আটলান্টা থেকে ভোরবেলা ডেল্টার যে বিমানে কানসাস সিটি এলাম, সেটা মোটামুটি আর্জেন্টিনার সমর্থকে ভর্তি। ব্রাজিলে থাকার সময়ে দেখেছি বিমান অবতরণ করার পর যাত্রীরা হাততালি দিয়ে পাইলটকে অভিনন্দন জানান। আমেরিকা আসা পূর্বক এই প্রথম বিমান অবতরণের পর হাততালির আওয়াজ শুনলাম। বলাই বাহুল্য, লাতিন আমেরিকার আর্জেন্টিনার সমর্থকরা সেটা উপহার দিলেন।
কানসাস বিমান বন্দরে নামতে বিভিন্ন দিকে আর্জেন্টিনার মার্চেন্ডাইজ। যে বুকস্টোরগুলি আছে, সেখানেও মেসিকে নিয়ে যত ধরণের লেখা প্রকাশিত হয়েছে, তা ছেয়ে আছে। শনিবার অ্যারোহেড স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে যে আর্জেন্টিনা ফ্যানদের গণ-বিস্ফোরণ ঘটবে বলাই বাহুল্য।
আরও পড়ুন:
কানসাসে পা দেওয়ার পর যা শুনলাম, আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচে সাধারণ টিকিটের দাম শুরুই হচ্ছে ১৪০০-১৫০০ ডলার দিয়ে। একটু ভিআইপি ক্যাটাগরিতে টিকিটের দাম প্রায় ৮ হাজার ডলারে পৌঁছে গিয়েছে! মেসি দর্শনের মূল্য এই মার্কিন মুলুকেও এখন সাধারণের বাইরে। তার মধ্যে আবার আর্জেন্টিনা দলকে ঘিরে যেসব কাণ্ডকারখানা ঘটছে, বিশ্বকাপে মেসিরাই এখনও পর্যন্ত সুপার হিট।
বিষয় ভীষণই কাকতালীয়। মিশর ম্যাচের পর পরিস্থিতি যা, তাতে আর্জেন্টিনা সম্পর্কে সামান্য কিছু তথ্য পাওয়া গেলেও তা ভীষণভাবেই বিরুদ্ধ প্রচারে সামিল করা হচ্ছে। এই যেমন কানসাস সিটিতে আর্জেন্টিনা দলের বেসক্যাম্প করা নিয়ে। এখন যে শান্ত, সমৃদ্ধ, পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল কানসাস দেখা যাচ্ছে, একটা সময় ছিল এর একদমই বিপ্রতীপ। অনেক-অনেকদিন আগের ঘটনা হলেও, কানসাসের নাম দেওয়া হয়েছি, ‘প্যারিস অব দ্য প্লেইনস।’

সমগ্র আমেরিকা যখন আর্থিক মন্দায় ভুগছে সেই সময় টম পেন্ডারগাস্ট নামে একজন মাফিয়া এই কানসাসে যা খুশি তাই করতেন। অবৈধ মদের কারবার থেকে জুয়া, পতিতালয় সব নিজের ইচ্ছমতো চালাতেন তিনি। একদিকে সারা দেশে আর্থিক মন্দা। কানাসাস সিটিতে তখন অপসংস্কৃতি আর বিশৃঙ্খলতায় দেদার টাকা। সেই থেকেই নাম হয়ে যায়, ‘প্যারিস অব দ্য প্লেইনস।’ মানে, ‘দুর্নীতিগ্রস্ত পাপের শহর।’
এখন অবশ্য সেই পুরনো ভাবনা, ধ্যানধারণা থেকে কানসাস এখন অনেক-অনেক দূরে। সংস্কৃতি আর শৃঙ্খলার শহর। এই সুযোগে শহরের ইতিকথা টেনে আর্জেন্টিনাকে ট্রোল করতে ছাড়ছে না অনেকেই। খোদ নিউ ইয়র্ক শহরের মেয়র, জোহরান মামদানি শহরের উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার ঘোষণা করতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ নিয়ে যা বলে ফেলেছেন, তাতে বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছে।
কানসাসে পা দেওয়ার পর যা শুনলাম, আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচে সাধারণ টিকিটের দাম শুরুই হচ্ছে ১৪০০-১৫০০ ডলার দিয়ে। একটু ভিআইপি ক্যাটাগরিতে টিকিটের দাম প্রায় ৮ হাজার ডলারে পৌঁছে গিয়েছে! মেসি দর্শনের মূল্য এই মার্কিন মুলুকেও এখন সাধারণের বাইরে।
মিশর ম্যাচ নিয়ে এখনও যতই কাটাছেঁড়া চলুক না কেন, আর্জেন্টাইন সমর্থকদের জন্য ভালো খবর, কানাসাসের বেসক্যাম্পে মেসিরা এই সব বিতর্ক থেকে বহু দূরে। মাথায় এখন শুধু সুইজারল্যান্ড। পুরো শিবির এই মুহূর্তে যাবতীয় বিতর্ক ভুলে কোয়ার্টার ফাইনালের খোলসের মধ্যে ঢুকে গিয়েছে। শোনা যাচ্ছে, সেটা লিওনেল মেসির পরামর্শে। কানসাসের আর্জেন্টিনা শিবিরে এখন মিশর ম্যাচ নিয়ে সবাই স্পিকটি নট। খুশির খবর হল, রোমেরো দলের সঙ্গে পুরো প্র্যাকটিস করেছেন। মিশর ম্যাচের শেষের দিকে পেশীতে সামান্য চোট পেয়েছিলেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার। এদিন রোমেরোর প্র্যাকটিস দেখে কোচ স্কালোনি নিশ্চিন্ত হয়ে গিয়েছেন, সুইজারল্যান্ড ম্যাচে তাঁকে খেলানো নিয়ে কোনও সমস্যা নেই।

আটলান্টা থেকে ফিরে মেসিরা প্রথম দিন শুধু রিকভারি সেশন করেছেন। যাঁরা খেলেননি, শুধু তাঁদেরই বল নিয়ে অনুশীলন হয়েছে। মেসিরা জিম থেকে এসে মাঠের বাইরে বসে ছিলেন। কোনও সংবাদমাধ্যমকেই প্র্যাকটিস দেখতে দেননি স্কালোনি। মেসিরা হয়তো খুব দ্রুতই মিশর ম্যাচ ভুলে সুইজারল্যান্ড ম্যাচে মনোনিবেশ করে ফেলেছেন। কিন্তু অন্যরা এত সহজে ভুলতে চাইবেন কেন? রিখটার স্কেলে বিতর্কর মাত্রা এতটাই বেশি যে, ফিফা এই মুহূর্তে পুরো ব্যাপারটিকে স্ক্যানারের তলায় রেখেছে।
সেদিন ম্যাচের পর মিশরের কোচ হোসাম হাসান এবং সহকারী কোচ, ইব্রাহিম হাসান ডাগ আউটের সামনে যেভাবে উত্তেজিত হয়ে হতাশা প্রকাশ করছিলেন, বাধ্য হয়ে মেসি নিজে মিশরের বেঞ্চের কাছে গিয়েছিলেন পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য। ম্যাচের পর এই দৃশ্য সেদিন সবাই দেখেছিলেন। মাঠের বাইরের ঘটনা যাই হোক না কেন, কানসাসে মেসিদের নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে উত্তেজনার পারদ যে স্তরে পৌঁছেছে, তাতে কানসাস সিটি পুলিশকে আর্জেন্টিনার টিম হোটেলের আশে পাশে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করতে হয়েছে।
আটলান্টা থেকে ফিরে মেসিরা প্রথম দিন শুধু রিকভারি সেশন করেছেন। যাঁরা খেলেননি, শুধু তাঁদেরই বল নিয়ে অনুশীলন হয়েছে। মেসিরা জিম থেকে এসে মাঠের বাইরে বসে ছিলেন। কোনও সংবাদমাধ্যমকেই প্র্যাকটিস দেখতে দেননি স্কালোনি।
রোম শহরের পর, পৃথিবীতে কানসাস সিটিতেই সবচেয়ে বেশি ফোয়ারা রয়েছে। রাত ৯টার দিকে সূর্যাস্ত হলেও, শহরের এই ফোয়ারাগুলিকে এখন আলোর মালায় সাজানো হয়েছে। একে একে তারকারা বিদায় নেওয়ার পর লিওনেল মেসিই যে এখন আমেরিকা বিশ্বকাপে শিবরাত্রির সলতে। ফলে তাঁর আগমনে শহর আলোয় সাজবে না, এরকমটা হয় না কি?
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মরক্কোর হারে চোখে জল নোরার, ‘প্রেমিক’ হাকিমির জন্য কী লিখলেন?
-
‘ভারত যেদিন খেলবে, রাত জাগব’, বিশ্বকাপে এবার ‘ছোট’ দলকে চ্যাম্পিয়ন দেখতে চান তথাগত
-
জ্যোতিষী থেকে কোটিপতি, তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানকে ‘ডিমথেরাপি’, কাদা-গোবর মাখাল জনতা!
-
আসানসোলে ‘সরাসরি দিদিভাই’, পুরমন্ত্রীর নির্দেশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জি টি রোডে বুলডোজার অ্যাকশন!
-
ধর্মান্তরণে চাপ, মাথায় ল্যাপটপ দিয়ে মার সহপাঠীর! মুসলিম দেশে বেঘোরে মৃত্যু কেরলের তরুণীর
