Advertisement
Advertisement
ফুটবলের মহাযুদ্ধ
Football World Cup 2026

ঘানার দরিদ্র ফুটবলারদের বাঁচাতে জাতীয় দলে! ‘ব্রাত্য’ গোলকিপারের হাতেই আটকে গেল ইংল্যান্ড

'আষাঢ়ে গল্প' নয়। এ গল্প ঘানার গোলকিপার বেঞ্জামিন আসারের।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২৪, ২০২৬, ১৫:৩৫

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২৪, ২০২৬, ১৫:৩৫

options
link
ঘানার দরিদ্র ফুটবলারদের বাঁচাতে জাতীয় দলে! ‘ব্রাত্য’ গোলকিপারের হাতেই আটকে গেল ইংল্যান্ড zoom
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের পর বেঞ্জামিন আসারে।

বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) দ্বিতীয় ম্যাচেই থমকে গেল ইংল্যান্ড। প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪ গোল দেওয়ার পর ঘানার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র হ্যারি কেনদের। এর আগে ঘানার এক ওঝা দাবি করেছিলেন, কেনকে আটকে দেবেন! আসল কৃতিত্ব অবশ্যই ব্ল্যাক স্টারদের (ঘানা ফুটবল দলের ডাকনাম) ডিফেন্ডারদের ও গোলকিপার বেঞ্জামিন আসারের। ৩৩ বছর বয়সি গোলকিপার খেলেন সেই দেশের লিগেই। যেখানে প্লেয়ারদের মাসিক বেতন মাত্র ১২০০০ টাকা। যাঁর দলে সুযোগ পাওয়ারই কথা ছিল না। পেলেন মূলত ঘানার ফেডারেশনের আর্থিক দুর্দশার জন্য।

এর আগে একবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালেও খেলেছে ঘানা। সেই দেশের সেরা লিগের প্লেয়ারদের বেতন মাত্র ১২০০০ টাকা। দেশের ফুটবলের অর্থনৈতিক অবস্থা ফেরাতে বিশ্বকাপকেই হাতিয়ার করছে আফ্রিকার দেশটা। ঘানার সর্বোচ্চ লিগ হচ্ছে ঘানা প্রিমিয়ার লিগ। গতবছর সেই দেশের ফেডারেশন নতুন নিয়ম এনেছে ফুটবলারদের মাসে অন্তত ঘানার মুদ্রায় ১৫০০ করে দিতে হবে। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ মাত্র ১২ হাজার টাকা। সেই দেশ ‘এল’ গ্রুপে ইংল্যান্ডকে রুখে দিয়েছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই নিয়ে সর্বোচ্চ ১৩বার গোলশূন্য ড্র করল ইংল্যান্ড। জুড বেলিংহ্যামরা গোল মিস করেছেন ঠিকই। তবে প্রশংসা প্রাপ্য ঘানার লড়াকু মানসিকতার। তিনটে সেভ করেছেন আসারে।

Advertisement

এবার আসা যাক আসারের গল্পে। ঘানা দলে তিনি নিয়মিত নন। প্রথম গোলকিপার লরেন্স আতি জিগি চোট পাওয়ায় সুযোগ চলে আসে। ঘানার ক্লাব ‘হার্টস অফ ওক’ দলে খেলেন তিনি। তাঁর বেতন অবশ্য ১২ হাজার টাকা নয়। অনেকটাই বেশি। কিন্তু ঘানা লিগের এই ন্যূনতম বেতনে দেশে ফুটবলের উন্মাদনা বাঁচিয়ে রাখা মুশকিল। সেই জন্য এক পরিকল্পনা নিয়ে এসেছে ঘানার ফুটবল ফেডারেশন। নিয়মমতো কোনও ক্লাব যদি প্লেয়ারকে বিশ্বকাপের জন্য ছাড়ে, তাহলে সেই ক্লাবকে ফিফা প্রত্যেকদিন প্লেয়ারপিছু ১১ হাজার ডলার দেয়। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। গ্রুপ পর্বে শুধু আসারের জন্য হার্টস অফ ওক পাবে প্রায় আড়াই কোটি টাকা। গ্রুপ পর্ব পার করলে টাকা আরও বাড়বে। ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ঘানার রাউন্ড অফ ৩২-এ যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। ঘানা দলের অধিকাংশ প্লেয়ারই দেশের বাইরে খেলেন। কিন্তু ফিফার এই নিয়মকে মাথায় রেখে শুধু আসারেকে দলে রেখেছে ফেডারেশন।

তাঁর সৌজন্যে ক্লাব যে টাকা পাবে, তা ব্যয় করা হবে যুব ফুটবলের উন্নতিতে। এমনিতে ঘানা দল যথেষ্ট শক্তিশালী। ম্যাঞ্চেস্টার সিটির আন্তন সেমেনো, ভিলারিয়ালের থমাস পার্টে, বিলবাওয়ের ইনাকি উইলিয়ামস আছেন। গোলপোস্টের তলায় আসারে শুধু দেশকে বাঁচাচ্ছেন না, বাঁচাচ্ছেন নিজের ক্লাব ও দেশের ফুটবল কাঠামোকে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.