প্রায় এক বছর আগে এক মর্মান্তিক গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন পর্তুগালের অন্যতম সেরা প্রতিভাবান ফুটবলার দিয়োগো জোটা। তাঁর প্রয়াণ এখনও সতীর্থরা মেনে নিতে পারেননি। মাত্র ২৮ বছরেই পরেলোকে চলে গিয়েছেন। পর্তুগালের এই তারকা ফুটবলার কখনও বিশ্বকাপ খেলতে পারেননি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে পায়ের চোটের কারণে দল থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে দলকে মূলপর্বে তুললেও বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন তাঁর অধরাই থেকে গিয়েছে। জোটার অভিন্নহৃদয় বন্ধু ছিলেন স্কটল্যান্ডের অধিনায়ক অ্যান্ডি রবার্টসন। দু’জনেই খেলতেন লিভারপুলে। গত নভেম্বরে স্কটল্যান্ড বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনের পর রবার্টসন বলেছিলেন, “আজ জোটার কথা বড় মনে পড়ছে। বিশ্বকাপ নিয়ে আমরা কত কথা বলতাম। স্বপ্ন দেখতাম। আজ আমি বিশ্বকাপ খেলব। আর জোটা পর্তুগালের হয়ে কখনও বিশ্বকাপ খেলতে পারল না। হয়তো অন্য কোনও জায়গা থেকে আমাকে দেখে ও হাসবে।”
২০২৬ বিশ্বকাথে শুরু হতে আর বাকি মাত্র দু’দিন। তার ঠিক আগেই রবার্টসনকে প্রয়াত জোটার কথা মনে করিয়ে দিলেন তাঁর স্ত্রী রুট কার্ডোসো। তিনি লিভারপুলের প্রাক্তন সতীর্থকে অনুরোধ করেছেন, রবার্টসন যেন বিশ্বকাপে খেলার সময় জোটাকে হৃদয়ে রেখে মাঠে নামেন। রবার্টসনকে লেখা রুটের এই চিঠি প্রকাশ করেছে ফিফা। কার্ডোসো চিঠিতে লিখেছেন, ‘দিয়োগো প্রায় প্রতিদিনই তোমার কথা বলত। তোমাদের বন্ধুত্ব, একসঙ্গে লড়াইয়ের কথা, চ্যালেঞ্জ নেওয়া, মধুর মুহূর্তগুলি, ফুটবল নিয়ে আলোচনা এবং স্বপ্ন-সব কথাই আমাদের বলত। বিশ্বকাপ খেলা ছিল সেই স্বপ্নগুলির মধ্যে অন্যতম। এমন একটা স্বপ্ন যা তোমরা দু’জন পাশাপাশি থেকে সযত্নে লালন করেছ। একইরকম আবেগ নিয়ে তোমরা দু’জনে মাঠে নামবে।
আরও পড়ুন:
কার্ডোসা আর লিখেছেন, ‘স্কটল্যান্ড যখন বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করল, তখন তোমার কথা শুনেছি। বিশ্বকাপ যোগ্যতা অর্জনের দিন তোমার কী অনুভূতি হয়েছিল, তা শোনার পর আমার মনে হয়েছে, জোটা আসলে কখনও মাঠ ছেড়ে চলে যায়নি। সে আছে। তোমাদের সঙ্গেই রয়েছে। তুমি যখন বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করলে, তখন আমি বুঝেছি, একা তুমি বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছো না। তোমার সঙ্গে জোটাও যাচ্ছে। আমি এটাও জানি, তুমি বিশ্বকাপে যখন মাঠে লড়াই করবে, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মাঠে নিজেকে উজাড় করে দেবে, তখন তোমার সঙ্গে থাকবে দিয়োগো। তোমার প্রতিটি পদক্ষেপে, তোমার হৃদয়ে থাকবে জোটা। দিয়োগো হৃদয়ের মানুষ। ওকে হৃদয়েই রেখো।’
এখানেই শেষ নয়। রবার্টসনকে ধন্যবাদ দিয়ে জোটার স্ত্রী আরও লিখেছেন, ‘আমি তোমাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। ধন্যবাদ জানাতে চাই এই কারণে যে, তুমি জোটাকে ভুলে যাওনি। ওকে মনে রাখার জন্য ধন্যবাদ। কোনওকিছু হারানোর বেদনাকে শক্তি হিসাবে রূপান্তরিত করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।’ কার্ডোসোর মননে আজও রয়েছেন জোটা। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘আমরাও বাড়িতে এই কাজটাই করি। প্রতিদিন। আমি বিশ্বাস করি, ও তোমার জন্য গর্বিত হত এবং হচ্ছে। স্বপ্নটাকে লালন করো আন্ডি। নিজের জন্য এবং জোটার জন্য স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখো।’ কার্ডোসোর চিঠি ফিফার ক্যামেরার সামনে পড়েন রবার্টসন। তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্কটল্যান্ড অধিনায়ক বলেন, “এই চিঠিটা আমার মনে দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়ে থাকবে।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘ঠগ’ সুকেশের ২০০ কোটির জালিয়াত মামলা থেকে মুক্তি পেতে ‘সুপ্রিম’ দুয়ারে জ্যাকলিন, শুনানি কবে?
-
শুরুতে ‘অভিশপ্ত’ সাদা জার্সি, দেশজোড়া হাহাকারের মাঝে কীভাবে হলদে হল ব্রাজিল?
-
মুজফফরাবাদে ভেঙে পড়ল পাক সেনার হেলিকপ্টার! মৃত ২১
-
‘কর বাড়ালেই রাজস্ব বাড়বে তার কোনও মানে নেই’, অর্থ দপ্তরের দায়িত্ব নিয়েই উত্তরবঙ্গ সফরে স্বপন
-
কলেজের ইউনিয়ন রুমে মদের বোতল, নিষিদ্ধ কফ সিরাপ-সিরিঞ্জ, এবার শোরগোল জলপাইগুড়িতে
