হার্ডরক স্টেডিয়াম থেকে গাড়িতে আরও মিনিট পঁয়তাল্লিশ গেলে মায়ামির সাউথ বিচ। গাড়ি থেকে নেমে ওশান ড্রাইভে পা দিয়েছি। বিচে যেতে গেলে এই ওশান ড্রাইভের রাস্তাটা পেরোতে হবে। ওশান ড্রাইভের একপাশে বিচ। আরেকপাশে সারি সারি ক্যাফে, বার। এই রাস্তার পাশেই রয়েছে প্রখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার জিয়ারি ভার্সেসের বিশাল অট্টালিকা, ‘দ্য ভার্সেস ম্যানসন। বিচে পা দেওয়ার আগে রাস্তার একপাশে বড় করে লেখা, ‘আর্ট ডেকো’। নানারকম স্থাপত্য সংগ্রহ করে এখানে রাখা হয়েছে। এই জায়গাকে মানুষজন বেছে নিয়েছেন ছবি তোলার জন্য। রাত যত বাড়ে, সাউথ বিচ সংলগ্ন এই ওশান ড্রাইভের নৈশ রূপ যেন ততই মোহময়ী হয়ে ওঠে।
কিন্তু হার্ডরক স্টেডিয়ামে ম্যাচের দু’দিন আগে এসে মনে হচ্ছে, কোথায় এলাম? সত্যিই মার্কিন মুলুক তো? নাকি বুয়েনস আয়ার্সের কোনও এক অঞ্চল? সারি সারি নীল-সাদা পতাকা। কোথাও আাবর মেসির মুখ দেওয়া বিশাল পতাকার সঙ্গে উড়ছে মারাদোনার মুখ সম্বলিত পতাকাও। আর সঙ্গে সমস্বরে সেই ‘মুচাতোস’ এর লাইন ধরে ধরে কোরাস-‘আর্জেন্টিনায় আমার জন্ম, দিয়েগো আর লিওনেলের দেশ, মালভিনাসের সেই ছেলেদের দেশ, যাদের আমি কোনওদিন ভুলব না।’
আরও পড়ুন:
রাউন্ড অফ ৩২র যুদ্ধে নামার আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে এগুলি সবই স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু বিশ্বফুটবলে প্রতিপক্ষ দলের এহেন আচরণ আজ পর্যন্ত দেখেনি কেউ। হতে পারে, মেসিদের আরও বেশি আত্মতুষ্টিতে ভোগানোর জন্যই এই কূটনৈতিক চাল। তরে পরিকল্পনা যাই হোক, বিশ্বকাপের বাজারে মেসিদের বিরুদ্ধে খেলার আগেই, কেপ ভার্দে যে জার্সি কূটনীতি প্রয়োগ করতে চলেছে, তা এক কথায় অনবদ্য এবং অকল্পনীয়। একদিকে, আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শেষ খেলোয় যাবে বলে কেপ ভার্দের হুঙ্কার। অপরদিকে রয়েছে সম্প্রীতির বার্তাও।
মাচের আগে কেপ ভার্দের শীর্ষ নেতা হোসে মারিয়া যা বলছেন, তার প্রতি শব্দে ঝরে পড়ছে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির প্রতি শ্রদ্ধা আর সম্মান। সেই মারিয়াই আবার হুঙ্কার দিয়ে রাখছেন- বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে তাদের দেশের এই ঐতিহাসিক লড়াইয়ে ফুটবলাররা মাঠের ভিতর এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বেন না। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, মেসি যতই পৃথিবীর সেরা ফুটবলার হোন। কেপ ভার্দে নিশ্চিতভাবেই ম্যাচটা জিতবে। শুক্রবার হার্ডরক স্টেডিয়ামে শক্তিশালী আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে খেলতে নামছে, মাত্র ৫ লক্ষের জনসংখ্যার একটি দেশ। সেই দেশের শীর্ষ নেতা তাঁর ফুটবলারদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য এরকম উত্তেজক ভোকাল টনিক দেবেন, এটাই তো স্বাভাবিক। তারপরেই জার্সি নিয়ে যে রাজনৈতিক চাল তিনি দিয়েছেন, তা বিশ্বকাপে রীতিমতো আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। সম্মানজ্ঞাপনের জন্য মাচ শুরুর আগেই লিওনেল মেসির হাতে তাদের একটি জার্সি তুলে দেবে কেপ ভার্দে। তাদের দেশের সেই ১০ নম্বর জার্সির পিছনে থাকবে মেসির নাম।
তাতে কি আর্জেন্টাইন কোচ স্কালোনি সামান্য হলেও প্রভাবিত? হাতের কাছে যে, চার বছর আগের কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরব ম্যাচের জলজ্যান্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। পচা শামুকে আর পা কাটাতে চান না তিনি। কানসাসের প্র্যাকটিসে মিনিট পনেরোর জন্য ছিল সংবাদমাধ্যমের জন্য অবারিত দ্বার। তাতেই যা দেখা গিয়েছে, সংবাদমাধ্যমের সামনে বিভ্রান্তি তৈরি করার জন্য ১১ নয়, ১৩ জন ফুটবলারের হাতে তুলে নিয়েছিলেন প্রথম দলের জার্সি। যার মধ্যে ১০জন হচ্ছেন প্রথম দলের ফুটবলার। বাকি তিনজন প্রথম দলে সুযোগ পাওয়ার জন্য প্রথম দলের জার্সি পাওয়া ফুটবলাররা হলেন- মোলিনা, রোমেরো, ওটামেন্ডি, লিজান্দ্রো মার্টিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, মেদিনা, রডরিগো ডি’পল, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালিস্টার, থিয়াগো আলমাদল, মেসি এবং হুলিয়ান আলভারেজ।
আর্জেন্টাইন ফ্যানদের জন্য সবচেয়ে ভাল খবর, চোট কাটিয়ে প্রাকটিসে ফিরেছেন রোমেরো। মেডিক্যাল স্টাফরা হাঁটুতে স্ক্যান করে দেখেছেন, কোনও সমস্যা নেই। তবু স্কালোনি ঠিক করতে পারছেন না, রোমরোকে খেলাবেন না ওটামেন্ডিকে? সেরকমই মেদিনা, না তাগলিয়াফিকো? ফরোয়ার্ড লাইন ঠিক করতে গিয়েও তো সেই একই সমস্যা। মেসির সঙ্গে আক্রমণে কে? মাটিনেজ, না কি আলভারেজ? ম্যাচের আগে সকালে টিম হোটেলের মিটিংয়ে প্রথম দল নিশ্চিত হওয়া ছাড়া উপায় নেই। স্কালোনির চিন্তা না হয়, প্রথম দল ঠিক করা নিয়ে। কিন্তু আর্জেন্টাইন ফুটবল আসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লাউদিও তাপিয়া জর্জরিত আবার আরেক সমস্যায়। যে হারে কেপ ভার্দে ম্যাচের টিকিটের চাহিদা আসছে, তিনি আর সামলাতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে ফিফাকে চিঠি লিখে অনুরোধ করলেন, শুক্রবার ম্যাচের জন্য তাদের টিকিটের কোটা বাড়িয়ে দিতে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
টিকিটাকায় ধরাশায়ী অস্ট্রিয়া, দুর্বার গতিতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় স্পেন
-
মিড ডে মিলের মাংস দিয়ে স্যারের বিবাহ বার্ষিকীর ভোজ! শান্তিপুরের স্কুলে তুমুল শোরগোল
-
অফিসের ২৫ জনকে পুলিশি হেনস্তা! ভয় দেখিয়ে মিথ্যা বয়ান রেকর্ড, দাবি অভিষেকের
-
হোয়াটসঅ্যাপের পরে টেলিগ্রাম, সিগন্যাল! ‘ইউজারনেম’ ফিচার নিয়ে নোটিস কেন্দ্রের
-
ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে কেন্দ্র ও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মতান্তর! বৈঠকে প্রশ্ন একাধিক সাংসদের
