কঙ্গোর বিরুদ্ধে পর্তুগালের মতো হতাশ করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোও (Ronaldo)। এককথায় প্রত্যাশামতো খেলতে পারেননি পর্তুগিজ মহাতারকা। মেসির হ্যাটট্রিক, এমবাপের জোড়া গোল থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে অনেকেই তাঁর দিকে তাকিয়ে ছিলেন। কিন্তু গোটা ম্যাচে ম্রিয়মাণ ছিলেন। প্রথমার্ধে সবথেকে কম টাচ করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। গোল করতে গেলে অ্যাটাকিং থার্ডে যে খেলাটা তৈরি করা দরকার, সেটাও করতে পারেননি। রোনাল্ডোর এমন ‘পরিণতি’ দেখে অগ্নিশর্মা থিয়েরি অঁরি থেকে টনি ক্যাসকারিনোরা।
এই বিষয়ে আরও খবর
এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “বাড়িতে বসে যাঁরা খেলা দেখেছেন, তারা একটা বিষয় বোঝার চেষ্টা করুন, রোনাল্ডোর নিজের নয়, গোল দরকার দলের ও নিজে গোল করতে চায় বলেই ব্যাক পাসের লাইনে বারবার চলে যায়। এর ফলে রক্ষণের খেলোয়াড়দের কাজ অনেকটা সহজ হয়ে যায়। দলকে গোল করতে হবে, আপনাকে নয়।” প্রত্যাশামতোই রোনাল্ডোকে সামনে রেখে দল সাজিয়েছিল পর্তুগাল। কিন্তু কঙ্গো পরিকল্পনা করেই নামে। আফ্রিকার দেশটির ডিফেন্স সিআর ৭-কে কার্যত বোতলবন্দি করে রাখে। সেই চক্রব্যূহ থেকে কার্যত বেরতেই পারেননি।

গোটা ম্যাচে মাত্র তিনটি গোলমুখী শট নিয়েছেন রোনাল্ডো। কোনওটাই টার্গেটে থাকেনি। তবে প্রাক্তন ফরাসি তারকার মন্তব্য দ্বিতীয়ার্ধের এক আক্রমণকে নিয়ে। জোয়াও ক্যানসেলো এবং ব্রুনো ফ্রার্নান্দেজ দুর্দান্ত এক আক্রমণ শানিয়েছিলেন। অঁরি বলছেন, রোনাল্ডো যদি সিক্স-ইয়ার্ড বক্সের ভিতর দিকে ছুটতেন, তাহলে কঙ্গোর ডিফেন্ডারকে নিজের দিকে অনায়সে টেনে নিতেন। সেটা করলে ব্রুনোর জন্য অনেকটাই ফাঁকা জায়গা তৈরি হত। সেই সুযোগ কাজে লাগে গোল করতেন।
প্রাক্তন আয়ারল্যান্ড তারকা ক্যাসকারিনো তোপ দেগেছেন পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্টিনেজের নীতি নিয়ে। তাঁর মন্তব্য, “পুরোপুরি অফ ফর্মে ছিল রোনাল্ডো। মনে হচ্ছে, ওর বয়স থাবা বসিয়েছে। আগের মতো শক্তি বা গতি নেই। দলকে কোনও সাহায্যই করতে পারেনি।” এরপর কোচকে নিয়ে বিস্ফোরণ ঘটান প্রাক্তন আইরিশ ফুটবলার। বলেন, “আপনি কি দলের প্রধান কোচ নাকি রোনাল্ডোর বাল্যবন্ধু হয়ে থাকতে চান? যত বড় নাম হোক না কেন, দলকে জেতাতে মাঠ থেকে তুলে নিতেই হবে। মার্টিনেজ হয়তো রোনাল্ডোর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো রাখতে ব্যস্ত।”

তবে যতই সমালোচনা হোক না কেন, রোনাল্ডোকে ৯০ মিনিট খেলানো নিয়ে সাফাই দিয়েছেন পর্তুগাল কোচ। তিনি বলেন, “যে ম্যাচে গোলের প্রয়োজন, সেখানে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে তুলে নেওয়ার কোনও অর্থ হয় না।” সমালোচনাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন রোনাল্ডোও। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “কী কম ছিল? মনে রাখতে হবে এটাই ফুটবল। পর্তুগাল জিততে পারত। আবার হারতেও পারত। ম্যাচের মোড় যে কোনও দিকে ঘুরে যেতে পারত।” উল্লেখ্য, হাজার গোলের মাইলফলক স্পর্শ করতে আরও ৩১ গোলের প্রয়োজন ৪১ বছরের তারকার। কিন্তু বাস্তব হল, টানা ১০ ম্যাচে গোল-খরা চলছে ক্রিশ্চিয়ানোর। এই ব্যাডপ্যাচ থেকে তাড়াতাড়ি ফিরে আসতে হবে তাঁকে।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থার যুগ্মসচিব পদে নির্বাচন ২০ জুলাই, একরাশ প্রশ্নের মুখে নির্বাচনী অফিসার
-
দেগঙ্গায় জাল লটারি চক্রের পর্দাফাঁস! পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৪
-
বিদ্রোহে জেরবার, শিব সেনা প্রধানের দায়িত্ব ছাড়ার প্রস্তাব উদ্ধবের
-
ফ্রান্স থেকে শেষবার উড়ল মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাহন ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’! এবার নয়া বিমান পাচ্ছেন ট্রাম্প
-
ভোট পরবর্তী হিংসায় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা, তারপরই পদত্যাগ অনুব্রত ‘ঘনিষ্ঠ’ বোলপুরের পুরপ্রধানের




