১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়ন। ১৯৭০ সালের হট ফেভারিট ইংল্যান্ড। দলে সর্বকালের অন্যতম সেরা গোলকিপার গর্ডন ব্যাঙ্কস। অথচ বিশ্বকাপের মহা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নামতেই পারলেন না ব্যাঙ্কস। অসহ্য পেটে ব্যথা! সেটা কি নিছক অসুস্থতা? নাকি মেক্সিকোয় আয়োজিত বিশ্বকাপে আমেরিকার এক গভীর চাল? যার নেপথ্যে রয়েছে কোল্ড ওয়ারের ভয়ানক রাজনীতি! উত্তর আজও অজানা। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেরকম ‘স্বৈরাচারী’ কার্যকলাপ শুরু করেছেন, তাতেও অনেকে অশনিসংকেত দেখছেন।
এই বিষয়ে আরও খবর
ঠিক কী ঘটেছিল ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে? ১৬ দেশের বিশ্বকাপে একই গ্রুপে ছিল ব্রাজিল ও ইংল্যান্ড। চারবছর আগে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন ইংরেজরা। সেবারও হট ফেভারিট। অন্যদিকে পেলের ব্রাজিলও বিশ্বজয়ের অন্যতম প্রধান দাবিদার। বলা যায়, ব্রাজিলকে টক্কর দেওয়ার ক্ষমতা ছিল একমাত্র ইংল্যান্ডেরই। গ্রুপ পর্বে সেটা ভালোমতোই টের পাওয়া গেল। ১-০ গোলে জেতে ব্রাজিল। আর পেলের হেড অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় আটকে ‘সেভ অফ দ্য সেঞ্চুরি’র তকমা পান ব্যাঙ্কস। গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে যায় ইংল্যান্ড।
কিন্তু পশ্চিম জার্মানির বিরুদ্ধে সেই ম্যাচের আগে মাথায় বাজ পড়ল ইংল্যান্ড শিবিরে। ভয়ানক পেটে ব্যথায় অসুস্থ ব্যাঙ্কস। বহু চেষ্টা করেও মাঠে নামতে পারলেন না তিনি। আর ২ গোলে এগিয়ে থেকেও ৩-২ গোলে পশ্চিম জার্মানির কাছে হেরে ছিটকে যায় ইংল্যান্ড। কেউ অসুস্থ হতেই পারেন। কিন্তু পরে এই নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়। এমনকী ব্যাঙ্কসের নাতি এড জার্ভিসও মনে করেন তাঁর দাদু ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চক্রান্ত হয়েছিল। আমেরিকার গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ ব্যাঙ্কসের বিয়ারে বিষ দিয়েছিল। জার্ভিসের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর দাদুও মনে করতেন কিছু একটা গন্ডগোল সেদিন হয়েছিল।

কিন্তু সিআইএ হঠাৎ ব্যাঙ্কসকে বিষ দিতে যাবে কেন? আর বিশ্বকাপটা তো আমেরিকায় হচ্ছে না। হচ্ছে মেক্সিকোয়। এমনকী আমেরিকা বিশ্বকাপেও ছিল না। চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। তাহলে এর সঙ্গে আমেরিকার নাম যুক্ত হচ্ছে কীভাবে? সেই তত্ত্বে আসার আগে বিশ্বকাপের বাকি গল্পটা শেষ করা যাক। অনেকেই মনে করেন, সেদিন ব্যাঙ্কস খেললে ইংল্যান্ড জিতত। সেমিফাইনালে ইটালিকে হারিয়ে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ফাইনালেও খেলত। শেষমেশ ইটালির বিরুদ্ধে খেলে পশ্চিম জার্মানি (৪-৩ ব্যবধানের সেই ম্যাচকে বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ম্যাচ বলা যায়)। ফাইনালে ইটালিকে ৪-১ গোলে হারিয়ে তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল।
কী হলে কী হত বলা যায় না! তবে অনেকেই মনে করেন ব্রাজিলের বিশ্বজয়ের পথ সুগম করতে পথের কাঁটা ইংল্যান্ডকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিল সিআইএ। সেই জন্যই ব্যাঙ্কসকে ‘বিষ’ দেওয়া হয়েছিল। ঠান্ডা যুদ্ধের সময় সিআইএ-র যা দাপট ছিল, তাতে মেক্সিকোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে হাতের মুঠোয় আনা কোনও ব্যাপার ছিল না। এবার আসা যাক কারণে। সাংবাদিক গ্যাব্রিয়েল গেটহাউসের দাবি, ব্রাজিলকে ‘শান্ত’ রাখার মধ্যে আমেরিকার রাজনৈতিক সুবিধা ছিল। সেই সময় ব্রাজিলে চলছে মিলিটারি স্বৈরশাসন। জনতার মধ্যে জ্বলছে ক্ষোভের আগুন। বিশ্বকাপ জয় সেটাকে প্রশমিত করেছিল। আর হারলে বিক্ষোভে ছারখার হয়ে যেত পারত ব্রাজিলের মিলিটারি শাসনব্যবস্থা। আশেপাশে কিউবা, চিলিতে আমেরিকা-বিরোধী শক্তির প্রভাব পড়তে পারত ব্রাজিলেও। আর তৎকালীন ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট এমিলো মেডিসির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের সুসম্পর্ক নতুন করে বলার নয়।

জল্পনা হলেও অনেকে এই তত্ত্বে বিশ্বাস করেন। এবার বিশ্বকাপ আমেরিকা, মেক্সিকো, কানাডায়। এমন একটা সময় বিশ্বকাপ চলছে, যখন বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের মেঘ। খোদ আমেরিকা আক্রমণ চালিয়েছে ইরানে। যে দেশ আবার আমেরিকায় এসে বিশ্বকাপও খেলছে। কিন্তু তাদের সেরা স্ট্রাইকারের প্রবেশ নিষেধ। ম্যাচের পরই ‘ঘাড়ধাক্কা’ দেওয়া হয়েছে দলকে। ইরানের সমর্থকরাও আমেরিকায় ঢোকার অনুমতি পাননি। সোমালির রেফারিকে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। উজবেকিস্তানের প্লেয়ারদের যুদ্ধবন্দিদের মতো পরীক্ষা করিয়ে আমেরিকায় ঢোকানো হচ্ছে। ট্রাম্প বিশ্বকাপের আসরকে ব্যক্তিগত ইভেন্ট না ভেবে বসেন, সেই দুশ্চিন্তাও থাকছে। সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে যে মাঠের বাইরেও নাটকের কমতি হবে না, সেটা বলে দেওয়াই যায়।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
পেনাল্টি মিসেও জোড়া গোলে মহানায়ক মেসি, অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা
-
‘আপনার নেতৃত্বে সোনার বাংলা গড়ে তুলব’, মোদিকে আবেগঘন চিঠি শুভেন্দুর
-
সর্বকালের সেরা, ‘হ্যান্ড অফ গডে’র দিন বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ড ভাঙলেন GOAT মেসি
-
বাজেটে বরাদ্দ ৫০ কোটি, প্রসার ঘটবে ভাষা-সংস্কৃতির, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে ধন্যবাদ মূল মানতার
-
‘আসল’ তৃণমূলে গিয়ে মমতার চেয়ারে টান! ফিরহাদ, অরূপ-সহ একগুচ্ছ নেতাকে শোকজ কালীঘাটের




