রাজর্ষি গঙ্গোপাধ্যায়: গণঅভ্যুত্থানের জেরে বাংলাদেশে (Bangladesh) শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর চব্বিশ ঘণ্টা অতিক্রান্ত। কিন্তু অশান্ত বাংলাদেশ এখনও শান্ত তো হয়ইনি, উল্টে নানাবিধ নৃশংসতার (Violence) ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে। যে নারকীয় নৃশংসতা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না পদ্মাপারের খেলাধুলোও!
প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক মাশরাফি মোর্তাজার বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। পদ্মাপারের ক্রিকেট বোর্ড প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন ‘ফেরার’! কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁর বাড়িও! ভাঙচুর চালানো হচ্ছে বাংলাদেশের প্রখ্যাত সমস্ত ফুটবল ক্লাবে। যেমন, ঢাকা আবাহনী ক্লাব। যেমন, শেখ জামাল ধানমণ্ডি।
[আরও পড়ুন: ডুরান্ডে ইস্টবেঙ্গলের সামনে ডাউনটাউন, চোট সমস্যা নিয়েও জয়ে চোখ কুয়াদ্রাতের]
পদ্মাপারে খবর নিয়ে জানা গেল, এখনও পর্যন্ত ‘অক্ষত’ রয়েছে মীরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম। সেখানে ‘জনসমাগম’ হলেও ভাঙচুর হয়নি আপাতত। কিন্তু সে সৌভাগ্য হয়নি ঢাকা আবাহনী কিংবা শেখ জামাল ধানমণ্ডির। শোনা গেল, গত রাত থেকে এই দুই ক্লাবে লাগাতার ভাঙচুর চলেছে। কোথাও কোথাও জিনিসপত্রে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবাহনী ক্লাবের ট্রফি ক্যাবিনেট লুঠ হয়ে গিয়েছে বলে খবর! ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কতটা, জানার জন্য ঢাকা আবাহনীর জনা কয়েক উচ্চপদস্থ কর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে লাভ হয়নি। কেউ ফোন ধরেননি। পরে শোনা গেল, প্রাণভয়ে দুই ক্লাবের রাঘববোয়ালরা ‘আত্মগোপন’ করেছেন! ঢাকা আবাহনী ও শেখ জামাল ধানমণ্ডির উপর জনরোষের কারণ–এই দুই ক্লাব নাকি শেখ হাসিনা সরকারের থেকে দেদার অনুদান পেত!
অবস্থা রীতিমতো সঙ্গীন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপনেরও। যিনি হাসিনা সরকারের সাংসদই ছিলেন না, মন্ত্রীও ছিলেন। জানা গেল, পাপন এ মুহূর্তে সম্পূর্ণ ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’। যেনতেন প্রকারেণ তিনি নাকি দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন। কারণ, তাঁর কিশোরগঞ্জের বাড়ি ইতিমধে্যই জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেও সমান অরাজকতা। বাংলাদেশ থেকে যে মহিলা ক্রিকেট বিশ্বকাপ সরছে, তা একপ্রকার নিশ্চিত। হয় শ্রীলঙ্কা, নইলে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে হবে টুর্নামেন্ট। বাংলাদেশ ‘এ’ টিমের সফর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ মাসের শেষে পাকিস্তান সফরেও সিনিয়র টিম যাবে কি না, কেউ জানে না। কারণ, পাপন নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ বোর্ড প্রশাসনই আর নেই! আপাতত ‘অ্যাড হক’ কমিটি বসিয়ে বোর্ড চালানোর একটা পরিকল্পনা রয়েছে। যত দিন না নির্বাচন হচ্ছে। কিন্তু সব মিটতে-মিটতে কত মাস লাগবে, তার সুনিশ্চিত ‘ব্লু প্রিন্ট’ কেউ দিতে পারছেন না।
কী বোঝা গেল? টানা রাজনৈতিক অস্থিরতায় সোনার বাংলা শুধু পুড়ছে না, পুড়ছে তার খেলাধুলোও!
[আরও পড়ুন: জার্মানির কাছে হেরে অলিম্পিকে সোনার স্বপ্ন শেষ, এবার ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে ভারতীয় হকি দল]
সর্বশেষ খবর
-
‘আপনি কি রোবট’, চেনা প্রশ্ন আর করবে না গুগল! এবার এই পন্থায় মানুষ চিনবে টেক জায়ান্ট
-
ইরানের উপর চাপানো তৈল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ট্রাম্পের! এবার ভারতে সস্তা হবে তেল?
-
একাধিক ভোটার কার্ড! জামিন অযোগ্য পরোয়ানায় গ্রেপ্তার হতে পারেন প্রকাশ রাজ
-
ভরদুপুরে মুহুর্মুহু বাজ, মুষলধারায় বৃষ্টি কলকাতায়, একাধিক রাস্তায় গাছ ভেঙে বিপত্তি
-
চিকুনগুনিয়ার অব্যর্থ ওষুধ গোমূত্র! চাঞ্চল্যকর দাবি আইআইটি রুরকির গবেষকদের, তুঙ্গে বিতর্ক