ব্রাজিল: ৩ (ভিনি ২, কুনহা)
স্কটল্যান্ড: ০
এই বিষয়ে আরও খবর
লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, কিলিয়ান এমবাপেদের মতো মহাতারকাদের ভিড়ে তিনিও এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ব্রাজিলের জার্সি গায়ে আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনি আহামরি কিছু করলেন না, শুধু সুযোগসন্ধানী শিকারীর মতো প্রতিপক্ষের জালে দু’বার আঘাত হেনে বুঝিয়ে দিলেন, ব্রাজিল ফুটবলের পতাকাবাহী হয়ে বিশ্বকাপ কাঁপাতে তিনিও প্রস্তুত। ভিনির সেই জোড়া গোল এবং মাথেইস কুনহার নিখুঁত ফিনিশিং স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে অনায়াস জয় এনে দিল ব্রাজিলকে। যার সুবাদে আরও একবার গ্রুপের শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপের নকআউটে উঠে পড়ল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।
প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিরুদ্ধে আটকে যাওয়ার পর অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখছিলেন ব্রাজিলকে। প্রশ্ন উঠছিল এই ব্রাজিলকে আদৌ টুর্নামেন্টের ফেভারিট হিসাবে ধরা যাবে তো? বুধবার ভোররাতে স্কটিশদের বিরুদ্ধে অনেক প্রশ্নেরই জবাব দিয়ে দিল সাম্বা বয়েজ। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে সাম্বা ঝড় হয়তো দেখা গেল না, কিন্তু যে ফুটবলটা ব্রাজিলিয়ানরা খেললেন সেটা যে কোনও প্রতিপক্ষের বুকে ভয় ধরাতে বাধ্য। গ্যালারি জুড়ে হাজার হাজার হলুদ পতাকার ভিড়। যেন আমেরিকার বুকে এক টুকরো ব্রাজিল। সেই সমর্থককুলকে মোটেই হতাশ করলেন না ভিনিসিয়াস-কুনহারা।
স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ক্যাসিমিরো, লুকাসরা অনেকটা ইউরোপীয় ঘরানার ট্যাকটিক্যাল অথচ উপযোগী ফুটবল খেললেন। ফল ৩-০ গোলের সহজ জয়। প্রথম গোলটা অবশ্য ভিনিসিয়াস পেয়েছিলেন পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনার মতো। ম্যাচের বয়স তখন মিনিট সাতেক। নিজেদের বক্সে বিশ্রী মিস পাস করে বলটি ভিনির পায়ে তুলে দিলেন স্কটিশ ডিফেন্ডার। রিয়াল মাদ্রিদ তারকার কাছে ওই সুযোগ যেন মেঘ না চাইতেই জলের মতো। কোনও ভুল করলেন না ভিনি। গোলরক্ষককে ধরাশায়ী করে বল জালে। ম্যাচের ২২ মিনিটে আবারও জালে বল জড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এবার বাদ সাধে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি। পরে ভার জানায় ওই গোলটির আগে ভিনি স্কট ডিফেন্ডারকে ফাউল করেছেন। গোলটি বাতিল হয়। ওই গোল বাতিল হওয়ার পর খানিকটা লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করেছিল স্কটিশরা। বেশ কিছুক্ষণ ব্রাজিলের উপর চাপও রেখেছিল। কিন্তু মারকুইনহসদের সেভাবে বিব্রত করতে পারেনি। বরং স্কটদের সব অ্যাডভেঞ্চার কার্যত শেষ হয়ে যায় প্রথমার্ধের সংযুক্ত সময়ে। আবারও সুযোগসন্ধানী স্ট্রাইকারের মতো লুকাসের বাড়ানো ক্রস নিখুঁত দক্ষতার হেডারে জালে জড়িয়ে দিলেন ভিনি। প্রথমার্ধেই ব্রাজিল এগিয়ে গেল ২-০ গোলে।

এরপর দ্বিতীয়ার্ধে তাঁদের কাজটা আরওই যেন সহজ ছিল। প্রথমার্ধে যেটুকু লড়াই স্কটল্যান্ডের তরফে দেখা গিয়েছিল সেটুকুও দেখা গেল না। বরং ব্রাজিলের কাছে সুবর্ণ সুযোগ ছিল গোলসংখ্যা আরও বাড়িয়ে নেওয়ার। ম্যাচের ৫১ মিনিটে লুকাস যে মিসটা করলেন সেটা ক্ষমার অযোগ্য। কার্যত গোলরক্ষককে অসহায় অবস্থায় পেয়েও ফিনিশ করতে পারলেন না তিনি। অবশ্য লুকাসের মতো ভুল মাথেউস কুনহা করেননি। তিনি ম্যাচের ৬০ মিনিটে অনবদ্য ফিনিশে জয়ের ব্যবধান ৩-০ করেছেন। পরে ভিনির কাছেও গোটা দুই সুযোগ এসেছিল হ্যাটট্রিক করে এবারের বিশ্বকাপে গোলের নিরিখে মেসিকে ছুঁয়ে ফেলার। সেটা তিনি পারলেন না বটে, তবে বিশ্বকাপে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হওয়ার হ্যাটট্রিকটি ঠিকই করলেন।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য পারফরম্যান্সের থেকেও ব্রাজিল সমর্থকদের বেশি নজর ছিল নেইমার জুনিয়রের দিকে। দীর্ঘদিন বাদে চোট সারিয়ে হলুদ জার্সিতে কামব্যাক হল তাঁর। ম্যাচের শেষ দিকে মিনিট কুড়ি খেলার সুযোগ পেলেন। আহামরি না হলেও চনমনে দেখালো নেইমারকে। আগামী দিনে তিনি যে কার্লে অ্যান্সেলোত্তির তুরুপের তাস হতে পারেন, সেটার ঝলকও দেখা গেল।

কার্লে অ্যান্সেলোত্তির এই ব্রাজিল হয়তো চোখধাঁধানো সুন্দর নয়। এই ব্রাজিল হয়তো মুহুর্মুহ আক্রমণে প্রতিপক্ষকে ফালাফালা করে দেয় না, কিন্তু কার্যকরী এবং সংঘবদ্ধ ট্যাকটিক্যাল ফুটবলে যে কোনও প্রতিপক্ষকে স্রেফ উড়িয়ে দিতে পারে। ভিনিদের আজকের পারফরম্যান্স পরবরতী রাউন্ডের প্রতিপক্ষগুলির জন্য নিঃশব্দ সতর্কবার্তা। এই নিয়ে পরপর ১১ বার নিজেদের গ্রুপে সেরা হয়ে পরের রাউন্ডে গেল ব্রাজিল। এদিন গ্রুপের অন্য ম্যাচে হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে মরক্কো। তারাও গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় হিসাবে নকআউটে গেল।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
তারাতলা কাণ্ডে উচ্চস্তরীয় সিট গঠন, রাত পেরিয়ে সকালেও উদ্ধারকাজ
-
সোশাল মিডিয়ায় আলাপ, ভিনরাজ্যে ‘ধর্ষণে’র শিকার বঙ্গকন্যা, প্রভাব খাটিয়ে জেলমুক্ত যুবক!
-
কঠিন সময়ে অলকাকে বিশেষ বার্তা শানু ও শানের, কী বললেন তাঁরা?
-
ভারতে ঢুকেছিল তিনটি পাকিস্তানি বিমান, এয়ার ইন্ডিয়া বিপত্তির এক সপ্তাহ আগে
-
সারান্ডায় তাড়া খেয়ে বাংলামুখী, ১৪ বছর পর ‘ঘরে’ই আশ্রয় নাকি আত্মসমর্পণ মাওবাদী আকাশের?




