতের, কেন খেলানো হল না বৈভবকে?
-
‘তোলাবাজি’র অর্থে মেয়ে-স্বামীর নামে সম্পত্তি, নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপন! তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ
-
অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে গ্রুপ থেকে বিদায়, বিশ্বকাপে স্বপ্নভঙ্গ ভারতের মেয়েদের
