বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ফুটবল দুনিয়াকে চমকে দিয়েছে জাপান (Japan Football Team)। নেদারল্যান্ডসের মতো মহাশক্তিধর দলকে ২-২ গোলে আটকে দিয়েছে ‘ব্লু সামুরাই’রা। অসাধারণ ফুটবল উপহার দিয়েছেন তাকেফুসো কুবোরা। জাপানের ফুটবল ট্যাকটিক্স বিশ্লেষণে প্রাক্তন ফুটবলার আরাতা ইজুমি।
এই বিষয়ে আরও খবর
জাপান-নেদারল্যান্ডস ম্যচে যদি জাপানের দিক থেকে বিচার করি, তাহলে সবচেয়ে যে বিষয়টি আমাকে মুগ্ধ করেছে তা হল ওদের পরিকল্পনা মাফিক প্রস্তুতি। একটা জিনিস লক্ষ্য করেছি প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে তাঁরা পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে মাঠে নেমেছিল। এবং সবরকম পরিস্থিতির জন্য তৈরি ছিল। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল জাপানি ফুটবলাররা এই ম্যাচে অবিশ্বাস্য মানসিক দৃঢ়তার ছাপ রেখেছে। দু’বার পিছিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচে ফিরে আসা তারই নির্দশন। একবারও মনে হয়নি পিছিয়ে পড়েও লড়াই ছেড়ে দিয়েছে ওরা। হয়তো জানত যে কোনও পরিস্থিতিতেই শেষ পর্যন্ত লড়তে হবে।
এখানে বলতে হবে গোটা দলের বোঝাপড়ার বিষয়টি। সেটা শুধু ফুটবলারদের মধ্যেই নয়, কোচিং স্টাফদের সঙ্গেও গোটা দলটার একটা সুন্দর যোগাযোগ লক্ষ্য করলাম। যেটা এই দলটার একটা সম্পদ বলা যায়। বল পায়ে থাকার সময় জাপানি ফুটবলারদের স্বভাবসুলভ গতির পরিচয় পেয়েছি। এই ম্যাচটাকে বলতে পারি আন্তর্জাতিক ফুটবলের জন্য দারুণ বিজ্ঞাপন।
বলতে হবে গোটা দলের বোঝাপড়ার বিষয়টি। সেটা শুধু ফুটবলারদের মধ্যেই নয়, কোচিং স্টাফদের সঙ্গেও গোটা দলটার একটা সুন্দর যোগাযোগ লক্ষ্য করলাম। যেটা এই দলটার একটা সম্পদ বলা যায়। বল পায়ে থাকার সময় জাপানি ফুটবলারদের স্বভাবসুলভ গতির পরিচয় পেয়েছি।
আমার মনে হয় বিশ্বকাপে জাপানের লক্ষ্য খুব স্পষ্ট। ওদের স্লোগান ‘২০২৬ আমাদের সেরা মঞ্চ’ এর থেকেই বোঝা যায়, বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মনোবাসনা লালনপালন করছে জাপানিরা। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচটা দারুণ খেললেও সতর্ক থাকতে হবে পরের দুটো ম্যাচ নিয়েও। মাথায় রাখতে হবে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচই কঠিন। তাই পরের তিউনেশিয়া আর সুইডেন ম্যাচও যথেষ্টই কঠিন ম্যাচ হতে চলেছে জাপানের জন্য। গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচ দুটোতে জাপান কোচের কৌশল কী হতে চলেছে সেটা নিয়ে আমার আগ্রহ প্রবল। দেখার আগ্রহ রয়েছে, নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে যেমন পদ্ধতি নিয়েছিল ওরা। বাকি দুই ম্যাচেও কী একই কৌশলে খেলতে নামে নাকি কৌশল বদলান কোচ। এই দলটার বড় শক্তি হচ্ছে দলগত প্রচেষ্টা। এক জন বা দুই জন ফুটবলার ম্যাচের ফল বদলাবে না। বরং আমি মনে করি একাধিক ফুটবলার রয়েছে যাঁরা ম্যাচের মোড় ঘুড়িয়ে দিতে পারে। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকিয়ে রয়েছি দু’জন ফুটবলারের দিকে। প্রথমজন আয়াসা উয়েদা ও দ্বিতীয়জন তাকেফুসা কুবোর। গত ম্যাচের পর কুবোর ফিটনেসের দিকে নজর থাকবে আমার। এই দুই ফুটবলারই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। তবে আবার বলছি এই জাপান দলটা কিন্তু একজন বা দুই জন তারকার উপর নির্ভর করে গড়ে ওঠা দল নয়। দলগত নির্ভরতা অন্যতম শক্তি জাপানের।
KEITO NAKAMURA goal for japan pic.twitter.com/hSc66DyHcB
— Roger Official 59🐃 (@_rogers254) June 14, 2026
জাপানের কথা বলতে বলতে আরও একটা কথা বলতে পারি আপনাদের। বিশ্বকাপ মঞ্চে জাপানের এভাবে উঠে আসা ভারতের জন্যও চমৎকার উদারহরণ হতে পারে। যেহেতু জাপানের সঙ্গে আমারও একটা যোগসূত্র রয়েছে পাশাপাশি ভারতের জাতীয় দলেও খেলেছি। এখন ভারতীয় সিটিজেন হিসাবে রয়েছি। এখানকার পুনে রাইজিং ক্লাবের কোচিংও করাচ্ছি। তাই আশা রাখি জাপানের মতোই ভারতও একদিন বিশ্বকাপে অংশ নেবে। হয়তো ভারতের চলার পথটা ভিন্ন। আবার বলছি, আমার বিশ্বাস জাপান যেভাবে করেছে তার থেকে অন্তত শিক্ষা নিতে পারি। তাহলে হয়তো একদিন ভারতকেও এই মঞ্চে জাপানের মতোই দেখতে পাব।
অনুলিখন ভিত্তিক সাক্ষাৎকার
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
দুরন্ত পারফরম্যান্সেও শেষরক্ষা হল না, আত্মঘাতী গোলে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে জয় হাতছাড়া মিশরের
-
ইউপিএসসি প্রিলিমস-এর ফলপ্রকাশ, পাশ করল কত হাজার?
-
মা-বাবাকে ছাড়া বড় হওয়া, স্পেনকে আটকে চোখে জল! কে এই কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনহা?
-
নবান্নে শুভেন্দু-প্রসূন সাক্ষাৎ, বাংলায় বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা?
-
বিশ্বকাপে অঘটনের শুরু! কেপ ভার্দের ‘বুড়ো’ গোলকিপারের হাতে আটকে গেল স্পেন, ব্যর্থ বদলি ইয়ামালও




